fbpx
 

আপোষ না মানা খালেদা জিয়ার ৫৩৩ দিনের কারাজীবন

Pub: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০১৯ ১:১৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

২৫ জুলাই ২০১৯, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের নির্বাচিত সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অন্যায় কারাবন্দিত্বের ৫৩৩ তম দিন ।

বিগত সাংবিধানিকভাবে অবৈধ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান টার্গেট ছিল বিএনপি ও জিয়া পরিবার। বিএনপি ও জিয়া পরিবারের অভিভাবক হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে কাটাতে হয়েছে ৫৩৩ দিন। সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ কিংবা আদালতের দণ্ড ছাড়াই দীর্ঘ এ কারাজীবনে তিনি রোগভোগ ও মানসিকভাবে চরম কষ্টে থাকলেও তার আপসহীনতায় পিছু হটেছিল অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হয়েছিলেন।

২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে তাঁকে ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের বাসভবন থেকে গ্রেফতারের পর সোজা নিয়ে যাওয়া হয় সিএমএম আদালতে। সেখানে তাঁর জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ কারাগার হিসেবে ঘোষিত স্পিকারের বাসভবনে নেয়া হয়।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে গ্যাটকো মামলা দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ গ্রেফতারের পর থেকে শুরু হয় বেগম জিয়ার কারাজীবন। তারপর কারাগারে থাকা অবস্থায়ই তাঁর বিরুদ্ধে একে একে আরো ৩টি মামলা দায়ের করা হয়।

কারাগারে থেকেই তিনি গ্যাটকো মামলাকে জরুরী বিধিতে অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রীট মামলা দায়ের করেন। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজকে নির্বাচন কমিশনের দেয়া চিঠিরও বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেন। ২০০৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর গ্যাটকো মামলা স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে জামিন দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি জরুরী বিধিমালায় অন্তর্ভূক্তি কেন অবৈধ হবে না, কারন দর্শাতে সরকারের প্রতি রুল জারি করে হাইকোর্ট।

ওই বছরের ১ অক্টোবর হাইকোর্টের দেয়া খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের জন্য আপীল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আপীল করে সরকারপক্ষ। ২ অক্টোবর আপীলের শুনানীতে খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রেখে পরদিন ফুলকোর্টে শুনানীর দিন ধার্য করা হয়। ৩ অক্টোবর তত্কালিন প্রধান বিচারপতি মো. রুহুল আমীনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের ফুলবেঞ্চ হাইকোর্ট বিভাগের মঞ্জুর করা জামিন স্থগিত করে দেন।

২৯ অক্টোবর বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের বাসায় তথাকথিত সংস্কারপন্থীদের বৈঠকে মেজর (অব.) হাফিজকে মহাসচিব করে গঠন করা কমিটি অবৈধ বলে অভিমত দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া আইনজীবীদের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানান। ৪ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ারকে নির্বাচন কমিশনের আলোচনায় না ডাকায় হাইকোর্টে রীট করেন বিএনপির এই আপসহীন চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ৫ নভেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে দেয়া চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেও হাইকোর্টে আরেকটি রীট করেন তিনি।

১৩ নভেম্বর খোন্দকার দেলোয়ারের পরিবর্তে মেজর (অব.) হাফিজকে সংলাপের চিঠি দেয়ায় নির্বাচন কমিশনকে লিগ্যাল নোটিশ দেন। ২৫ নভেম্বর খালেদা জিয়ার সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদকের দেয়া চিঠি স্থগিত করে হাইকোর্ট চিঠিটি কেন অবৈধ হবে না কারন দর্শাতে বলে সরকারকে।

২০০৭ সালের ডিসেম্বর ও ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে খালেদা জিয়াকে বিদেশ চলে যাওয়ার জন্য প্রচন্ড চাপ দেয়া হয়। চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে দেশেই জনগণের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আপসহীন এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

১৮ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার প্রাণপ্রিয় মা বেগম তৈয়বা মজুমদার দিনাজপুরে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। তার লাশ হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। গ্রেফতারের ১৩৮ দিন পর ২০০৮ সালের ১৯ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মইনুল রোডের বাসায় গিয়ে মায়ের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশনকে পুনরায় চিঠি দিয়ে জানান খোন্দকার দেলোয়ারই বিএনপির বৈধ মহাসচিব। ২০ ফেব্রুয়ারি নাইকো মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর করে বিশেষ জজ আদালত।

৯ মার্চ নিবন্ধনের শেষ দিনেও ভোটার হননি আপসহীন এই নেত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, কারারুদ্ধ অবস্থায় তিনি ভোটার হবেন না।

৫ মে গ্রেফতারের ৮ মাস পর নাইকো মামলার চার্জশীট দেয়া হয়।

গ্রেফতারের প্রায় ৯ মাস পর ২০০৮ সালের ১ জুন প্রথম বারের মতো বিশেষ আদালতে হাজির করা হয় বেগম জিয়াকে। তিনি আদালতে তার বক্তব্যে জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করে অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন দাবি করেন।

৮ জুন নাইকো মামলায় চার্জগঠনের দিন আদালতে হাজির করা হয় বেগম জিয়াকে। এদিন বিদেশে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, চিকিৎসার অজুহাতে বিদেশ যাবো না। দেশেই ভালো ডাক্তার ও হাসপাতাল রয়েছে।

১২ জুন বিশেষ আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানী শেষে সাংবাদিকদের কাছে বেগম খালেদা জিয়া সংলাপে যাওয়ার জন্য পরিবেশ সৃষ্টির আহবান জানিয়ে বলেন, ‘পরিবেশ তৈরি হলে সংলাপে যাওয়ার বিষয়টি ভেবে দেখবে বিএনপি। জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে সব দলের অংশগ্রহণের পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে অবিলম্বে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে।’

এদিন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আবেদন করলে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি ভেবে দেখবে সরকার।’ এ প্রস্তাবের পর খালেদা জিয়ার পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কোন প্রকার আবেদন করা হবে না বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দেয়া হয়।

সরকারের কোনো চাপে নতি স্বীকার না করায় ৩ জুলাই খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে নতুন আরো একটি মামলা করে দুদক। ৭ জুলাই নাইকো মামলায় আদালতে হাজির করা হলে সংসদ নির্বাচনের এক মাস পর স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তাব দেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়া।

৯ জুলাই নাইকো মামলা ২ মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। মামলাটি কেন অবৈধ হবে না কারন দর্শাতে নোটিশও জারি করেন।

১৫ জুলাই গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা হাইকোর্ট ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেন। ১৭ জুলাই নির্বাহী আদেশে প্যারোলে মুক্তি পান খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো।

বেগম খালেদা জিয়াকেও নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি দায়েরকৃত সব মামলাকে উদ্দেশ্যমূলক ও মিথ্যা দাবি করে আইনি লড়াইয়ের জন্য আইনজীবীদের নির্দেশ দেন। আইনজীবীরা তাঁর প্রত্যেকটি মামলায় জামিনের আবেদন জানালে নিম্ন আদালত জামিন না মঞ্জুর করেন। পরবর্তিতে হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন। ৪টি মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন। ১১ সেপ্টেম্বর কারামুক্ত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবার আগে জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে সরকার ইতিবাচক হলে তাঁর দল নির্বাচন এবং সংলাপে অংশ নেবে।’ দেশনেত্রীর আপসহীন দাবির প্রেক্ষিতেই নির্বাচনের পূর্বে জরুরি অবস্থা তুলে নিতে সরকার বাধ্য হয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ