সুশীলসমাজ সরকারের চামচাগিরি এবং মীরজাফরী করছে : সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

Pub: বুধবার, জুলাই ১৭, ২০১৯ ৭:২৩ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, জুলাই ১৭, ২০১৯ ৭:২৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোবায়েদুর রহমান :
গত রবিবার সকাল পৌনে ৮টায় সন্মিলিত সামরিক হাসপাতালে সাবেক প্রেসিডেন্ট, সাবেক প্রধান সেনাপতি ও সাবেক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে.. রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। একজন মুসলমান মৃত্যুর পর সমস্ত সমালোচনার ঊর্ধ্বে চলে যান। দোষগুন মিলেই একজন মানুষ বেঁচে থাকেন। তবে মৃত্যুর পর তার দোষ গুলো নিয়ে আর আলোচনা করা হয় না। সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করেছেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ তার শোক বার্তায় জাতীয় সংসদে এরশাদের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। ১৯৯০ সালে ছাত্র জনতার এক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাঁর ৯ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। কিন্তু পরের বছর দেশের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ নির্বাচনে ক্ষমতার রাজনীতির স্বার্থে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হন। হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ একজন সেনা শাসক হওয়া সত্বেও রাজনীতিতে আসার পর ৫ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৮২ সালের ২৪ এপ্রিল এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতা দখল করেন। ঐ অভ্যুত্থানের পর তিনি নিজে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বা সিএমএলএ পদ গ্রহণ করেন এবং বিচারপতি আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে প্রেসিডেন্ট বানান। ঐ বছরেরই ডিসেম্বর মাসে তিনি প্রেসিডেন্টের পদ গ্রহণ করেন। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্র জনতার এক গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। ১৯৩০ সালের ফেব্রæয়ারি মাসে ভারতের কোচ বিহারের দ্বীনহাটা গ্রামে তার জন্ম হয়। তারা ছিলেন ৯ ভাই বোন। ভারত বিভক্তির প্রায় দেড় বছর পর তার পিতা মাতার সাথে তিনি পাকিস্তানে মাইগ্রেট করেন। মরহুম প্রেসিডেন্ট এরশাদ ১৯৮৮ সালে বিরোধী পক্ষের প্রবল বিরোধীতা সত্বেও পবিত্র ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম হিসাবে বাংলাদেশের সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করেন। আজ বাংলাদেশের যে উপজেলা পদ্ধতি রয়েছে সেটিরও পত্তন করেন এরশাদ। ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসাবে সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করার পর শুক্রবারকে তিনি সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি হিসাবে ঘোষণা করেন। প্রত্যেকের মন চায় মৃত্যুর পর আল্লাহ যেন তার গুনাহ খাতা মাফ করে দেন। দেশবাসির সাথে আমরাও মরহুম হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
দুই
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিবেকবান মানুষরা খুব চিন্তিত। গত সপ্তাহে আমি আমার এক ঘনিষ্ঠ জনের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। তিনি একজন নন পলিটিক্যাল ব্যক্তিত্ব। বয়স ৮২ বছর। এই বয়সেও নিজের ব্যবসা বানিজ্য দেখাশুনা করেন। তিনি আওয়ামী লীগ অথবা শেখ হাসিনার সমর্থক নন। তার বাসায় গিয়েছিলাম নেহায়েৎ বেড়াতে। কিন্তু কথায় কথায় অপরিহার্য ভাবে রাজনীতি উঠে আসে। তিনি বলেন, যেভাবে দেশের ঘটনা প্রবাহ এগিয়ে চলেছে তার ফলে বাংলাদেশ চূড়ান্ত পরিণামে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা তিনি ভেবে পাচ্ছেন না। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭০ বছর পার করলেও এখনও তিনি সুস্থ। তার কোনো রোগ বালাই নাই। এই বয়সেও তার ব্রেন সম্পূর্ণ কার্যকর। সেই ভদ্রলোক বলেন, প্রকৃতিগত কারণে শারীরিকভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়ে না ফেলা পর্যন্ত অথবা মানুষের জীবনের স্বাভাবিক অবসান ব্যতীত বাংলাদেশে এই মুহুর্তে তিনি শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ শাসনের অবসানের কোনোই সম্ভাবনা দেখছেন না।
৩/৪ দিন আগে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানেও বেশ কিছু মানুষের সাথে সাক্ষাৎ হলো। আমি বহুদিন হলো সাংবাদিকতা করি। তাই তারা আমার নিকট থেকে জানতে চাইলেন যে এভাবে দেশ কতদিন চলবে? শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা? বিরোধী দলের শাসন ক্ষমতায় প্রর্ত্যাবর্তনের কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা? আমি তাদেরকে বলেছি যে, আমি একজন সাংবাদিক। আমি অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে পারি। কিন্তু আমি তো কোনো গনক নই। তাই শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন সম্পর্কে আমি কোনো কিছুই জানি না। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা যায়।
বর্তমানে যে শাসন ব্যবস্থা চলছে সেটি যে স্বাধীনতার পরবর্তী সরকারের ধারাবাহিকতা এমন কথা বলা যাবে না। কারণ এই মুহুর্তের শাসন ব্যবস্থার শুরু গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর থেকে, সেটা বলা যায়। বাংলাদেশ বিগত ৪৮ বছরে নানান রকমের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চলছে। প্রথম পর্ব হলো স্বাধীনতার অব্যবহিত পর থেকে ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। তখন পর্যন্ত দেশে বহুদলীয় সংসদীয় ব্যবস্থা চালু ছিল। কিন্তু পরদিন অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার এবং সংবিধানের খোল নলিচা আমুল পাল্টে যায়। বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা হয় একদলীয় শাসন ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে সরকার প্রধান এবং রাষ্ট্র প্রধান হন প্রেসিডেন্ট। উচ্চ আদালত সহ সমগ্র বিচার ব্যবস্থা এক ব্যক্তি অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্বের অধীনে নিয়ে আসা হয়। মাত্র ৪টি সংবাদ পত্র রেখে অবশিষ্ট সমস্ত সংবাদপত্র বিলোপ করা হয়। সবগুলি রাজনৈতিক দল বিলোপ করে একটি মাত্র দল রাখা হয়। এই দলটির নাম বাকশাল। সামরিক ও বেসামরিক উভয় প্রশাসনকেই বাকশালে জয়েন করতে বাধ্য করা হয়। এই শাসন ব্যবস্থা বর্তমানে চলমান উত্তর কোরিয়ার শাসন ব্যবস্থার সাথে মোটামুটি মিল খায়। স্বৈরতন্ত্র বা একনায়কতন্ত্রের বিভিন্ন নাম এবং প্রকারভেদ আছে। এটিও এক ধরণের ডিক্টেটরশীপ বা স্বৈরতন্ত্র।
তিন
বাংলাদেশের প্রথম সরকারের পতন ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট। অত্যন্ত স্বল্প স্থায়ী অর্থাৎ মাত্র সাড়ে ৩ মাসের ক্ষণস্থায়ী এই সরকার একটি পাল্টা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাত হয়। ৩রা নভেম্বর যে নতুন সরকার আসে সেটি ছিল একটি সামরিক সরকার। মাত্র ৪ দিন এই সরকার স্থায়ী হয়। ৪দিন পর অর্থাৎ ৭ই নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আর একটি সরকার আসে। সিপাহী এবং জনগণের সন্মিলিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এটিও ছিল একটি সামরিক সরকার। প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন।
১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি ৪র্থ সংশোধনী বাতিল করেন। অর্থাৎ ইতোপূর্বে জারিকৃত এক ব্যক্তি ও একদলীয় সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। যে সমস্ত দক্ষিনপন্থী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল সেই গুলিকে প্রেসিডেন্ট জিয়া রাজনীতি করার অনুমতি দেন। তার আমলেই একদিকে যেমন ইসলামী রাজনৈতিক দল গুলি রাজনীতির ময়দানে আসে অন্যদিকে তেমনি নাস্তিক্যবাদী কমিউনিস্ট দল গুলিও রাজনীতির ময়দানে আসে। বলা যায় যে বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট জিয়া এবং প্রেসিডেন্ট সাত্তারের আমলে প্রেসিডেনশিয়াল বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু ছিল।
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাবাহিনী প্রধান লেঃ জেঃ হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ নির্বাচিত সাত্তার সরকারের নিকট থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেন এবং সামরিক শাসন জারি করেন। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। এভাবে এরশাদের ৯ বছরের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে।
১৯৯১ সালের ফেব্রæয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট ও প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের অধীনে দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করে এবং বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধান মন্ত্রী নির্বাচিত হন। প্রধান মন্ত্রী হওয়ার পর তিনি প্রেসিডেনশিয়াল শাসনের অবসান ঘটান এবং বহুদলীয় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করেন। সেই থেকে ২০১৪ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ বছর বাংলাদেশে অবাধ নিরপেক্ষ ও বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রই চালু ছিল। এই ১৩টি বছরকেই গণতন্ত্রের রোল মডেল বলা যায়।
কিন্তু গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ধারা ব্যাক গিয়ারে চলে যায় পঞ্চদশ সংশোধনী চালুর পর থেকেই। ২০১১ সালের ৩০ জুন এই সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীতে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতিও দেওয়া হয়। এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত¡াবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়। বিএনপি সহ ২০ দলীয় জোট এই সংশোধনী প্রত্যাখ্যান করে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি পঞ্চদশ সংশোধনীর অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি সহ বিরোধী দল সমূহ সেই নির্বাচন বয়কট করে। এই তথা কথিত নির্বাচনে ১৫৩ ব্যক্তি বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি এবং তার মিত্ররা রাস্তায় নামলে জুলুমের স্টিম রোলার চালিয়ে অর্থাৎ লাঠি চার্জ, টিয়ার গ্যাস, গুলি, গ্রেফতার ও হুলিয়ার মাধ্যমে আন্দোলনকে স্তব্ধ করা হয়। অতঃপর জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পুলিশ, আনসার, বিডিআর অর্থাৎ প্রশাসনের মাধ্যমে সরকার দেশ চালায়।
চার
২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। ৭২ এর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান পাস করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা অনড় অবস্থান গ্রহণ করলে আওয়ামী লীগ সংসদের ভেতরে এবং বাইরে এই সংশোধনী বাতিল অথবা সংশোধন করার জন্য প্রধান বিচারপতির ওপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে। আওয়ামী লীগ দেশে এমন একটি অবস্থার সৃষ্টি করে যার ফলে প্রধান বিচারপতি সিনহা পদত্যাগ করতে এবং সপরিবারে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
২০১৮ সালে পঞ্চদশ ও ষোড়শ সংশোধনীর অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সরকারের কারচুপি ও ভোট ডাকাতি জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য বিরোধী দল এবার এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে। এবার সরকার ভিন্ন স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করে। তারা নির্বাচন নির্ধারিত ৩০ ডিসেম্বরের একদিন আগে ২৯ ডিসেম্বর রাতে পুলিশ এবং প্রশসানের সাহায্যে আওয়ামী লীগের ব্যালট বাক্সে সিল মারে। এই মহা ভোট ডাকাতির ফলে বিএনপিকে তারা দেয় মাত্র ৬টি আসন এবং গণফোরামকে ২টি আসন। এভাবে স্বৈরাচার বলুন বা ডিক্টেটরশীপ বলুন, সেটি ষোলকলায় পূর্ণ হয়।
পাঁচ
বাংলাদেশে কি গণতন্ত্র আছে? বাংলাদেশে কি সুশীল সমাজ আছে? রাষ্ট্র বিজ্ঞানীরা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র নাই, আছে স্বৈরতন্ত্র, কর্তৃত্ববাদ, সমূহবাদ (টোটালিটারিয়ানিজম), ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদ। এমিরেটাস প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ভাষায়, দেশে কোনো সুশীল সমাজ নাই। যারা সুশীল সমাজ বলে কাগজে লেখে এবং টেলিভিশনে কথা বলে তারা সব সরকারের চামচাগিরি করে এবং মীরজাফরি করে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেছেন, ধর্ষণকে কেন্দ্র করে হত্যা, আত্মহত্যা এটাই সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে। মা, বোন, স্ত্রী, কন্যার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। সামাজিক, জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ঘটনা প্রবাহের দিকে দৃষ্টি দিলে বলতে হয়, বাংলাদেশে সভ্যতার সংকট চলছে। পরিবার, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, শিক্ষাব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসনিক ব্যবস্থা সবই ভেতর থেকে পচে যাচ্ছে। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অপব্যবহার চলছে। নৈতিক চেতনা, মূল্যবোধ দুর্গত। কেবল বিচারের কঠোরতা দিয়ে, অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা হচ্ছে।
ধর্ষণ ও আনুষঙ্গিক ঘটনাবলি দেখে মনে হয়, বাংলাদেশের জনগণ সাংস্কৃতিক ক্ষয় থেকে নৃতাত্তি¡ক ক্ষয়ের প্রক্রিয়ায় পড়ে গেছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক ব্যাপার হলো, বাংলাদেশের লেখক-গবেষকদের মধ্যে, শিল্পী-সাহিত্যিকদের মধ্যে এ নিয়ে গভীর কোনো চিন্তা নেই, অনুসন্ধান নেই। রাজনীতিবিদদের মধ্যেও এ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই।
বাংলাদেশের বাঙালি জাতিকে একটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী জাতিতে পরিণত করা হচ্ছে। এখনকার সরকার বিরোধীদলীয় রাজনীতিকে, ভিন্নমতকে মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে, জেল দিয়ে মোকাবিলা করছে। সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য যে কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করেছে, তা অনৈতিক, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবৈধ। প্রতিরোধ নেই। ফেসবুক, টিভি চ্যানেল, পত্রপত্রিকা দৃশ্যমান ও অদৃশ্য কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও চিন্তার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সরকারের দমননীতি সেনা শাসকদের সময়ের চেয়েও অনেক কঠোর।
[email protected]


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ