fbpx
 

জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ছিলেন আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের পথপ্রদর্শক

Pub: শনিবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২০ ২:৫৪ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে যে কয়টি নাম উজ্জ্বল তার মধ্যে একটি হলো জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। একটি জাতি যখন তার নবযাত্রা শুরু করে তখন একজন পথপ্রদর্শকের খুব প্রয়োজন পড়ে। জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ছিলেন এমন একজন পথপ্রদর্শক। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কোন শোষণ-শাষণের যন্ত্র নয়। আধুনিক রাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য জনকল্যাণ। সেই মহৎ উদ্দেশ্য সাধনে কোন পথে যাবে একটি দেশ ও জাতি তার পুরোটা নির্ভর করে ঐ দেশের তৎকালীন আভ্যন্তরীন অবস্থা ও দেশের বাইরের আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের উপর। জিয়াউর রহমান যখন দেশের দায়িত্ব পান তখন সারা বিশ্বে চলছে ঠান্ডা লড়াই। মূলতঃ দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে বিশ্ব, একদিকে রয়েছে সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ আর একদিকে রয়েছে পুঁজিবাদি মতাদর্শ। একটির নেতৃত্বে রয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়ন, আরেকটির নেতৃত্বে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিটি জাতির জনগণও তখন দুইটি ভাবাদর্শে বিভক্ত। এ পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো তখন বেছে নিচ্ছে তাদের যার যার পছন্দের শিবির। বলা বাহুল্য যে এক্ষেত্রে সরকারগুলো কখনো তা করছে জনগণের মত নিয়ে কখনো জনগণের অমতে। যেসব দেশে জনগণের অমতে তা করা হয়েছিলো সেসব দেশে সরকারী বাহিনীর সাথে জনগণের সংঘাত সৃষ্টি হয়, যা কখনো কখনো ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিলো। একটি জাতির জনগণের মতামত অনেকটাই নির্ভর করে সেই জাতির দর্শন ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের উপর। আমাদের দেশের দর্শন বিচার করলে আমরা জাত-পাত প্রথায় অবিশ্বাসী সামাজিক সাম্যে বিশ্বাসী একটি জাতি। যার মূল প্রোথিত রয়েছে মহাজ্ঞানী কপিল ও গৌতম বুদ্ধের দর্শনে। এ’ জাতি বরাবরই ছিলো স্বাধীনচেতা, বাক স্বাধীনতা ও মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাসী। যে কয়বার এই জাতি স্বাধীনতা হারিয়েছে (গুপ্তযুগ, সেনযুগ, বৃটিশ প্রোটেস্টান্ট যুগ, ইত্যাদি) সে কয়বারই তা পুণঃরুদ্ধার করেছে।

দুশো বছরের বৃটিশ প্রোটেস্টান্ট শাসনের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হয়ে আমাদের জাতি স্বপ্ন দেখেছিলো এমন একটি দেশের যে দেশে আমরাই হবো শাসক, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাগ্য নিয়ন্ত্রক, যেখানে থাকবে বাক স্বাধীনতা ও মুক্ত চিন্তার অপার সুযোগ। কে বা কারা হবে দেশের তত্ত্বাবধায়ক তা নির্ধারন করা হবে গন-নির্বাচনের মাধ্যেমে (যার নাম এককথায় ‘গণতন্ত্র’ )। কিন্তু ক্ষমতাসীন পাকিস্তানী শাসকচক্র তা ধুলিস্মাৎ করে দিয়েছিলো। আবারো নতুন সংগ্রামে লিপ্ত হতে হয়েছিলো এ’দেশের মানুষকে। বাক স্বাধীনতা, মুক্ত চিন্তা ও ভোটের অধিকার আদায়ের লড়াইটি শেষ পর্যন্ত রূপ নিয়েছিলো রক্তাক্ত সসস্ত্র সংগ্রামে। অবশেষে এসেছিলো চূড়ান্ত বিজয়। এই সকল ঘটনা সুস্পষ্ট করে দেয় আমাদের জাতির আশা-আকাঙ্খা, চিন্তা-চেতনা, মনোবৃত্তি ইত্যাদিকে। সমাজতণ্ত্রে বাক-স্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা, আধ্যাত্মিকতা, গণতন্ত্র, ইত্যাদি কোনটিরই অধিকার নেই। স্বভাবতই এটি আমদের দেশের জনগণের অধিকাংশের কাম্য রাজনৈতিক মতাদর্শ হতে পারেনা। তাই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখযোগ্য সংস্কার করলেন। সোভিয়েত ব্লকের প্রভাব থেকে সরে এসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করলেন। সেসময় অনেকেই উনার মার্কিন নীতির সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু সময়ের বিচারে দেখা গিয়েছে যে, পরিবর্তিকালে এই সমালোচকরাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছিলো। তাদের অনেকের সন্তান-সন্ততিও যুক্তরাষ্ট্রে পারি জমিয়েছিলো। আরো আমরা লক্ষ্য করেছি যে, যেই সোভিয়েত শিবির থেকে তিনি সরে এসেছিলেন, কালের স্রোতে মতাদর্শের লড়াইয়ে সমাজতান্ত্রীক মতাদর্শ একসময় পরাজিত হয়, সোভিয়েত ইউনিয়নও তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে, সেই সাথে বিলীন হয়ে যায় সোভিয়েত ব্লক। অর্থাৎ সথাসময়েই জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে সরিয়ে এনেছিলেন সেই ব্লক থেকে এখানে উনার দূরদর্শিতারই পরিচয় পাওয়া যায়। বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য আরো একটি বড় প্রশ্ন ছিলো চীনের সাথে সম্পর্ক। চীনেও সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শে বিশ্বাসী সরকার ক্ষমতায় ছিলো, কিন্তু আমাদের নিকটস্থ প্রতিবেশী এই বৃহৎ শক্তিটির সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করা আমাদের জাতীয় উন্নয়নের জন্যই প্রয়োজন ছিলো। চীনের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনে জিয়াউর রহমান সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। এর অনেক সুফলই আমরা পরবর্তিতে পেয়েছিলাম। এবং পরবর্তিকালীন সরকারগুলোও এই সম্পর্ককে বজায় রেখেছে। ভালো করে লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই যে চীন সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়েও সোভিয়েত ইউনিয়নের মত পরাজিত হয়নি, বরং যথাসময়ে সংস্কার করে নিজেদের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করেছে। এখানেও জিয়াউর রহমানের কূটনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় পাওয়া যায়।

১৯৭৭ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর জাপানী এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ছিনতাই হয়ে অবতরণ করে ঢাকা তেজগাঁ এয়ারপোর্টে। সেই ১৯৭৭ সালের বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ একটা প্রত্যন্ত রাষ্ট্র ছিলো। সংবাদ ছড়িয়ে পড়লো সমগ্র বিশ্বে। সবার দৃষ্টি তখন বাংলাদেশের দিকে। সবাই তখন এই নাটকটি দেখার জন্য অধীর আগ্রহী। কি হয়? কি হয়? নবীন অনভিজ্ঞ রাষ্ট্র বাংলাদেশ কি করে সামাল দেবে এই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস? পারবে কি বাংলাদেশ? দুর্ধর্ষ রেড আর্মীর ছিনতাইকারীদের সাথে দরকষাকষি করে অবশেষে সফল হয়েছিলো বাংলাদেশ। সেই সুযোগে অর্থনৈতিক পরাশক্তি জাপানের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন জিয়াউর রহমান, যার সুফল আজও আমরা পেয়ে আসছি। (উল্লেখ্য যে অনেকগুলো বছর আগে জাপানের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন নেতাজী সুভাষ বসু)।

সদ্য জন্ম নেয়া বাংলাদেশ মূলতঃ ছিলো একটি মুসলিম অধ্যুষিত দরিদ্র রাষ্ট্র। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে শুরু করেন। তার অংশ হিসাবে, একের পর এক আরব রাষ্ট্রগুলো সফর করতে শুরু করেন জিয়াউর রহমান। আর দ্রুত সখ্যতা গড়ে তোলেন ঐ সব রাষ্ট্রগুলোর সাথে। তিনি তাদের বোঝাতে সক্ষম হন যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ নামক সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি দেশ আছে, জনসংখ্যার বিচারে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। তাদের ঐ মুসলিম ভাইটি খুব দরিদ্র। তারা যেন ঐ দরিদ্র ভাইটির প্রতি সহানুভুতির হাত বাড়িয়ে দেয়। ‘মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই’ এই কনসেপ্ট মুসলিম জাহানে রয়েছে সেই শুরু থেকেই, এটি একটি ইসলামিক ডকট্রাইন। সেই আবেগে আরব রাষ্ট্রগুলো সহানুভুতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো। কোন স্বার্থ থেকে নয় কেবলমাত্র ভাই ভেবে। তারা আমাদের নানা ভাবে সাহায্য করতে শুরু করলো। তার মধ্যে সব চাইতে বড় সাহায্যটি হলো আমাদের দেশের মানুষের জন্য আরবে কর্মসংস্থান করে দেয়া। বলা বাহুল্য যে, এদের একটি বিরাট অংশ অদক্ষ শ্রমিক। এই আমাদের কপাল খুলতে শুরু করলো। ক্ষুধামুক্ত হলো দেশ, লক্ষ লক্ষ মানুষ মুক্তি পেলো বেকারত্বের অভিশাপ থেকে। দলে দলে যেতে শুরু করলো সৌদি আরব, দুবাই, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, লিবিয়া, ইত্যাদি নানা দেশে। যে দেশের মানুষ বাড়িতে একটি টু-ইন-ওয়ান থাকলে জীবন ধন্য মনে করতো, তাদের ঘরে ঘরে শোভা পেতে শুরু করলো ফ্রীজ, টেলিভিশন থেকে শুরু করে নানা রকম বিলাস সামগ্রী। আর কিছুকাল পরে টিনের ঘরের জায়গায় উঠতে শুরু করলো সুদৃশ্য দালান।

এসবের পাশাপাশি তিনি আরো উপলদ্ধি করেছিলেন দক্ষিণ এশীয় রাষ্ট্রগুলির মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগীতার। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, বিশ্বের একপঞ্চমাংশ মানুষের আবাসস্থল ও একসময়ের সমৃদ্ধ অঞ্চলে আঞ্চলিক প্রতিযোগীতার বদলে সহযোগীতা-সমঝোতা স্থাপিত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে উপমাহাদেশের গুরুত্ব মূলতঃ বৃদ্ধিই পাবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি গঠন করেছিলে দক্ষিণ এশীয় রাষ্ট্রগুলির সহযোগীতা সংস্থা সার্ক।

এবার আসা যাক আভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গে। পূর্বেই বলেছি যে, এদেশের মানুষ চিরকালের স্বাধীনচেতা, বাক স্বাধীনতা ও মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাসী, বিশ্বাসী গণতণ্ত্রে; তাই দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্খা পূরণের লক্ষে তিনি প্রবর্তন করেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের, নিশ্চিত করেন প্রেসের স্বাধীনতা, প্রতিষ্ঠা করেন ভোটের অধিকার।

এবার আমি উল্লেখ করছি উনার কিছু অবদানের।

শিক্ষা:

  • গণশিক্ষা কার্যক্রম ‘নিরক্ষরতা দূরীকরণ অভিযান’ প্রবর্তন করে অতি অল্প সময়ে ৪০ লক্ষ মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দান।
  • নদী গবেষণা ইনস্টিউট প্রতিষ্ঠা করেন।
  • প্রেস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।
  • বাংলাদেশ ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
  • আইসিটিভিটিআর প্রতিষ্ঠা করেন।
  • ফিল্ম ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।
  • নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।

অন্ন:

  • ইরি ধানের চাষের প্রচলন করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করেন। তিনি বলেছিলেন, “খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুন করতে হবে, তিনগুনও করা যায়, তবে আপাততঃ দ্বিগুন করতে হবে। উনার স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত।
  • কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশকে খাদ্য রপ্তানীর পর্যায়ে উন্নীতকরণ তিনি করেন।
  • মিল্কভিটার দুধের উৎপাদন তিনি বাড়িয়েছিলেন। ঢাকাতে এই দুধের বিক্রি ও প্রচলন বেড়ে যায়।
  • সামুদ্রিক মাছ তখন ঢাকার রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিক্রি চালু হয়েছিলো।
  • সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারী সহায়তার সমন্বয় ঘটিয়ে ১৪০০ খাল খনন ও পুনর্খনন। এই প্রকল্পে তিনি এক ঢিলে অনেকগুলো পাখী মেরেছিলেন। ইংরেজরা আমাদের স্বভাব-চরিত্রও পাল্টে দিয়েছিলো আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতিকে ভিক্ষুক জাতিতে পরিণত করেছিলো, ভিক্ষাবৃত্তিকে মানুষ গতানুগতিক মনে করতে শুরু করলো। জিয়াউর রহমান চালু করলেন কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী, ফলে মানুষকে আর ভিক্ষা করতে হলোনা, কাজ করেই খাদ্য পেলো। ঠেকিয়ে দিলেন দুর্ভিক্ষ। আবার শত শত খালও খনন হয়ে কৃষিতে বিপ্লব সাধিত হলো।

চিকিৎসা:

  • ২৭৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগ করে গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধিকরণ।
  • শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।
  • হৃদরোগ ইনস্টিউট ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন (৩রা এপ্রিল ১৯৮১)
  • পঙ্গু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।
  • কলেরা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।

শিল্প:

  • নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের ভেতর দিয়ে অর্থনৈতিক বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণ। কলকারখানায় তিন শিফট চালু করে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি।
  • গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ বিজনেস উনিই প্রতিষ্ঠা করেন।

বাসস্থান:

  • গৃহ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।
  • বহুতল ভবন কালচার চালু করেন (মতিঝিলের২৫ তলা উঁচু শিল্প ভবন দিয়ে শুরু)
  • গৃহায়ন ঋণ চালু করেন

বস্ত্র:

  • তিনি ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে বস্ত্র সাহায্যে নিয়ে এসে বাজারে নামমাত্র মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করেন। এটাকে সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেট, টাল মার্কেট, লান্ডি মার্কেট ইত্যাদি নানা নামে অভিহিত করা হতো।

শিশু:

  • শিশু এ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন (জুলাই, ১৯৭৭)।
  • শিশুদের উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিশু বর্ষ ১৯৮০-৮১ ঘোষণা। এর আগে আন্তর্জাতিক শিশু বর্ষ ১৯৭৯-এর র্যা লিতে তিনি নিজে র্যা লির নেতৃত্ব দেন।
  • শিশু পার্ক ও শিশু গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন।
  • কিশোর অপরাধ সংশোধনী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।
  • প্রতিভাবান শিশুদের খুঁজে বের করা ও উৎসাহ প্রদানের উদ্দেশ্যে নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠান চালু করেন।

বাক-স্বাধীনতা:

  • তিনি সংবাদপত্রের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। উনার সময় বাক স্বাধীনতা ছিলো অবাধ। অনেকেই তখন জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অনেক কিছু লিখতেন, জিয়া নীরবে সব অবলোকন করেছেন।

গণতন্ত্র:

  • বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করেন। ‘রাজনৈতিক দল বিধি ১৯৭৬’ জারি করেন। ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
  • ১৯৭৫ সালের ২৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেয়া দ্বিতীয় ভাষণেই জেনারেল জিয়াউর রহমান অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন।
  • জাতীয় সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন।
  • মুক্তাঙ্গন তৈরী করেছিলেন যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে মত প্রকাশ করতে পারবে।

আইন-শৃঙ্খলা:

  • আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যপক উন্নয়ন সাধন করে দেশে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে তিনি জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হন।
  • গ্রামাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান ও গ্রামোন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) গঠন।
  • মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রতিরক্ষা:

  • শক্তিশালী ও দেশপ্রেমিক সসস্ত্রবাহিনী নির্মাণের উদ্দেশ্যে ক্যাডেট কলেজের সংখ্যা চারটি থেকে আটটিতে উন্নিত করেন।
  • “বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে যদি যুদ্ধেই যেতে হয় তা’লে আমাদের সেনাবাহিনীর একমাত্র ঊপায়- অনিয়মিত যুদ্ধ (unconventional warfare-1980)” সেটা ছিল জিয়াউর রহমানের মস্তিষ্ক প্রসুত।
  • আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন। তাঁর জীবদ্দশায় গুলি ছুড়তে শেখে চল্লিশ হাজার নর-নারী।
  • ‘দেশের জনগণ ও সসস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন।
  • মীরপুরে ডিফেন্স স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

পরিবেশ রক্ষা:

  • জিয়া নিজে ড্রাইভ করে গ্যাস চালিত গাড়ী উদ্ধোধন করেছিলেন।
  • সর্বনাশা বন্যার হাত থেকে ঢাকা শহরকে রক্ষার উদ্দেশ্যে ডিএনডি বাধ নির্মান করেন।
  • হাওড় উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক সাফল্য:

  • জাপানকে হারিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সদস্যপদ লাভ। যেই দেশকে তিন বছর আগেই বাস্কেট কেস বলা হতো সেই দেশকেই জিয়াউর রহমান এনে দিলেন বিরল সম্মাননা।
  • জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আসনলাভ।
  • তিন সদস্যবিশিষ্ট আল-কুদস কমিটিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি।
  • দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ‘সার্ক’ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ।
  • অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান-এর দেহভস্ম চীন থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান স্মৃতিসৌধ স্থাপন করেন।
  • আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশেষ করে ইসলামি দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে জিয়াউর রহমান সফর করেন সৌদি আরব, আরব আমিরাত, ইরান, পাকিস্তান, মালি, সেনেগাল, সিরিয়া, তুরস্ক প্রভৃতি দেশ। মুসলিম দেশগুলোর স্বার্থরক্ষায় জিয়াউর রহমান বলিষ্ঠ ও স্বাধীনচেতা ভূমিকা রাখেন।
    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কার্টার ব্যক্তিগত চাপ প্রয়োগ করেও ইরানের বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমানের সমর্থন আদায় করতে পারেননি।
  • ইরান-ইরাকের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ বন্ধে জিয়া বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
  • ১৯৮১ সালে ইসলামি সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) অন্যতম সহসভাপতি পদ লাভ করে বাংলাদেশ।
  • ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ জোটনিরপেক্ষ ব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হয়।
  • বাংলাদেশের আপত্তির কারণেই ১৯৭৯ সালে জাতিসঙ্ঘ ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেনি।
  • জিয়া ১৯৭৭ সালে লন্ডনে কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দেন। ১৯৮০ সালে মক্কার ইসলামি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন।
  • ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টনের সাময়িক সমাধান করা হয়। সমাধানের ফর্মুলা এমনই সুস্পষ্টভাবে লেখা ছিল যে ভারতের পক্ষে সেখান থেকে সরে যাওয়ার পথ আদৌ ছিল না এবং এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই আর কোনো আপত্তি করা হয়নি।
  • বার্মার সঙ্গে সীমান্তরেখা নির্ধারণ করা হয় ও শরণার্থী সমস্যা আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
  • ১৯৮০ সালের ২৭শে অাগষ্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফররত জিয়াউর রহমানকে উদ্দেশ্য করে দেয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার বলেছিলেন:
    PRESIDENT CARTER. It’s a great pleasure for me this afternoon to welcome to the White House and to our Nation, President Ziaur, the very fine leader of Bangladesh. Since their war of independence in 1971, tremendous progress has been made under his leadership. And with the courage and determination of the people of his great country, with a population of about 90 million, and with tremendous opportunities for economic improvement, President Ziaur has been in the forefront of making the lives of the Bangladesh citizens better each year.

সেবাখাত:

  • বাড়ী বাড়ী গ্যাস পৌঁছে দিয়েছিলেন।
  • ১৯৭৮ সালে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।
  • বেসরকারিখাত ও উদ্যোগকে উৎসাহিতকরণ। শিল্পখাতে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ।
  • বাংলাদেশ টেলিভিশনের রঙিন সম্প্রচার চালু করেন। এছাড়া বিটিভি-র অনেকগুলো উপকেন্দ্র চালু করেন।
  • ফার্মগেটের ওভারব্রীজ নির্মান করে নগরে ওভারব্রীজ কালচার চালু করেন।
  • ঢাকা শহরে বিমান থেকে মশার ওষুধ ফেলে মশক নিধন করেন।
  • ঢাকা পৌরসভাকে পরিণত করেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে (১৯৭৮, ৩০শে সেপ্টেম্বর)
  • বিদেশী বিনোয়োগ উৎসাহিত করতে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল সোনারগাঁ প্রতিষ্ঠা করেন।

খেলাধুলা:

  • দেশে অনেক আন্তর্জাতিক খেলা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ক্রীড়াসঙ্গীত উনার সময়েই লেখা।
  • স্টেডিয়ামে আসন সংখ্যা বাড়ান। ফ্লাড-লাইট প্রচলন করেন।
  • প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপ ফুটবল খেলা চালু করেন।
  • ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় এশীয় যুব ফুটবল।
  • টেনিস কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেন।
  • বিশ্বখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী উনার আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থা:

  • হাজার হাজার মাইল রাস্তা-ঘাট নির্মাণ।
  • বুড়িগঙ্গা সেতুর ভিত্তি-প্রস্তর উদ্ধোধন করেছিলেন।

নারীর উন্নয়ন:

  • মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারী সমাজকে সম্পৃক্তকরণ করেন।
  • নারীসমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয় মহিলা সংস্থা। স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম মহিলা রাষ্ট্রদূত ও মহিলা অডিটর জেনারেল করেছিলেন।
  • তিনি মহিলা পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি গঠন করেন।
  • কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল প্রতিষ্ঠা করেন।
  • সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ১৫ থেকে ৩০-এ উন্নীত করেন। চাকরির ক্ষেত্রে নন-গেজেটেড পদে ১৫% এবং গেজেটেড পদে ১০% কোটা নির্ধারণ করেন।
  • নারী পুনর্বাসন ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন (১৬ই জানুয়ারী, ১৯৭৮)

মন্ত্রণালয়:

  • যুব উন্নয়ন মন্ত্রাণালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
  • মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করেন।
  • ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্টা করে সকল মানুষের স্ব স্ব ধর্ম পালনের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করেন।
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন।
  • সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় গঠন করেন

পল্লী উন্নয়ন:

  • তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামের জনগণকে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করণ এবং সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব সৃষ্টি করার লক্ষ্যে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।

পারমানবিক শক্তি:

  • ফ্রান্সের সাথে পারমানবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
  • পারমানবিক গবেষণায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন

রপ্তানী

  • জনশক্তি রপ্তানি, তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, হস্তশিল্পসহ অনেক অপ্রচলিত পণ্যর রপ্তানীর দ্বার উন্মোচন করেন।

মুক্তিযোদ্ধা:

  • যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেন।

ন্যায়-নীতি:

  • জিয়া সরকার ১৯৮০ সালে যৌতুকবিরোধী আইন প্রণয়ন করে।
  • পাটের গুদামে আগুন দেয়ার সর্বচ্চো শাস্তি মৃত্যুদন্ড
  • চোরাচালানের সর্বচ্চো শাস্তি মৃত্যুদন্ড
  • প্রশ্নপত্র ফাঁসের সর্বচ্চো শাস্তি চার বছরের জেল।
  • ১৯৭৮ সালে দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় চারটি বিভাগীয় শহরে জিয়া সরকার ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকাণ্ডকে বিভাগীয়পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারিত করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ধর্ম বিভাগ’ নামে একটি পৃথক বিভাগ গঠন করেছিল জিয়া সরকার, যা পরে পূর্ণাঙ্গ ধর্ম মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরিত হয়।

পুরষ্কার:

  • মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে তিনি ‘২১ পদক’ প্রদানপ্রথা প্রবর্তন করেন।
  • জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার চালু করেন।
  • জাতীয় শিশু পুরষ্কার চালু করেন (১৯৭৯)

সংস্কৃতি:

  • ১৯৮১ সালে ঢাকায় এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন তিনি। ঢাকা চারুকলা ইনস্টিটিউট ছাত্রাবাস এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ শহীদ জিয়ার অবদান।
  • বাংলা এ্যাকাডেমীর উদ্যোগে বইমেলা চালু করেন।
  • সুস্থ ও মান সম্পন্ন সিনেমা তৈরীর লক্ষ্যে তিনি চলচ্চিত্র নির্মানে জাতীয় অনুদান দেয়ার রীতি চালয় করেন।
  • জাতীয় প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন।
  • ফিল্ম আর্কাইভ প্রতিষ্ঠা করেন।

শিক্ষকদের মর্যাদা প্রাদান:

  • ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান সরকার আইন করে মুক্তিযুদ্ধকালীন নয় মাসের বকেয়া বেতন দেন শিক্ষকদের।
  • কিভাবে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা যায় সে সম্বন্ধে কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকের সাথে আলোচনা করেছিলেন।

যুবসমাজ:

  • যুবসমাজকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়ার লক্ষ্যে জিয়া সরকার গঠন করে যুব কমপ্লেক্স।

রাজনীতি:
*১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ রামপুরা টেলিভিশন ভবনে বেতার ও তথ্য বিভাগের পদস্থ অফিসারদের এক সমাবেশে জেনারেল জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, ‘আমরা সকলে বাংলাদেশী। আমরা প্রথমে বাংলাদেশী এবং শেষেও বাংলাদেশী। এই মাটি আমাদের, এই মাটি থেকে আমাদের অনুপ্রেরণা আহরণ করতে হবে। জাতিকে শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য। ঐক্য, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, নিষ্ঠা ও কঠোর মেহনতের মাধ্যমেই তা সম্ভব।’ (দৈনিক বাংলা, ১৪ মার্চ, ১৯৭৬)

  • ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনালের সুজান গ্রিন ঢাকা থেকে পাঠানো এক ডেসপাচে লিখেছিলেন, ‘সাম্যের প্রতীক ও সত্ লোকরূপে ব্যাপকভাবে গণ্য জিয়াউর রহমান স্ব্বনির্ভর সংস্কার কর্মসূচি শুরু করে বাংলাদেশের ভিক্ষার ঝুড়ি ভাঙার প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছেন।’ মালয়েশিয় দৈনিক ‘বিজনেস টাইমস’-এ প্রকাশিত ওই ডেসপাচে বলা হয়, ‘অতীতে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে পরিচিত করেছিল যে মহাপ্লাবী সমস্যাগুলো, প্রেসিডেন্ট জিয়া কার্যত সেগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।’ (দৈনিক ইত্তেফাক, ৪ নভেম্বর ১৯৭৯)
  • রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এসএসসি থেকে স্নাকোত্তর পর্যন্ত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে তিনবার ভ্রমনে গিয়েছিলেন। একবার গিয়েছিলেন চট্টগ্রাম থেকে সুন্দরবন। দুইবার চট্টগ্রাম-সিংগাপুর-ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সেখানে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সম্পদ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করেছিলেন। কারণ তিনি জানতেন এ সমস্ত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার। হিজবুল বাহারে যাত্রী বহন সংখ্যা ছিল দুই হাজার। এই যাত্রীদের মধ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, সাংস্কৃতিক কর্মী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদও ছিলেন।
  • খন্দকার মোশতাক যে সামরিক শাসন জারি করেছিলেন জিয়াউর রহমান তা তুলে নিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
  • জিয়াউর রহমান খন্দকার মোশতাক-এর প্রচলিত সামরিক শাসনকে সামরিক শাসনকে স্প্রেড করতে চাননি। তিনি জানতেন যে, এটা ক্যন্সার ব্যধির মত একবার ছড়িয়ে পড়লে সমস্ত শরীরকে অসুস্থ করে তুলবে। সামরিক শাসন মানে সেনা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সিভিল পোস্টে কাজে লাগানো। পৃথিবীর সব দেশেই সিভিল ডিপার্টমেন্টগুলোতে দুর্নীতির মাত্রা বেশী থাকে। সেনা কর্মকর্তারা সেই দুর্নীতির স্বাদ পেলে সহজে আর সেখান থেকে বের হতে চাইবে না।এটা একটা দেশের জন্য যেকোন অর্থেই ভয়াবহ। তাই জিয়াউর রহমান সামরিক শাসনকে স্প্রেড না করে যত দ্রুত সম্ভব তা তুলে নিয়েছিলেন।
  • নিজ হাতে কোদাল ধরেছিলেন। মাইলের পর মাইল প্রান্তরের পর প্রান্তর হেটে বেড়িয়েছিলেন নিজ চোখে দেখতে চেয়েছিলেন প্রিয় বাংলাদেশের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা।

(আজ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী, উনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি)
লেখক: প্রধান সম্পাদক শীর্ষ খবর ডটকম

Hits: 173


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ