fbpx
 

“আজ বেগম খালেদা মানে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বেগম খালেদা মানে বাংলাদেশ”

Pub: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০ ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সায়েক এম রহমান

১/১১ এর সময়ে মঈন-ফখরু সরকার যখন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর জন্য বিভিন্ন খেলায় মেতে উঠছিল এবং আপোষহীন নেত্রীকে সেরা প্রলোভন দেখিয়েও তারা ব্যর্থ হতে চলেছিল। তখন আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কিন্তু সহজেই লন্ডন আমেরিকা পাঠাতে সক্ষম হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া কিন্তু সেইদিন সেনা সরকারের চাল বুঝেই দেশ না ছাড়ার পক্ষেই অনড় ছিলেন। সেদিন কিন্তু তিনি দৃঢ় কন্ঠে বলেছিলেন,”দেশের বাহিরে আমার কোন ঠিকানা নাই। যখন অনেকটা ফোর্স করে বিমানে তুলার চেষ্টা করছিলো তখন তিনি বাংলার চীর সবুজের মাটিকে আঁকড়ে ধরে বলেছিলেন,”আমি আমার মায়ের দেশেই থাকব, আমি আমার স্বামীর স্বপ্নের দেশেই থাকব, আমার দেশ আমি ছেড়ে চলে যাব না, আমি আমার ষোল কোটি মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই, আমার দুই সন্তানকে মহান আল্লাহর কাছে সঁপে দিলাম। অতঃপর যখন সেনা সরকারের সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে চললো পরিশেষে আপোষহীন নেত্রীকে শেষ প্রশ্ন করেছিলো,,,, মাডাম আপনার সন্তান বড় না দেশ বড়? আপোষহীন নেত্রী কঠিন থেকে কঠিনতম পরীক্ষার সম্মুখীন হন। গনতন্ত্রের প্রতীক, আপোষহীন নেত্রী সেই দিন কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন,” দেশ বড়”। তারপরই শুরু হয় তাঁহার সন্তানদ্বয়ের উপর পৃথিবীর নিকৃষ্টতম নির্যাতন। এক সন্তান ফ্যাসিষ্টের নির্যাতনে অকালে দুনিয়া থেকে চলে যেতে হয় আর আরেক সন্তান পঙ্গু হয়ে লন্ডনে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়। সেই আপোষহীন নেত্রীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী গং আজ প্যারোলের বাণী শুনাচ্ছেন। আসলে ভাবতে অবাক লাগে! বেগম খালেদা জিয়া যে কত বড় মাপের নেতা, ক্ষমতা লিপ্সুরা এখনও ভাল করে বুঝেও নাই। তারা ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে গেছে। তবে এদেশের মানুষ কিন্তু ভাল করেই জানে এবং চিনে, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের এক প্রান, বেগম খালেদা মানেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বেগম খালেদা মানে বাংলাদেশ। আজ হাটে মাঠে ঘাটে সাধারণ মানুষ বলছে,” একজন গনতন্ত্রের প্রতীককে প্যারোলে মুক্তি নয়, জামিনে মুক্তি ই তার অধিকার। এছাড়া ও সেনা সরকারের সময়ে কারান্তরীন থাকা অবস্থায় হারিয়েছেন তাঁহার মমতাময়ী মা এবং তাঁহার প্রিয় ভাই ও বোনকে। হারাতে হয়েছে স্বামীর হাতের ৪০ বৎসরের তাঁহার স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি।৷আজ ভাবতে অবাক লাগে, ” যে মানুষটি তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দুই বারের সাবেক বিরোধী দলের নেত্রী, ৩৭টি বৎসর যাবৎ বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের জন্য একাধারে লড়াই করে যাচ্ছেন এবং যিনি একজন স্বাধীনতা ঘোষকের স্ত্রী, একজন বীর উত্তমের স্ত্রী, বাংলাদেশের প্রথম প্রসিডেন্টের স্ত্রী হয়েও সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত মামলায় বন্দী রেখে, আজ নির্লজের মতন দখলদার সরকার প্যারোলের মুক্তির গান শুনাচ্ছে। কাকে শুনাচ্ছে? যার স্বামী শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এদেশের গণতন্ত্রকে পূনঃ প্রবর্তন করে আওয়ামী লীগ নামক দলটি পূনঃ জম্মের সুযোগ করে দিয়ে ছিলেন,,,,, তাকে? যে নেত্রী নয় বৎসর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ত্যাগ তিতিক্ষার ফলে বিশ্বজুড়ে আপোষহীন নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন,,,,, তাকে? ক্ষমতা কারো চিরস্থায়ী নয়। কোন ফ্যাসিষ্টদের হীন চক্রান্ত কখনও সফল হয় নাই।

পাঠক, আজ ইতিহাসের পিছনের পাতা একটু দেখে আসি। বিশেষ কারণে,,,,, আজ থেকে ২৬২ বৎসর আগের কথা! ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে অস্তমিত হয়েছিল বাংলার স্বাধীনতার সুর্য, জাতীয়তাবাদের সুর্য! সেই দিন মীর জাফরদের বিশ্বাস ঘাতকতায় বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার ভাগ্য তছনছ হয়েছিল। ভুলে গেলে চলবে না। আজও কিন্তু সেই মীর জাফররা পিছন ছাড়ে নাই। অতএব সাবধান জগৎ শেঠ, ঘসেটি বেগম ও মীর জাফরদের পেতাত্না এখনও জীবিত! ক্লাইভ তার আত্ন জীবনীতে লিখে গেছেন,”রাজধানী মুর্শিদাবাদে সব চেয়ে নীছের ধনী ব্যক্তির যে ধন সম্পদ রয়েছে, সেই পরিমান ধনসম্পদ লন্ডনের সর্বাধিক ধনী ব্যক্তিরও নাই। পর্দার অন্তরালে কিন্তু কাজ করছিল রায়-রাম-চাঁদ- শেঠদের চক্রান্ত।
১৭৫৭ সালের ২৩জুন হল, এ জাতির জন্য মহা কলঙ্কের দিন, পাশাপাশি জাতির জন্য মহা একটি শিক্ষনীয় দিন। এখনই সময় পলাশীর ইতিহাস থেকে আমরা শিক্ষা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সংগ্রাম এবং গণতন্ত্রের মুক্তির সংগ্রামের শপথ নিতে হবে। অন্যতায় আবারও বিপর্যস্ত হবে।

উপদেষ্টা সম্পাদক
শীর্ষ খবর ডটকম

Hits: 338


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ