fbpx
 

শহীদ জিয়ার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ‘একটি আদর্শ,একটি দর্শন

Pub: Friday, November 1, 2019 1:35 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

উপমহাদেশের রাজনীতিতে এ দর্শন একটি নতুন সংযোজন
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ একটি আদর্শ, একটি দর্শন, উপমহাদেশের রাজনীতিতে এ দর্শন একটি নতুন সংযোজন। একটি মধ্যপন্থী জাতি গঠনের সব উপাদান জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনে সন্নিবেশিত আছে। জিয়া যে একজন সত্যিকারের দার্শনিক ছিলেন, এর যথাযত প্রতিফলন তার ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে’ খুঁজে পাওয়া যায়। জিয়া অনেক দূরের স্বপ্ন দেখেছিলেন, অন্তত ৫০ বছরের দূরের স্বপ্ন। জিয়ার দর্শন চিন্তা ও দূরের স্বপ্নের ফসল হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। বিএনপি প্রকৃতপক্ষেই একটি দর্শনভিত্তিক রাজনৈতিক দল।

গত ৪১ বছর সময় ধরে বিকশিত হয়ে বিএনপি বর্তমানে শুধু বাংলাদেশ নয়, এই উপমহাদেশে একটি অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপির নেতৃত্বে পাঁচবার সরকার গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের শুভ ও মঙ্গলজনক সব বড় বড় অর্জন বিএনপির হাত ধরেই হয়েছে। তাই জিয়ার দর্শন চিন্তা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের পৃষ্ঠাকে অনেকটা উজ্জ্বল করে রেখেছে।

হানাহানি, অনৈক্য ও বিভাজন চর্তুদিক দিয়ে দেশকে যখন গ্রাস করেছিল, ঠিক তখন—এই ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল; রাজনীতিবিদদের মধ্যে তৈরি করেছিল দেশ গড়ার এক অনবদ্য সোপান। জিয়া উপলব্ধি করেছিলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য-স্বাধীন একটি দেশকে গড়তে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য; ঐক্য ছাড়া এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয় আর এ ঐক্য তৈরি হতে পারে একটি সর্বজনীন দর্শনের মাধ্যমে। ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ সদ্য-স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য গবেষণালব্ধ ও সুদূরপ্রসারী চিন্তার একটি ফসল।

নিজেকে এবং জাতিকে বড় করতে সব শক্তির ব্যবহার চাই। ইচ্ছা শক্তি, কল্পনা শক্তি, মেধা শক্তি, দৌহিক শক্তি ও মানসিক শক্তিসহ সব শক্তির। আর একটি সর্ব গ্রহণযোগ্য দর্শনই পারে মানুষের সব অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে। জিয়া এ কাজটিই করেছিলেন অত্যন্ত সফলভাবে।

প্রতিটি সাধনা ও পরিশ্রমের সঙ্গে দর্শনের সংযোগ থাকে। এ সংযোগ একযোগে না হলে কাজে সফলতা আসে না। জিয়ার জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শন-চিন্তার সঙ্গে যোগ স্থাপিত হয়েছিল এ দেশের ছাত্র-তরুণ-যুবকসহ সব বয়সের এবং সব শ্রেণী-পেশার মানুষের। ফলে সবাই যার যার শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দেশ গড়ার কাজে, দূর হয়ে গিয়েছিল সব বিভাজন ও অনৈক্য; সফলতাও এসেছিল খুব দ্রুত—এখানেই জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সার্থকতা।

বর্তমান সময়েও দেশে অনৈক্য ও বিভাজনের রাজনীতি বিরাজমান। রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রেই তৈরি হচ্ছে শুধু ক্ষত আর ক্ষত, যা চূড়ান্তভাবে দেশকে নিয়ে দাঁড় করাবে ভয়াবহ এক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। এ অবস্থায় মানুষের সামনে আশার আলো হয়ে আবির্ভূত হতে পারে জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন-‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।’ এটি কালোত্তীর্ণ, এর ভাবমুর্তি মানুষের মধ্যে অটুট আছে; এখানে আঘাত করা সম্ভব হয়নি।

জিয়ার লক্ষ্য ছিল সদ্য-স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি মানুষকে আগে চেতনাগতভাবে একেকজন বাংলাদেশী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে আর বাংলাদেশী হওয়ার জন্য বাঙালি হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। এ দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার অন্তর্গত সব ভাষাভাষী, ধর্ম-বর্ণ ও জাতি-গোষ্ঠীর মানুষই একেকজন বাংলাদেশী হওয়ার গৌরবের অধিকারী।

নির্দিষ্ট কোনো একটি ভাষা বা জাতিগোষ্ঠী অথবা ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে সদ্য-স্বাধীন দেশে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। উদাহরণ, ১৯৭২ সালের সংবিধানে কোনো একটি ভাষা ও জাতিকে প্রাধান্য দেয়ায় বাংলাদেশের এক-দশমাংশ এলাকা হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এখন আবার ‘পঞ্চদশ সংশোধনী’র মাধ্যমে সেই পুরনো খেলা পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলে আবার শুরু হয়েছে বিভেদ-বিভক্তির রাজনীতি।

জিয়ার দর্শন-চিন্তা ও তার স্বপ্ন আজ ৪১ বছর পর একশ’ ভাগ সফল প্রমাণিত হয়েছে। মুষ্টিমেয় কিছু লোক বাদে এ দেশের প্রায় সব মানুষই জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে’ বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি কার্যকর রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত। আর এতেই প্রমাণিত হয়, জিয়া একজন সত্যিকারের দার্শনিক ছিলেন।

দর্শন কোনো শেখার বিষয় নয়, পৃথিবীতে এমন কোনো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় নেই যেখানে দর্শন শেখাতে পারে। দর্শন হলো মানুষের ভেতরকার অন্তর্নিহিত শক্তি,যা প্রকৃতিগতভাবে মানুষ ধারণ করে। পৃথিবীতে অনেক মানুষের নিদর্শন আছে, যারা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই মানুষকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন,সভ্যতা বিনির্মাণ করেছেন, তারা হয়েছেন জগত জোড়া খ্যাতির অধিকারী।

ক্রমওয়েল একজন মেঠো চাষা ছিলেন, তার দর্শন ও জ্ঞানশক্তিতে বিলেতের শাসনতন্ত্র একেবারে ওলট-পালট হয়ে গিয়েছিল। ক্রমওয়েলের দর্শন-চিন্তা ও জীবনসাধনা ইংরেজ জাতির ইতিহাসের পৃষ্ঠাকে অনেকটা উজ্জ্বল করে রেখেছে।

বিশ্বজয়ী ফরাসী সম্রাট নেপোলিয়নের প্রিয় ঐতিহাসিক জেনারেল জেমিনী জনৈক ভদ্রলোকের বালক ভৃত্য ছিলেন। জ্যোতির্বিদ পিকার্ড বাগানের মালি ছিলেন। ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলী (রা.) বলেছেন, ‘আমার রাত কাটে ইবাদত করে আর দিন কাটে মানুষের জন্য কাজ করে।’ তুর্কি সম্রাট সেলিম সারা দিন কাজ করতেন, রাতে অল্পই নিদ্রা যেতেন; সারা রাত বসে বসে তিনি পড়তেন। তাদের জীবনী অধ্যয়ন করলে অনায়াসেই বোঝা যায়, দর্শন কোনো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেখার বিষয় নয়, এটি পরম করুণাময়ের দেয়া মানুষের ভেতরের অন্তর্নিহিত শক্তি। জিয়ার ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ এ দেশের মানুষের জন্য পরম করুণাময়ের দেয়া তেমনই একটি নিয়ামত।

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক ব্যাপ্তি ও পরিধি অন্তত বিশাল। অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ এটি উপলব্ধি করেন। মুজিববাদ, মার্কসবাদ, লেনিনবাদ ও মৌলবাদ—এসব বাদই বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ব্যর্থ ও অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। পক্ষান্তরে জিয়ার জাতীয়তাবাদের ভেতর এ দেশের মানুষ সব খুঁজে পেয়েছে। পেয়েছে ধর্মের পরিচয়, জাতির পরিচয়, ভাষার পরিচয়, গোত্রের পরিচয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়সহ অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার, সর্বোপরি পেয়েছে একটি ‘ন্যাশনাল আইডেন্টি’ বা জাতীয় পরিচয়।

তাই সর্বোচ্চ আদালত থেকে দিকনির্দেশনা এসেছে এ দেশের মানুষের জাতীয় পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশী’। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এ নির্দেশনাকে জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বলা যায়।

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ নিশ্চিত করেছে সব ধর্মের স্বাধীনতা, সব ভাষার স্বাধীনতা, সব জাতি-গোষ্ঠীর স্বাধীনতা সর্বোপরি নিশ্চিত করেছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা।

একজন মুসলমান যেমন জিয়ার প্রবর্তিত এ দর্শনকে নিয়ে গর্ব করতে পারেন, তেমনি গর্ব করতে পারেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মাবলম্বী ও জাতি-গোষ্ঠীর মানুষও। গর্ব করতে পারেন এ কারণে যে, এটাতে সব ধর্মকেই মর্যাদা দেয়া হয়েছে; দেয়া হয়েছে প্রত্যেকের নিজ-নিজ ধর্ম পালনের অবাধ স্বাধীনতা। তাই তো আজ বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে সার্থক সামপ্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ ও শান্তির দেশ।

মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) ইসলাম ধর্মের সূচনালগ্নে বহুধাবিভক্ত আরব জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং ইসলাম ধর্মের প্রচার-প্রসারকে শক্তিশালী করতে, সব ধর্ম-গোত্রের মানুষকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়ে প্রবর্তন করেছিলেন ‘মদিনা সনদ’; যেটি ‘মদিনা চার্টার’ হিসেবে পরিচিত। রাসুল (সা.) প্রবর্তিত এই ‘মদিনা চার্টার’ আরবে একটি মধ্যপন্থী জাতি গঠনে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছে; তেমনি এ দেশে একটি মধ্যপন্থী জাতি গঠনের সব উপাদান জিয়ার দর্শনে সন্নিবেশিত আছে।

জিয়ার দর্শনের রাজনৈতিক গুরুত্ব বরাবরই উপেক্ষিত হয়েছে। এর যথাযথ রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা হয়নি। গণমাধ্যমে সক্রিয়দের মধ্যে এই দর্শনে বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা নেই বললেই চলে। অথচ বিএনপির হাত ধরেই বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীন ছিল। বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এখন সরাসরি ও ইন্টারনেটে পত্রিকা পড়ে। বাংলাদেশের ১০ কোটি মানুষ এখন স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলে নিয়মিত খবর, টকশোসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান দেখে। বাংলাদেশের প্রায় ৯ কোটি মানুষ এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। তাছাড়া ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, অনলাইন, ব্লগ, ইউটিউব, কমিউনিটি রেডিও, সিটিজেন রেডিও-সহ সব আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষ এখন পরিচিত ও সম্পৃক্ত।

সুতরাং এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিএনপির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, একটি বৃহত্ রাজনৈতিক দল হিসেবে এখানে বিএনপির শক্তিশালী প্রভাব থাকা প্রয়োজন। আর এ জায়গায় ভূমিকা পালন করতে হলে জিয়ার দর্শনে বিশ্বাসী কিছু পরিপক্ক মানুষ তৈরি করা আবশ্যক। যারা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনকে ‘আইডিওলজিক্যালি’ প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে; বাঁচিয়ে রাখবে বিএনপিকে শতাব্দীর পর শতাব্দী। এর জন্য দরকার সঠিক ও যুগোপযোগী রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা। উল্লেখ্য, উপমহাদেশে একসময় মুসলিম লীগ একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল ছিল। কিন্তু সঠিক রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এ দলটি এখন মৃত নদী প্রায়।

বিএনপিতে অগণিত মেধাবী তরুণ ও যুবকের আগমন ঘটেছিল আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। এই তরুণ ও যুবকরা ’৯১-এর নিবার্চনে ‘ভোট বিপ্লব’ ঘটিয়ে আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিতভাবে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়েছিল এবং বিনির্মাণ করে দিয়েছিল জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এক অপ্রতিরোধ্য প্লাটফর্ম। অতঃপর তাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিএনপি তেমন কোনো বাস্তবধর্মী উদ্যোগ নেয়নি। এটি ছিল বিএনপির জন্য একটি বিরাট রাজনৈতিক সুযোগ; বিএনপি পারত উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলে দল ও দেশের কাজে লাগাতে। এমনটি হলে আজ হয়তো বিএনপি ও বাংলাদেশের ইতিহাসটা অন্যরকম হতে পারত।

বাংলাদেশে বর্তমানে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শতকরা আঁশি ভাগ রাজনৈতিক দলই এ আদর্শের ধারকবাহী। যারা নতুন নতুন দল গঠন করছেন, তারাও কার্যত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শনই ধারণ করছেন। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মূল চালিকা শক্তি বিএনপি দুঃশাসন থেকে মুক্তির জন্য সমপ্রতি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে। যে সব দল এই আদর্শে বিশ্বাসী তারা এবং যারা এ আদর্শ থেকে ছিটকে পড়েছিলেন—বিএনপির ঐক্যের ডাক তাদের জন্য এক বিরাট রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা ফিরে আসতে পারেন রাজনীতির মূল স্রোতে। আগামী দিনের রাজনীতির মূল স্রোত হবে জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।

১৯৭২-৭৫ পর্যন্ত সদ্য-স্বাধীন দেশের তত্কালীন সরকার বিতর্কিত সংবিধান প্রণয়ন, একদলীয় বাকশাল প্রবর্তন ও রক্ষীবাহিনী গঠনসহ আরও নানা বিতর্কিত কাজের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল। দেশ গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল। জিয়ার দর্শন তখন এই অন্ধকার দূর করে জাতিকে আশার আলো দেখিয়েছে। বর্তমানেও একই পরিস্থিতি দেশে বিরাজমান।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের পথ একটাই—জিয়ার আদর্শ ও দর্শন। এটি অটুট আছে, এখানে আঘাত করা সম্ভব হয়নি। এ দেশের ক্রান্তিকালে জিয়ার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ একটি শক্তিশালী অবলম্বন। এটাকে কেন্দ্র করেই সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, কিন্তু তার আগে সব ভেদাভেদ ভুলে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিএনপিকে শপথ নিতে হবে, জিয়ার আদর্শই হবে বিএনপির পথ চলার নির্দেশিকা।
লেখক : প্রধান সম্পাদক শীর্ষ খবর ডটকম


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ