গণতন্ত্রের “মা” আপোষহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন

Pub: শুক্রবার, আগস্ট ২, ২০১৯ ১০:৩২ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, আগস্ট ২, ২০১৯ ১০:৩২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

১৫ আগস্ট, ১৯৪৫ সাল। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচে গুরত্বপূর্ণ একটি দিন।। পৃথিবীর আকাশে তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতম কালো মেঘ কেটে শান্তির নতুন সূর্য উঠেছে। সেই সময়প্রবাহে ভারতবর্ষের আকাশেও একটি শান্তির পায়রার আগমন ঘটে। শরতের স্নিগ্ধ ভোরে জলপাইগুড়ি জেলা শহরের মুজমদার পরিবারে জন্মগ্রহন করেন খালেদা খানম পুতুল।

সেদিনের খালেদা খানম পুতুল আজকের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের প্রথম ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের উপর শান্তির পতাকা হাতে আবির্ভূত হওয়া শিশুটি যে বড় হয়ে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মুক্তির প্রতীক হয়ে উঠবেন সেটা বোঝা গিয়েছিল শৈশবেই। সে কারণে বাবার বন্ধু ডাক্তার অবনী গুহ নিয়োগি শান্তির আবাহনের প্রতীক হিসেবে খালেদা জিয়ার আরেক নাম দিয়েছিলেন ‘শান্তি’।

বাবা জনাব এস্কান্দার মজুমদার ও মা বেগম তৈয়বা মুজমদার।

খালেদা জিয়ার বয়স যখন দুই বছর তখন ৪৭-এর দেশবিভাগের তোড়জোড় চলছে। জলপাইগুড়িতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মুসলমানরাই তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিলো। ফলে খালেদা জিয়ার বাবা এস্কান্দার মজুমদার সপরিবারে জলপাইগুড়ি থেকে দিনাজপুরে চলে আসেন। মুসলমানদের পৃথক আবাসস্থল ও নবীন রাষ্ট্র হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের পরিবেশ ছিল তখন চমৎকার। দিনাজপুরে কাটে তাঁর স্মৃতিময় শৈশব ও সোনালি কৈশোর। মাত্র ৪ বছর বয়সে রোযা রাখেন খালেদা জিয়া। মায়ের সাথে নামায পড়েন তখন থেকেই।

পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুরের মিশন স্কুল থেকে খালেদা জিয়ার শিক্ষাজীবন শুরু হয়।

তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে খালেদা জিয়া ছিলেন তৃতীয়।

দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশনে উত্তীর্ণ হন খালেদা খানম পুতুল। পরে তিনি দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে লেখাপড়া করেন । কলেজে পড়ার সময় তখনকার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সাথে ১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে মুদিপাড়ার বাসায় বিয়ে হয়।

তাদের বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো।

১৯৬৫ সালে স্বামীর সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানে যান। ১৯৬৯ সালের মার্চ পর্যন্ত করাচিতে ছিলেন। এর পর ঢাকায় আসেন। কিছু দিন জয়দেবপুর থাকার পর জিয়াউর রহমানের পোস্টিং হলে চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় চলে যান।

গম্ভীর, পরিপাটি ও উজ্জ্বল বুদ্ধিদীপ্তে ভরপুর খালেদা জিয়া শুধু পূর্ণিমার চাঁদই ছিলেন না তিনি ছিলেন দৃঢ় মনোবল সম্পন্না একজন সংসারী নারী। জিয়াউর রহমানের চ্যালেঞ্জিং জীবনে সবসময় সাহসী জীবনসঙ্গী হিসেবে পাসে ছিলেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ শেখ মুজিব স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষণা না দিয়ে পাকিস্তানিদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। দিকনির্দেশনা সাড়ে ৭ কোটি দিশেহারা জাতিকে রক্ষার দায়িত্ব নেন একজন মেজর জিয়াউর রহমান।

বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং রনাঙ্গনে যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন।

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে খালেদা জিয়া কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৬ মে নৌপথে ঢাকায় চলে আসেন। বড় বোন খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত থাকেন। ২ জুলাই সিদ্ধেশরীতে জনাব এস আব্দুল্লাহর বাসা থেকে পাক সেনারা তাকে দুই ছেলে সহ বন্দী করে। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দী ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তিনি মুক্তি পান। রাজনীতিতে আসার আগপর্যন্ত বেগম জিয়া একজন সাধারণ গৃহবঁধু ছিলেন।দুই পুত্রের লালন পালন ও ঘরের কাজ করেই সময় কাটাতেন।
জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিত থাকতেন।

নারী মুক্তিযোদ্ধা ও দেশরক্ষার অগ্র-সেনানী হিসেবে খালেদা জিয়া ইতিহাসে অমলিন হয়ে থাকবেন চিরকাল।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিব সপরিবারে হত্যা করে আওয়ামীলীগ নেতা খন্দকার মোস্তাক
ক্ষমতায় আসে।

১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ক্যান্টনমেন্টে গৃহবন্দী থাকা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়।

১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।

“একজন মাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞেস করা হলো আপনার সামনে নিজেকে নিরাপদে রাখা বড় নাকি দেশ। তিনি উত্তরে বললেন দেশ। তারপর আবার তাকে জিজ্ঞেস করা হলো আপনার সামনে আপনার সন্তান বড় নাকি দেশ। তিনি এবারও বললেন দেশ। এরপর তার সন্তানদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে মৃত্যর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো আপনার কাছে আপনার সন্তান বড় নাকি দেশ। তিনি নিঃসঙ্কোচ চিত্তে এবারও উত্তর দিলেন দেশ। এই মা-ই হলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার অতন্দ্র প্রহরী, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অগ্রদূত, দেশনেত্রী গণতন্ত্রের “মা” বেগম খালেদা জিয়া।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে শহীদ জিয়াউর রহমান যেমন সামরিক বাহিনী থেকে এসেও বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন, ঠিক তেমনি বেগম খালেদা জিয়া এরশাদ অপহৃত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন। বিগত ৩৬ বছর ধরে তিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নিরলস নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তাই তিনি হয়ে দাঁড়িয়েছেন গণতন্ত্রের প্রতীক। বেগম খালেদা জিয়ার বিগত প্রায় চার দশকের রাজনীতিতে তিনি প্রতিবেশী বা কোনো পরাশক্তির সঙ্গে আপস করেননি। তাই বাংলাদেশের আপামর জনগণ তাকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বলেই বিশ্বাস করে। আর এ দুটো কারণেই বেগম খালেদা জিয়াকে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বেশি ভয়। তাই যে করেই হোক বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে হবে। হোক সেটা আইন আদালতের মারপ্যাঁচে কিংবা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক দুরভিসন্ধির নানান ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতে।

হবর্তমান সরকারের রাজনৈতিক কর্মকান্ড দেখলে স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রেরণ সরকারের একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি। রাজনৈতিক দূরদর্শিতাসম্পন্ন বেগম খালেদা জিয়া মিডনাইট নির্বাচনে বিজয়ী জনবিচ্ছিন্ন এই অবৈধ সরকারের অশুভ উদ্দেশ্য পূর্ব থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। বিস্ময়ের ব্যাপার বেগম খালেদা জিয়া এই বয়সে হায়নারূপী এই দানবীয় শক্তির শত নির্যাতন-নিপীড়নে মাথা নত না করে অনড়, সুদৃঢ় এবং অটল রয়েছেন। তিনি নিজে হেঁটে হেঁটে নিজেকে জেলে সমর্পণ করেছেন। বিচার পূর্ববর্তী সন্ধ্যায় এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমি যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি। আমাকে জেল বা সাজার ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। আমি মাথানত করব না। জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি থেকে পিছু হটব না।দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেছিলেন আপনাদের খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে খায়নি।আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেনি।ন্যায়-বিচার হলে আমার কিছুই হবে না। আর যদি ক্ষমতাসীন মহলকে তুষ্ট করার জন্য রায় হয়, তা কলঙ্কের ইতিহাস হয়ে থাকবে। দেশবাসীকে ছেড়ে যাব না। আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি, আপনাদের সঙ্গেই থাকবো।’ বিগত ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া অনেকবার নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে। তাকে সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপন করা বিশেষ কারাগারে রাখা হয়। দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চালানো হয় ব্যাপক মানসিক নির্যাতন। কিন্তু তিনি দেশ ও দেশের জনগণকে ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নে বিন্দুমাত্র সহমত প্রকাশ করেননি। তিনি বলেছিলেন, ‘বিদেশে আমার কোনো স্থান নেই। আমি এ দেশেই জন্মেছি, এ দেশেই মরব।’ উলেস্নখ্য, ওই সময় অনুরূপ কারগারে ছিলেন শেখ হাসিনাও। পরে তিনি এক-এগারোর অবৈধ সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে কারাগার থেকে শর্তসাপেক্ষে মুক্ত হয়ে বিদেশ চলে যান।

পরবর্তীতে এক-এগারোর সরকার কোনো প্রলোভন দেখিয়েই ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আপস করতে না পেরে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের স্বার্থ সুরক্ষার দফারফা করে এক সূক্ষ্ণ কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাসীন করে। গণতন্ত্রের স্বার্থে তিনি সেই নির্বাচনকে মেনে নিয়ে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। কিন্তু সরকার সেই সুযোগকে কাজে না লাগিয়ে প্রতিহিংসা চরিতার্থকরণের রাজনীতি শুরু করে।

বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার হীন মানসিকতা নিয়ে আঁটতে থাকে নানান ষড়যন্ত্রের ফাঁদ। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়ও বেগম খালেদা জিয়া এভাবে এরশাদ ও শেখ হাসিনার যৌথ ষড়যন্ত্রের শিকারে হয়েছিলেন। বেশ কয়েকবার বেগম খালেদা জিয়া তখন আটক আদেশের সম্মুখীন হন। ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে এবং ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর তিনি আটক হন। ১৯৮৭ সালে হোটেল পূর্বাণীতে এক অনুষ্ঠান থেকে আটক করে আরও কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাকে মতিঝিল থানায় নেয়া হয়। সে সময় পুলিশ তাকে জেলে পাঠায়নি। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের কিছু সময় তাকে এক রকম গৃহবন্দি করা হয়।

আওয়ামী লীগ শাসনামলের বিগত এক দশকে তিনি সবচেয়ে বেশি নিগ্রহের সম্মুখীন হন। তাকে সেনানিবাসের বাসা থেকে অপমানজনকভাবে বিদায় করা হয়। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর গুলশানের বাসায় অবরম্নদ্ধ করে রাখা হয়। ওই সময় তার একটি জনসভায় বক্তৃতা দেয়ার কথা ছিল। ২০১৫ সালের ৫ তার গুলশান কার্যালয়ের দুই পাশে বালু বোঝাই ট্রাক রেখে তাকে কার্যত ৯৩ দিন গৃহবন্দি করে রাখা হয়। এভাবে তার বিরুদ্ধে অন্যায়-অত্যাচার লাগামহীনভাবে চলতেই থাকে। কিন্তু তিনি কখনো মাথা নত করেননি কোনো অশুভ শক্তির কাছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দেশ রক্ষার আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সর্বদাই আপসহীন থেকেছেন।

‘কারাগার হলো রাজনীতিকদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়’-

এই প্রবাদবাক্য দেশের কোন নেতার জীবনে কেমন প্রভাব ফেলেছে সে হিসেব অজানা হলেও ‘কারাগার’ যে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আলোকিত করেছে সেটা বোঝা যাচ্ছে। গত কয়েক বছর বিশ্বরাজনীতির খাতা থেকে অনেক দূরে থাকলেও কারাগারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খালেদা জিয়ার নাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। এখন মিডিয়াগুলোর গুরুত্বপুর্ণ খবর হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া।

কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন; কেউ পরিস্থিতি জানতে চান কেউবা ঘটনার ওপর রাখছেনতীক্ষ্ণ দৃষ্টি। গোটা বিশ্বের দৃষ্টি যেন ঢাকায় বন্দি বেগম খালেদা জিয়ার ওপর। জাতিসংঘ বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্য গভীরভাবে মামলা পর্যবেক্ষণ করছে। ভারত খালেদা জিয়ার কারাবরণ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ঢাকায় কর্মরত প্রভাবশালী দেশগুলোর কূটনীতিকরা নড়েচড়ে উঠেছেন। আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ঢাকায় কর্মরত নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ‘বন্দি খালেদা জিয়ার’ ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ করছেন।

সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ হলো নির্বাচনের বছর। দেশ-বিদেশ তথা সর্বমহল চায় সব দলের অংশগ্রহণে হোক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত ও প্রহসনের নির্বাচনের পর যারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং যারা শুধু দেশের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক রাখার স্বার্থে সম্পর্ক রেখেছেন তারাও চায় সব দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হোক। নির্বাচন কমিশন সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করে অগ্রসর হচ্ছে। শেখ হাসিনাও ঘোষণা দিয়েছেন চলতি বছরের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। সবার প্রত্যাশা সব দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে; এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন সে জন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে এ নির্বাচন। কিন্তু সে প্রত্যাশায় যেন গুড়ে বালি।

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। অথচ নির্বাচনের বছর তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সশ্রম কারাদ- হয়েছে। তবে দেশের তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, জ্যেষ্ঠ নাগরিক, বাংলাদেশের একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী হিসেবে তাকে ‘সশ্রম’ কারাদন্ড না দিলেও পারতেন। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল যখন সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের ব্যাপারে তৎপর; প্রধান নির্বাচন কমিশনার যখন ‘বিএনপি ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়’ বলছেন; তখন আইনি মারপ্যাঁচে বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেয়ার অনিশ্চয়তা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বেজায় খুশি। তারা এমন সব মন্ত্মব্য করছেন- বক্তব্য দিচ্ছেন যে বেগম জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য হলে তারা যেন স্বর্গ জয় করে ফেলবেন। প্রশ্ন হলো- বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না এটা এত দ্রুত নিশ্চিত হলেন কীভাবে? বাস্তবতা কী বলে? বর্তমান সরকারে মন্ত্রিত্ব করছেন এমন তিনজন মন্ত্রী সর্বোচ্চ আদালতের সাজাপ্রাপ্ত। একজনের ১৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড হয়েছে। অন্য দুজনের কারাদন্ড ও অর্থদন্ড হয়েছে। দুজন এমপির কারাদদন্ড হয়েছে।দন্ড নিয়েই তারা কেউ মন্ত্রিত্ব করছেন; কেউ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এসব নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক হচ্ছে।

দেশের সাধারণ মানুষ আজ অধীর আগ্রহ নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ চেয়ে আছে। তাদের বিশ্বাস- তাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী আদালতের মাধ্যমে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্রহীন এই সমাজে আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যেসব মা তাদের প্রিয় সন্তানকে হারিয়েছেন, যেসব স্ত্রী তাদের স্বামীকে হারিয়ে বিধবা হয়েছেন, যেসব সন্তান তাদের পিতাকে হারিয়ে এতিম হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া আবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে তাদের প্রতি রইল সহানুভতি ও দোয়া ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ