fbpx
 

স্বৈরাচারের পতন অবশ্যম্ভাবী প্রয়োজন শুধু গণ-আন্দোলন

Pub: Sunday, December 1, 2019 4:29 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সায়েক এম রহমান

এক। আসছে ৬ ডিসেম্বর ২৯তম স্বৈরাচার পতন দিবস। দীর্ঘ ৯ বৎসর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্র জনতার উত্তাল গণ-আন্দোলনে পতন হয় স্বৈরাচার এরশাদের।
আজ প্রায় দশ বৎসর যাবৎ আরেকটি স্বৈরাচার গণতন্ত্রের নামে এ দেশের মানুষের কাঁধে বসে আছে। বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে লাখো শহীদের বিনিময়ে ৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম একটি বাংলাদেশ। যে দেশটি বার বার গণতন্ত্রের পথে বাধা গ্রস্ত হয়ে, আজ বিজয়ের ৪৮ বৎসরেও দেশটি ভাল নেই! দেশের মানুষ ভাল নেই! ৪৮ বৎসর পরও দেশটি দাঁড়িয়ে আছে ক্ষত- বিক্ষত অবস্থায়! মোট কথা দেশ এক গভীর ষড়যন্ত্রে নিপতিত। বিজয়ের ৪৮ বৎসর পরও এ দেশের মানুষ অতিষ্ট ও জর্জরিত হয়ে বলতে হচ্ছে, ” কোথায় আমাদের সুশাসন? কোথায় আমাদের ন্যায্যতা? কোথায় আমাদের গণতন্ত্র? কোথায় অধিকার? কোন কিছুই তো প্রাতিষ্টানিক রুপ পায় নাই। বিশেষ করে গত দশ বৎসরে প্রতিষ্টিত হয়েছে,” ব্যাংক লুট, ভোট লুট, সর্ব প্রকার অন্যায় অনিয়ম, গণতন্ত্র হরণ, দুর্নীতি দুঃশাসন,খুন-গুম, ধর্ষন, হামলা মামলা, বিচার বিভাগের বারটা ও জঙ্গি হামলার নামে বিভিন্ন নাটক। তার জন্যই কি আমরা লক্ষ শহীদদের বিনিময়ে অর্জন করেছি এ দেশ!
পাঠক আজ কতৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্হা, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়, দমন পীড়ণ ও ফ্যাসিবাদ সরকারদের বিরুদ্ধে বিশ্ব ব্যাপি গণ- আন্দোলন সংগঠিত হচ্ছে। আলজেরিয়া, ইরাক, সুদান ও লেবাননসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণআন্দোলন ও গণবিপ্লব অব্যাহত রয়েছে। আজ বাংলাদেশও তার বাহিরে নেই! বিদ্যমান নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন ধরনের সভা সমাবেশ চলছে।
এই বিজয়ের মাসে স্বৈরাচার পতন দিবসকে সামনে রেখে, আরেকটি স্বৈরাচার কে বিদায়ের জন্য বাংলাদেশ আজ উত্তাল! হাইকোর্ট প্রাঙ্গন উত্তাল! নয়াপল্টন উত্তাল! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন উত্তাল! এই উত্তাল মাঠে উজ্জীবিত নেতাকর্মীদের মুখে একটি আওয়াজ গণআন্দোলনের ডাক চাই। গণআন্দোলন ব্যাথিত খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং দেশ বাঁচানো সম্ভব নয়। কারণ পৃথিবীতে প্রতিটি রোগের যেমন একেকটি মেডিসিন আছে, ঠিক তেমনি স্বৈরাচার পতনের মেডিসিনের নাম হল, “গণআন্দোলন “। এ যাবৎ পৃথিবীর কোন স্বৈরাচারই আন্দোলন ব্যথিত বিদায় নেয়নি।


তাই আর কালক্ষেপণ নয়। এখনই প্রয়োজন গণআন্দোলন! স্বৈরাচার পতন অবশ্যম্ভাবী।


দুই। এ সব কিসের পূর্বাভাস? জনাব লোটাস কামাল একটি সুধী সমাবেশে সেদিন হঠাৎ বাংলাদেশকে ভারতের অংশ হিসাবে বর্ণনা করলেন। এছাড়া চাঁদপুরের একটি সুধী সমাবেশে ভারতের পতাকা ও নরেন্দ্র মোদির ছবি ব্যবহার করা হল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলো। আর কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বললেন,” সুযোগ পেলেই রাষ্ট্র ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম তুলে নেয়া হবে। আজ বিনা ভোটের সরকার প্রধানের কাছে সাধারন মানুষ জানতে চায়, এ সব কিসের ইঙ্গিত বা কোন মতলবে এ সব হচ্ছে?
তবে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন বা ভাবছেন,” চতুর শেখ হাসিনা সম্ববত সট পথে হাঁটছেন। কারণ খুন-গুম, পিলখানার সেনা হত্যা,শাপলা চত্বরে হুজুর হত্যা, দেশ লুট, ভোট লুট ও অর্থ পাচারের অপরাধের জন্য জেল ও ফাঁসি থেকে বাঁচার জন্যে বাংলাদেশকে ভারতের একটি অঙ্গ রাজ্য বানানোর চেষ্টায় মগ্ন আছেন। ইহা তাঁহার একটি সুদূর প্রসারি পরিকল্পনা।
লক্ষনীয় ব্যাপার হলো বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারি সেক্টরের শীর্ষে কারা অবস্হান করছেন? একটু তাকালেই দেখবেন বাঘা বাঘা ভারত পন্তিদের বসিয়ে রাখছেন। এ সবই পরিকল্পনা। পাঠক ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল প্রকাশিত (শীর্ষখবর) আমার একটি কলামের শিরোনাম ছিল,” ডিজিটাল বাংলাদেশ কি ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্টের পূর্বে পা বাড়ালো”। অনেকে হয়তো পড়েছেন। সেই কলামে আমি বিস্তারিত লিখেছি। কোন সেক্টরে কতজন কাজ করছেন সম্পূর্ন তালিকা দেয়া আছে। যাক মূল বক্তব্যে চলে আসি।
এদিকে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের শত বৎসর জম্ম বার্ষিকী। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত এ বৎসরের নাম তারা দিয়েছে মুজিব বর্ষ! মুজিব বর্ষ উদ্ভোধনি অনুষ্টানে প্রধান অতিথি থাকবেন ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্রমোদি। তাহার যোগদান অনেকটাই পাকাপোক্ত। অনেক ই ভাবছেন তা-হলে কি এই দিন ডিজিটাল বাংলাদেশ ভারতের অঙ্গরাজ্যে পরিনত হবে বা শেখ হাসিনার সুদূর প্রসারি পরিকল্পনা সফলতা লাভ করবে?

পাঠক, সিকিমের লেন্দুপ দর্জির নামটির সাথে হয়তো অনেকই পরিচিত। এ প্রসঙ্গে আমাকে লেন্দুপ দর্জি সমদ্ধে কিছু বলতেই হবে। কারন,,,,, আপনারাই দেখবেন!
লেন্দুপ দর্জি একটি আলোচিত নাম। পূর্ব সিকিমের পাকিয়ং এলাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। যিনি ৪০০শত বৎসরের স্বাধীন সিকিম দেশটাকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। যে সিকিম বর্তমানে ভারতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য।
লেন্দুপ দর্জি একটি আলোচিত চরিত্র। তিনি বিশ্বাস ঘাতকতার প্রতীক ও ভারতের আধিপত্য বাদের সেবাদাস! ২০০২ সালে ভারতের “পদ্মবিভূষণ ” খেতাবে ভুষিত হন। প্রথম জীবনে লেন্দুপ দর্জিকে দেশের মানুষ সম্মান দিয়ে কাজী সাহেব বলে ডাকত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ও ইন্দিরা গান্ধী নয়া দিল্লিতে বহু চাকচিক্যে লাল গালিচা অভ্যর্থনা ও স্বাগতম জানাতেন। কিন্তু ইতিহাস বলে, ” তাহার শেষ জীবনে ভারতের দ্বিতীয় সারির নেতাদের সাথেও দেখা করতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হত। তাঁহার কদর এতই কমে ছিল।বাংলা দেশের বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী কি সেই পথে হাঁটছেন ?

লেখকঃ
সায়েক এম রহমান
উপদেষ্টা সম্পাদক
শীর্ষখবর


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ