fbpx
 

একজন ডাঃ জোবাইদা রহমান

Pub: বুধবার, জানুয়ারি ২২, ২০২০ ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শাকিলা ফারজানা
“বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
………………………………………………….
কোন কালে একা হয়নি, ক’ জয়ী পুরুষের তরবারী
প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয়-লক্ষী নারী।
……………………………………………………
রাজা করিতেছে রাজ্য শাসন, রাজারে শাসিছে রানী
রানীর দরদে ধুইয়া গিয়াছে রাজ্যের যত গ্লানি।
………………………………………………….
নারী সে শিখাল শিশু-পুরুষেরে, স্নেহ প্রেম দয়া মায়া,
দীপ্ত নয়নে পরাল কাজল, বেদনার ঘন ছায়া”।

-:নারী/কাজি নজরুল ইসলাম:-

১/ ‘উঁচু পর্বত’ হলো জোবাইদা নামের অর্থ। এটি আরবি নাম। ডাঃ জোবাইদা রহমান শুধু পিতৃকুল এবং শ্বশুরকুলের বিখ্যাত পরিচয়ের জন্য নয়; ব্যক্তিগত মেধা, মনন ও কর্মদক্ষতায়ও অসাধারণ এবং অদ্বিতীয়। তিনি তাঁর মেধা, সাহস, রুচি এবং ব্যক্তিত্ব দিয়ে শহীদ জিয়ার পরিবার এবং সৃষ্ট দল বিএনপিকে নৈপথ্যে থেকে অপরিসীম সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। ডাঃ জোবাইদা রহমান ইতিমধ্যে তাঁর আক্ষরিক নামের মতোই নিজেকে মেধা, মনন, সাহসিকতায় অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছেন।

২/ ডাঃ জোবাইদা রহমান, একই সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের ইতিহাসে যে পরিবারের অবদান সবচেয়ে বেশী এবং কিংবদন্তীতূল্য সেই পরিবারের জৈষ্ঠ্য সন্তান ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পত্নী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ, নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা বলেই নন, এর বাইরেও তিনি আপন মহিমায় ভাস্বর, আপন বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল।

৩/ ডাঃ জোবাইদা রহমান নিজ মেধা কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বিশ্বের ৫৫টি দেশের মধ্যে সেরা চিকিৎসকের স্বীকৃতি পেয়েছেন। শিক্ষা জীবনে ডাঃ জোবাইদা রহমান কখনো দ্বিতীয় হননি; না দেশে না বিদেশে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইতিহাসে ডিস্টিংশনসহ সর্বোচ্চ মার্কস পেয়ে এমবিবিএস পাশ করেছিলেন তিনি। ডাঃ জোবাইদা ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডন থেকে সর্বোচ্চ মার্কস পেয়ে মাস্টার্স অব কার্ডিওলজি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। চার বছরের মাস্টার্স অব কার্ডিওলজিতে (এমএসসি ইন কার্ডিওলজি) ডিস্টিংশনসহ শতকরা ৮৩ ভাগ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছিলেন ডাঃ জোবাইদা। যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশ, নাইজেরিয়া, চীনসহ মোট ৫৫টি দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা এই কোর্সে অংশ নিয়েছিলেন। এ কোর্সে প্রথম হয়েছিলেন ডাঃ জোবাইদা।

৪/ ডাঃ জোবাইদা ব্যক্তি স্বার্থের বাইরে গিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। দেশি-বিদেশী নানা লোভনীয় প্রস্তাব, স্কলারশিপ ও উজ্জল কেরিয়ার এর হাতছানিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি মানব সেবাকেই মহানব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৯৫’সালে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে উন্নীত হয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সামান্য চাকরীই বেছে নেন তিনি পেশা হিসেবে। এখনো তার ধ্যান, জ্ঞান আর স্বপ্ন কীভাবে দেশের চিকিৎসাশাস্ত্রে সেবার উন্নয়ন করা যায় তা নিয়ে। ঘনিষ্ঠসূত্রে জানা যায়, ডাঃ জোবাইদা বাংলাদেশের চিকিৎসাশাস্ত্রে উন্নয়নের বিষয়ে খুবই উদগ্রীব। দেশে একটি আন্তর্জাতিক হৃদরোগ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছা তার প্রবল। কিন্তু বিধিবাম সেই তিনিই একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি হয়েও শুধুমাত্র বৈবাহিক কারণে রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ার অপরাধে বর্তমান ফ্যাসিষ্ট সরকারের রাজনৈতিক নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন সরকারী চাকরীচ্যুত হওয়ার মাধ্যমে।

৫/ ডাঃ জোবাইদা চলাফেরা, মেধা, মননেই শুধু নয় সেবা এবং অভিভাবকত্বেও নিজের স্বকীয়তা এবং সুনাম অক্ষুন্ন রেখেছেন। জিয়া পরিবারের পুত্রবধূ হওয়ার পর থেকেই তিনি নৈপথ্যে থেকে সে পরিবারের একজন হিসেবে সুখেদুঃখে নির্ভরশীলতা দিয়ে গেছেন। এক-এগারোর দুঃসময়ে যখন জিয়া পরিবারের উপর অত্যাচারের খড়গ নেমে আসে তখন তিনি নিজের মেধা, সাহস, সেবা দিয়ে দেশেবিদেশে এই পরিবারকে আঁকড়ে রাখেন। যা এখনো অব্যাহত আছে। তিনি ঐ সময়ে অন্যায়ভাবে অত্যাচারিত নিজের স্বামী, দেবরের চিকিৎসায় অসাধারণ ভূমিকা রাখেন। সাথে সাথে অসুস্থ শ্বাশুড়ী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে তদারকিও অব্যাহত রেখেছিলেন। তার অদম্য চেষ্টাই স্বামী তারেক রহমান আজ অনেকটা সুস্থ। একই সাথে নিজের একমাত্র সন্তান জায়মা রহমানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছেন। জায়মা লন্ডনের নামকরা কলেজ থেকে ভালভাবেই উত্তীর্ণ হওয়া একজন ব্যারিস্টার। এই মুহূর্তে গণতন্ত্রের মা এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যায় কারাবাসে বিএনপি যখন পর্যুদস্ত তখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের পাশে থেকে ডাঃ জোবাইদা বিএনপির দুঃসময় কাটিয়ে উঠতে নিজের সাহসী, মেধাবী এবং উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন।

৬/ নিঃসন্দেহে ডাঃ জোবাইদা রহমান জিয়া পরিবার, বিএনপি পরিবার এবং দেশের জন্য একজন বড় উপকারী ব্যক্তিত্ব। জিয়া পরিবার, বিএনপি এবং দেশের জনগণের এই গভীর দুঃসময়ে তার মেধাবী, সাহসী, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং দেশপ্রেমী উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি তাঁর উপস্থিতি দিয়ে ইতিমধ্যেই নিজের অসাধারণত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা বারবারই প্রমাণ করেছেন। মহান আল্লাহ যেন ডাঃ জোবাইদা রহমানকে সবসময় এবং সব জায়গায় সর্বতোভাবে সাহায্য করেন।
শাকিলা ফারজানা’র ফেইসবুক থেকে

Hits: 160


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ