নির্বাচনের উতল হাওয়া

Pub: রবিবার, আগস্ট ১২, ২০১৮ ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, আগস্ট ১২, ২০১৮ ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দেশের রাজনীতিতে চলছে নির্বাচনের উতল হাওয়া। পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিন চারিদিকেই ঘুর্ণিপাকে ঘুরছে এই হাওয়া। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ২০১৯ জানুয়ারীর প্রথমার্ধের মধ্যেই নির্বাচন বার্ধতামূলক। নির্বাচন কমিশন আসছে অক্টোবরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ‘তফসিল’ ঘোষণা করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একাধিক বক্তব্যে ডিসেম্বরে শেষ সাপ্তাহে ‘নির্বাচন’ এর বার্তা দেন। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চার ওপর রাখছে সজাগ দৃষ্টি। আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ও দিল্লি ‘ছাতা তুলে নেয়ায়’ এবার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর মতো নির্বাচনের নামে জনগণকে ‘বায়স্কোপ’ দেখানো, ‘প্রার্থী ভোটার বিহীন পাতানো নির্বাচন’ বা সিটি কর্পোরেশনের মতো ‘নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন’ সম্ভব নয়। অথচ নির্বাচনের ইশান কোণে এখনো কালো মেঘের ঘনঘটা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছেন, এ অবস্থায় সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে সব পক্ষ্যের উচিত কমন গ্রাউন্ডে আসা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারীর মতে ‘সুযোগ থাকতেই আওয়ামী লীগের উচিত সংলাপের সুযোগ নেয়া। ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলো যদি মাঠে নামে তাহলে ২০০৭ সালে বিএনপির মতোই আওয়ামী লীগকে আমছালা দুটোই হারাতে হবে।
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া যেনতেন ভাবে ক্ষমতায় আসার বিকল্প পথ খোলা নেই এই বাস্তবতা বুঝেই ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে ‘নির্বাচনে এবার জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় আসতে হবে’। দেশি-বিদেশী সব মহলেই নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে; কিন্তু এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরি হয়নি। নির্বাচনী প্রচারণাও চলছে একপক্ষীয়। এ অবস্থায় ‘ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ আবিস্কার, সিইসির ‘কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য’ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়ির প্রতিযোগিতা চলছে। আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে ‘ক্ষমতা তো গেল, বেরোবেন কোন দিক দিয়ে’ হুমকি দেয়া হয়েছে। বিএনপি বলছে অক্টোরবকে কেন্দ্র করে তারা দল গুছিয়ে আনছেন। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন-এ দুই ইসু্যুতে আন্দোলনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করছে দলটি। তৃণমূল নেতাদের মতামতের ভিত্তিতেই এ রোডম্যাপ করা হয়। দলটি মাঠে নামার টার্গেট অক্টোবর করলেও পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে রাজপথে নামবে দলটি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এই অবস্থায় সবার উচিত মাথা ঠান্ডা রেখে নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপির উচিত একগুঁয়েমি, গোয়ার্তুমির বদলে দায়িত্বশীল কথাবার্তা এবং আচরণ করা; যাতে সংলাপে জনগণের ভোট দেয়া নিশ্চিত করার পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে নির্বাচনের আয়োজন করা সম্ভব হয়।
দেশের বুদ্ধিজীবী, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, ঢাকায় কর্মরত বিদেশী কূটনীতিক, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল সব সময় বলছেন, সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ সৃস্টি করা হোক। তাদের কথায় ভ্রুক্ষেপই করছে না ক্ষমতাসীন দল। অথচ বুদ্ধিজীবীরা বলছেন, সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন ইস্যুতে এই মূহুর্তে সংলাপ অপরিহার্য। কয়েকটি দলের নেতার সঙ্গে বৈঠকের জন্য গত সাপ্তাহে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দৌঁড়ঝাপের প্রেক্ষিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘টেলিফোন পেলেই আলোচনার ব্যাপারে সাড়া দেব। আমরা আলোচনার জন্য মুখিয়ে রয়েছি’। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শর্ত দিয়ে কোনো আলোচনা হবে না’। পরবর্তীতে তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছ মন নিয়ে বিএনপি আলোচনার জন্য আসুক তাহলে আমরা সেই আলোচনার জন্য সব সময় প্রস্তুত। শর্তছাড়া রাজী হলে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হতে পারে’। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘শুন্য টেবিলে তো আর আলোচনা হয় না। এ জন্য সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু থাকতে হবে। একটা সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে আলোচনা হওয়া দরকার সেই আলোচনার জন্য বিএনপি সব সময় প্রস্তুত’। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। আলোচনায় আসতে হলে আগে ষড়যন্ত্র ছাড়েন, তার পরে আলোচনায় আসতে হবে’। বড় দুই দলের নেতাদের মধ্যে এই যে বিতর্ক সবগুলো নির্বাচনকে ইস্যু করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আতাউর রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নূরুল আলম ব্যাপারী, প্রবীণ রাজনীতিক পঙ্কজ ভট্টচার্য, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমদ, মন্ত্রিপরিষদের সাবেক সচিব ড. সাদাত হুসেইন, সুজনের সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ কয়েকজন বরেণ্য ব্যাক্তির সঙ্গে এ প্রসঙ্গে আলাপে তাঁরা জানান, শর্ত না থাকলেও সংলাপে এজেন্ডা থাকতে হয়। নির্বাচন ইস্যুতে আলোচনা হওয়া জরুরী। যুদ্ধক্ষেত্রেও আলোচনা হয়। ২০০৭ সালে আবদুল জলিল বনাম আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, ২০১৩ সালে ফার্নান্দেজ তারানকোর মধ্যস্ততায় সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বনাম মির্জা ফখরুল ইসলামের সংলাপ সফল হয়নি বলে এখন সংলাপ সফল হবে না মনে করার কারণ নেই। বরং সংলাপেই হবে সব সমস্যার সমাধান। অবশ্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, সংলাপ সফল হলে তা হবে মির‌্যাকেল। সেটা জাতির জন্য ভাল।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও জনগণের ভোটের অধিকারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের এখন সজাগ দৃষ্টি। কিছুদিন আগে ঢাকায় সফর করে গেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতরেস। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখার জন্য তিনি বাংলাদেশে এলেও সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বার্তা দিয়ে গেছেন। ঢাকা ঘুরে গেলেন কমনওয়েলথ মহাসচিবও। একাদশ নির্বাচনের ৬ মাস আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ইস্যুতে দনমপীড়ন এবং হেলমেট পড়ে পুলিশের ছত্রছায়ায় ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তান্ডব আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইস্যুটি নিয়ে বিশ্বের প্রভাবশালী মিডিয়াগুলো সজাগ। বিশেষ করে দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেফতারের পর দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক হচ্ছে। আল জাজিরা টিভিতে একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে তাকে গ্রেফতার হয়। তাঁর মুক্তি দাবি করেছেন দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ২৪টি সংগঠন। তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়ে গার্ডিয়ান পত্রিকাসহ আন্তর্জাতিক মানের অনেক পত্রিকা সম্পাদকীয় এবং মন্তব্য প্রতিবেদন লেখা হয়েছে। তাঁরসহ বাংলাদেশের সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবী জানিয়ে ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইন্সটিটিউট (আইপিআই) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। যে বিশিষ্টজনের কথাবার্তাকে আন্তর্জাতিক মহল গুরুত্ব দেয় সেই বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মী নোয়াম চমস্কি, অরুন্ধতী রায়সহ একদল বুদ্ধিজীবী শহিদুল আলমের গ্রেপ্তারে নিন্দা জানিয়ে মুক্তির দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন। ভারতের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী রঘু রাই বন্দী শহিদুলকে একজন সত্যনিষ্ঠ ও দেশপ্রেমী হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খোলা চিঠি লিখেছেন। ভারতের সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীরা কলকাতায় সাংবাদিকরা ‘শহিদুলের মুক্তি চাই’ ব্যানার টানিয়ে নীরব প্রতিবাদ করেছে। ভারতের সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন দি এডিটরস গিল্ড অব ইন্ডিয়া বিবৃতিতে শহীদুলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। এগুলো সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেশ যখন অচল তখনই ঢাকায় কর্মরত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বøুম বার্নিকাটের গাড়ীতে হামলার ঘটনা ঘটে। অনভিপ্রেত এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল আরো সজাগ হয়ে উঠে। এ অবস্থায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আমার মোবাইলে এসএমএস দিয়ে বলা হয়েছে- ‘ক্ষমতাতো গেল, বেরুবেন কোন দিক দিয়ে!’ তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুত্বর অভিযোগ তুলে বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে সঙ্গে নিয়ে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করছেন। ড. কামাল সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে নিয়ে জুডিশিয়াল ক্যু’র চেষ্টাও করেছে’। গতকাল ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাতের অন্ধকারে গোপন বৈঠক, আমরা জানি কোথায় কারা কারা বৈঠক করছেন। টেমস নদীর পাড়ে কখন কার সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে; ব্যাংকক, দুবাইয়ে বসে কারা কোন গডফাদারের সঙ্গে বৈঠক করছেন। দেশেও রাতের অন্ধকারে বসে কোন বৈঠক হচ্ছে সব আমাদের নলেজে আছে। ধৈর্য ধরে আছি, মনিটর করছি। আরও খোঁজ খবর নিচ্ছি। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে’। পক্ষান্তরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, ষড়যন্ত্র গুজব এগুলো হয় মানুষকে কথা বলতে না দেয়ায় জন্য। সরকার জনগণের কথা বলতে দিচ্ছে না। মানুষকে কথা বলতে দিন, মিডিয়ায় লিখতে দিন গুজব থাকবে না। এরই মধ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পাগলা কুকুর কামড়ালে জলাতঙ্ক রোগের সৃষ্টি হয়। আমি জানতে চাই বিএনপি কি পাগলা কুকুর?’ ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের এই সব কথাবার্তায় বোঝা যায় তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে চরম অস্থিরতা।
জানতে চাইলে প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, দুই দল চাপের মুখে রয়েছে। দেশ যে সংকটে রয়েছে তা পরিস্কার। এখান থেকে বের হতে হলে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনিবার্য। নির্বাচনই দিতে পারে সমস্যার সমাধান। যেমন পাকিস্তান ও নেপালে দিয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরি করতে এখন তাদের উচিত সংলাপের কমন গ্রাউন্ডে আসা। শর্ত না দিয়েও দুই দল বিশেষ ইস্যুতে সংলাপে বসে ঐতমত্যে আসতে পারে। মিরাক্যাল ভাবে সংলাপ সফল হলে দেশের জন্য ভাল হবে। জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা পাবে।
ঐক্য ন্যাপের আহবায়ক পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া সমস্যার সমাধান হবে না। নির্বাচনের ব্যাপারে জাতীয় ঐকমত্যে আসতে হবে। শুধু টেলিফোনে সংলাপ না মুখোমুখি সংলাপ এ নিয়ে বিতর্ক করে একে অন্যের সঙ্গে দূরত্ব, বিভাজন বাড়িয়ে লাভ নেই। সংলাপ রাজনৈতিক কালচার। অথচ এখন রাজনীতিতে লাঠি-দা-কুড়াল-খুন্তি-হাতুড়ি’র সংস্কৃতি আমদানী করা হয়েছে। যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকে তাদের নৈতিক দায়িত্ব সংকট সমাধানে সবার সঙ্গে আলোচনার পথ সৃষ্টি করা। সেটা না করে শুধু বিতর্ক করা হচ্ছে। সংকট সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিগুলোকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী বলেন, আওয়ামী লীগের উচিত সময় থাকতে সংলাপের সুযোগ নেয়া। না হলে ২০০৭ সালে বিএনপির মতো তাদেরকে আমছালা দু’টোই হারাতে হবে। সরকার জানে তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। গণবিচ্ছিন্ন দলকে বিদেশীরা সার্পোট করে না। আর আওয়ামী লীগের এখন ভয় বিদেশী শক্তি। ১/১১ যে সুবিধা আওয়ামী লীগ পেয়েছে তা বিদেশী শক্তির জন্যই। বিদেশী শক্তিগুলো একই প্রক্রিয়ায় সব সময় ঘটনা ঘটায় না। বার্নিকাটের ওপর হামলা যেনম বিচ্ছিন্ন কিছু নয় তেমনি ড. কামাল হোসেনদের বক্তব্য খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করলো তা বিশ্বে নজীরবিহীন। নেতৃত্ব ছাড়াই এতো বড় আন্দোলন বিশ্বের কোথাও হয়নি। যে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলো তারা আগামী ৫০ বছর দেশে ভোটে থাকবে; নেতৃত্ব দেবে। এরা আওয়ামী লীগকে পজেটিভি ভাবে নেবে না। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের উচিত গোয়ার্তুমি না করে সমঝোতায় যাওয়া। সংকটের সমাধান কেবল করতে পারে অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1145 বার