বিপরীত মেরুতে দু’দল

Pub: সোমবার, আগস্ট ২৭, ২০১৮ ১:৩৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, আগস্ট ২৭, ২০১৮ ১:৩৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যুগান্তরের মুখোমুখি হন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংলাপ, নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে পৃথকভাবে তারা খোলামেলা আলোচনা করেন। ওবায়দুল কাদের স্পষ্ট জানান, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন। আর বিএনপি মহাসচিব বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নয়, নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। প্রধান দুই দলের শীর্ষপর্যায়ের দুই নেতার বিপরীতমুখী এমন অবস্থানে আগামী দিনের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হতে পারে বলে ইতিমধ্যেই শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই

বিএনপি অংশ না নিলেও নির্বাচন বন্ধ থাকবে না : ওবায়দুল কাদের

অক্টোবরে মন্ত্রিসভার আকার ছোট হচ্ছে, থাকছে না বিএনপি * খালেদা জিয়া কারাগারে থাকবেন কী থাকবেন না, তা আদালতের সিদ্ধান্ত * বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সুযোগ ও সময় নেই * নির্বাচনে সেনাবাহিনী থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে

ডেস্ক নিউজ :আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দলটির সঙ্গে সংলাপের এখন সময় নেই, সুযোগ নেই, প্রয়োজনও নেই। বিএনপি অংশ না নিলেও নির্বাচন বন্ধ থাকবে না, নির্বাচনের ট্রেন চলতে থাকবে। ওই নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী থাকবে। সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সোমবার যুগান্তরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, দেশের চলমান রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের আরও জানান, আগামী অক্টোবরে মন্ত্রিসভার আকার ছোট করা হবে। নির্বাচনকালীন ওই মন্ত্রিসভায় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলের বাইরে কারও থাকার সুযোগ নেই। আগামী নির্বাচনে জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য কোনো এমপিকে মনোনয়ন দেয়া হবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আরেকটি ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করতে দেশে-বিদেশে গোপন বৈঠকের খবর সরকারের নজরে আছে। এ বিষয়ে সরকার সতর্ক আছে। প্রসঙ্গত, ৩১ অক্টোবর থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হচ্ছে। অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের শুরুতে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও ডিসেম্বরের শেষদিকে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরুর আগে বর্তমান মন্ত্রিসভার আকার ছোট করার কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনকালীন সরকারে কারা থাকছেন, বিএনপিকে রাখা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের সময় বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার থাকবে, নতুন কোনো সরকার হবে না। আমি যতটুকু জানি, অক্টোবরে সরকারের আকার ছোট হবে। ওই সরকারে কারা কারা থাকবে তা প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্ধারণ করবেন। সংসদে যাদের প্রতিনিধিত্ব নেই, তাদের কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখার সুযোগ নেই। গত নির্বাচনে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যন্ত অফার করা হয়। এবার তাদের প্রতিনিধিত্ব নেই। নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার জন্য সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলের বাইরে কারও নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার সুযোগ নেই।

নির্বাচনকালীন সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই সরকার গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা বাস্তবায়ন করবে না। ওই সময়ে নির্বাচন কমিশনকে ক্রেডিবল (গ্রহণযোগ্য), পার্টিসিপেটরি (অংশগ্রহণমূলক) ও ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন করার বিষয়ে সহযোগিতা করবে। সেই সময়ে নির্বাচন সংক্রান্ত সব দায়িত্ব থাকবে নির্বাচন কমিশনের ওপর। নির্বাচন সংক্রান্ত দফতর-উপদফতর যেমন আইন প্রয়োগ- এসব বিভাগ নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যাবে। শুধু সেনাবাহিনী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা না হওয়ায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত হবে না। ইসি জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনবোধ করলে সরকারকে অনুরোধ করতে পারবে, তখন সরকার প্রয়োজন মনে করলে যেভাবে সেনা মোতায়েন করা দরকার সেভাবে করবে অথবা করবে না। তবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে অবশ্যই সেনাবাহিনী আগের মতোই মোতায়েন করা হবে।

নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সম্প্রসারণ হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৪ দলীয় জোটে নেই অথচ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আমি নিজেই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে গিয়েছি, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে ৮টি বামদলের জোট রয়েছে। তারা আমাকে জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক দল আছে এমন কোনো জোটে যাবেন না। আবার আওয়ামী লীগের জোটে আসবেন এমন কোনো আশ্বাসও দেননি। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, যুক্তফ্রণ্টের নেতা মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের সঙ্গে আমার ফোনালাপ হয়েছে। তিনি সরকারের সঙ্গে বসতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার সঙ্গে যে কোনো সময়ে আলাপ-আলোচনা করতে পারি। এসব বিষয় আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে আছে, ফাইনাল শেপ নেয়নি। ফাইনাল শেপ না হওয়া পর্যন্ত আমি বলতে পারি ওমুক জোটে আসছেন, ওমুক আসছেন না।

তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, আর বিএনপি নির্বাচনে এলে জাতীয় পার্টি আমাদের জোটে থাকবে। সময়ে সময়ে রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ হতে পারে।

বিএনপি অংশগ্রহণ না করলে আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে কী?- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি না এলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অভাব হবে না। নির্বাচনে আসা বিএনপির অধিকার। বিএনপি সেই অধিকার প্রয়োগ করবে কিনা- তা তাদের ব্যাপার। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে না। বিএনপি না এলে নির্বাচন বন্ধ থাকবে না, নির্বাচনের ট্রেন চলতে থাকবে। খালেদা জিয়ার কারামুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকবেন কী থাকবেন না, তা আদালতের সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে সরকারের কিছুই করার নেই। নির্বাচন করার বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে। আর বিএনপির আরও নেতা আছে, তারাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপির কী একজনই নেতা? আরেকজন তো লন্ডনে।

বিএনপির কোনো অংশ সরকারি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি পার্টির সেক্রেটারি, যোগাযোগ করলে আমার সঙ্গে করত। তবে কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের কোনো কোনো নেতার সঙ্গে দেখা হয়েছে, টুকটাক কথা হয়েছে, ফোনালাপ হয়নি।

এ সময় তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে আমি ফোন করে শোক জানিয়েছি। সৈয়দপুরে একই বিমানে যাওয়ার কথা থাকলেও ফখরুল ইসলাম বিমান চেঞ্জ করে অন্য বিমানে গেছেন। এক বিমানে গেলে কিছু কথা বলা যেত। তবে তিনি (মির্জা ফখরুল) কখনও আমাকে ফোন করেননি। অনেক সময় আমি যেচেই কথা বলেছি, কিন্তু তিনি তা করেননি। বিএনপির সংলাপে আগ্রহ নেই।

আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো সংলাপ করবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন সময় নেই, সুযোগ নেই, প্রয়োজনও নেই। বিএনপি নিজেই সংলাপ চাইলে আওয়ামী লীগ কী করবে- এর উত্তরে তিনি বলেন, এখন সময় নেই, সুযোগ নেই।

তৃতীয় পক্ষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে সংলাপের টেবিলে বসার উদ্যোগ নিলে কী করবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা বাস্তবতা অনুযায়ী, বিবেক অনুযায়ী যা করার করব। আর তৃতীয় পক্ষের এখানে প্রয়োজন নেই। এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ কেউ নিচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ে বিরূপ প্রভাব ফেলবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের এ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি মনে করি না। শিক্ষার্থীদের সব দাবি সরকার মেনে নিয়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন এলেই ধারণা ছিল তরুণ সমাজ ও নারীরা বিএনপিকে ভোট দেবে। কিন্তু গত কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে মনে করি, আগামী নির্বাচনে তরুণ সমাজ, প্রথম ভোটার ও নারীরা আওয়ামী লীগের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ার। নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন তা যৌক্তিক। এ সামাজিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেয়ার চেষ্টা পরিষ্কার হয়েছে। গুজব, গুঞ্জন ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তবুও প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পর তারা (শিক্ষার্থীরা) পড়ার টেবিলে ফিরেছে, নিজের ক্লাসে ফিরেছে। এ সময় মন্ত্রী সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত সাত বছরে তার নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন।

বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে সরকার বাধা দিচ্ছে- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার বা সরকারি দল বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে বাধা দিচ্ছে এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ থাকলে দিক। সরকার যদি বাধা দিত তাহলে বিএনপির নয়াপল্টনের কার্যালয় থেকে যে নোংরা, অশ্রাব্য, রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষায় দলটির নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন তা দিতে পারত কী? তারা প্রধানমন্ত্রীকে গালিগালাজ করছেন, ফ্রিস্টাইলে মিথ্যাচার করছেন কিন্তু সরকার কী তাদের মুখ বন্ধ করেছে, কারও মুখ বন্ধ করেনি।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা যখন তখন তোষামোদ করতে ভারত যায়। কয়েকজন নেতা দিল্লিতে পড়িমরি করে ছুটে যাচ্ছেন। ব্যাংককে তারা রেগুলার যাচ্ছেন। কে আসছেন কে যাচ্ছেন সেই তথ্য আমার কাছে আসছে।

গত (৫ জানুয়ারি) নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে বিএনপি-জামায়াত কী প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের কী প্ল্যান। আমরা সতর্ক আছি। ২০১৪ সালের মতো কিছু করতে গেলে দাঁতভাঙা জবাব দেব।

তিনি বলেন, বিএনপির ডাকে ৯ বছরে জনগণ সাড়া দেয়নি। তারা আন্দোলনে ব্যর্থ বলে কোটার ওপর ভর করে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে। তাদের সক্ষমতা মানুষ টের পায়নি। আন্দোলনের ডাক দিয়ে নেতারা এসি রুমে হিন্দি সিরিয়াল দেখে, কর্মীরা মাঠে থাকবে কেন? এখন তাদের এজেন্ডা হচ্ছে গুজব সন্ত্রাস।

বর্তমান অনেক এমপির বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ রয়েছে। আগামীতে এসব এমপিকে মনোনয়ন দেয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণের কাছে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা কতটা আছে তা দেখে মনোনয়ন দেয়া হবে। এমপিদের আমলনামা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে। ছয় মাস পরপর জরিপ রিপোর্ট আছে। সবকিছু দেখেশুনে মনোনয়ন দেব। জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য এমপিরা মনোনয়ন পাবেন না। বাদপড়া এমপিদের সংখ্যা এখন বলতে পারব না। একইভাবে আমাদের শরিক দলগুলোকেও বলেছি, জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য প্রার্থী নিয়ে এলে তা আমরা একসেপ্ট করতে পারব না। দলীয় কোন্দলের বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল। অনেক স্থানে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী আছে। কোথাও সমস্যা দেখা দিলে তাদের ঢাকায় ডেকে বা প্রতিনিধি পাঠিয়ে সমস্যার সমাধান করছি।

ওয়ান-ইলেভেনের বিষয়ে আপনি বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দিয়েছেন, আরেকটি ওয়ান-ইলেভেনের আশঙ্কা বা তথ্য আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আছে তো। অনেক স্থানে গোপন বৈঠক, প্রকাশ্য বৈঠক হচ্ছে। রেগুলার বৈঠক হচ্ছে। এসব খবর আমাদের কাছে আছে। গণতন্ত্র আছে বলেই আমরা বৈঠক থেকে কাউকে অ্যারেস্ট করিনি। এছাড়া ব্যাংককেও নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। ওই খবরও আমাদের কাছে আছে। আবার বৈঠকে যারা থাকছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমাদের তথ্য জানিয়ে দিচ্ছেন। তবে আমাদের জনমতের ভিত এত শক্তিশালী, নৈতিকতার ভিত্তি, প্রধানমন্ত্রীর সততার ভিত্তি এতই দৃঢ় যে আমরা এসব নিয়ে চাপ অনুভব করছি না।

ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবস্থা নেব কি নেব না তার জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের জানান, আওয়ামী লীগের দলীয় ইশতেহার তৈরি নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। এটা নিয়ে আমাদের প্ল্যান আছে। এখন এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না।

বিএনপি ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না : মির্জা ফখরুল

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন * চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না * আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপের প্রস্তাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই * নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে

সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র করছে- এমন অভিযোগ করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচনও আর হবে না। বিএনপি ছাড়া নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে না এবং দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না। অবিলম্বে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে যাওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে বলেও জানান ফখরুল।

রোববার উত্তরায় নিজ বাসায় যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। আগামী নির্বাচনসহ সমসাময়িক রাজনৈতিক নানা বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারা অন্তরীণ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বাইরে থাকার পরও সামনে থেকে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল। দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা ও নেতাকর্মীদের সক্রিয় এবং উজ্জীবিত করতে রাখছেন বিশেষ ভূমিকা।

এ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, দল পরিচালনায় এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। চেয়ারপারসনের পরামর্শ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় সিনিয়র নেতাদের মতামতের ভিত্তিতেই দল পরিচালিত হচ্ছে। আমরা এখন আগের থেকে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ।

খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচেন যাবেন কি না- জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, চেয়ারপারসনকে ছাড়া নির্বাচনে যাব, সেরকম সিদ্ধান্ত আমরা এখনও নিইনি। নির্বাচনে আমরা তখনই যাব, যখন একটি পরিবেশ তৈরি হবে, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ)’ হবে। নির্বাচনে যাওয়ার পূর্বশর্তই হচ্ছে- চেয়ারপারসনের মুক্তি। নির্বাচনকালীন একটি সরকার গঠন করতে হবে, যারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। সব দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে। যারা বন্দি আছে, তাদের মুক্তি দিতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নতুন কোনো মামলা দেয়া যাবে না। বলতে পারেন, এগুলো আমাদের শর্তও। এসব না হলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো সদিচ্ছা ও লক্ষণ এখন পর্যন্ত সরকারের দেখা যাচ্ছে না। উল্টো তারা এটাই চাচ্ছে বিএনপি যাতে নির্বাচনে না আসে। তারা ভিন্ন মতকে দমন করে, স্টিমরোলার চালিয়ে এককভাবে নির্বাচন করতে চায়। সেটাই হচ্ছে তাদের লক্ষ্য।

মির্জা ফখরুল বলেন, তারা আশা করেন যে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান দেখিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। রাজনৈতিক সংকট নিরসনে এটাই একমাত্র পথ।

ফখরুল বলেন, ২০১৪’র জানুয়ারিতে প্রহসন ও তামাশার নির্বাচন করে তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গণবিচ্ছিন্ন হয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য তারা আবারও একতরফা নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামী লীগ প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বিরোধী দলকে দমনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে, এ সরকারের অধীনে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

ফখরুল বলেন, গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গণতান্ত্রিকভাবে আমাদের এসব দাবি বাস্তবায়নে কাজ করে যেতে হবে। অন্য কোনো পথে যাওয়ার মতো দল আমরা নই। দাবি আদায়ে বিএনপিকে রাজপথে দেখা যেতে পারে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের দাবিদাওয়া নিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে। আমরা আন্দোলনের মধ্যে আছি। কখনও রাজপথে থাকি, কখনও থাকব না- এটাই আন্দোলন।

সংকট নিরসনে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপের কোনো আহ্বান জানাবেন কি না- জানতে চাইলে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, আপাতত আমাদের এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

বিএনপি নির্বাচনে না এলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে- সরকারি দলের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল বলেন, এটা সরকারের ধারণা। বিএনপি ছাড়া দেশে এমন কোনো দল নেই যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। বিএনপি ছাড়া কোনো নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে না, সোজা কথা।

বিএনপির সঙ্গে সংলাপ বা সমঝোতার সুযোগ নেই- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে ফখরুল বলেন, তিনি (ওবায়দুল কাদের) কী বললেন, না বললেন, তাতে সবসময় বাংলাদেশের রাজনীতি নির্ভর করে না। তিনি ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক, যারা এরই মধ্যে জনগণের ঘৃণার পাত্র হয়েছেন। তাদের শাসনামলে দেশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। তাদের হাত থেকে জনগণ নিস্তার চায়, মুক্তি চায়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নৈতিকভাবে কোনো ভিত্তি নেই। তাদের নৈতিক কোনো বৈধতাও নেই। তারা গণবিচ্ছিন্ন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্রয়ে তারা টিকে আছে। রাজনৈতিকভাবে তারা দেউলিয়া হয়ে গেছে। এটা দুঃখজনক। আওয়ামী লীগের মতো একটি দলকে র‌্যাব-পুলিশ, বিজিবির সহায়তায় দেশ চালাতে হয়। এটা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।

নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপিকে নেয়া হবে না- সরকারের মন্ত্রীদের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা তো নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকার চাচ্ছি। যারা নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে।

সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে ফখরুল বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি পূরণে আমরা বৃহত্তর ঐক্য গড়ার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলছি। ওইসব দলের নিজস্ব চিন্তাভাবনাও রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি কয়েকটি ইস্যুতে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা যায় কি না। এ ব্যাপারে কয়েকটি দলের সঙ্গে কথা বলেছি। বলা যায়, এটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ঐক্য প্রক্রিয়া সফল হবে কি হবে না, তা বলার সময় এখনও আসেনি।

বিএনপি নির্বাচনের জন্য কতটা প্রস্তুত জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সবসময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি। বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচন করার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকে। ২০০৮ সালে মাত্র ১২ দিনের নোটিশে আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।

রাজপথে আন্দোলনে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে, সামনের আন্দোলনে সাংগঠনিকভাবে কতটা প্রস্তুত- এ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, বিএনপি বর্তমানে সাংগঠনিকভাবে অতীতের চেয়ে অনেকটা শক্তিশালী। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ আছেন। গত কয়েক বছরে রাজপথে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি দল পুনর্গঠনের নজর দেয়া হয়েছে। অনেকটাই গুছিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, আন্দোলন সবসময় কমিটির ওপর নির্ভর করে না। বাংলাদেশের কোন আন্দোলন কমিটির ওপর নির্ভর করে হয়েছে। আন্দোলনের দাবিদাওয়া যদি জনসম্পৃক্ত হয়, জনগণ যদি সমর্থন করে, তবে আন্দোলন সফল হবেই। আমাদের দেশে সব আন্দোলনেই মূল ভূমিকা পালন করেছে জনগণ।

আরপিওতে ইভিএম অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ইভিএম নিয়ে শুধু আমরা নই, অনেক দলই আপত্তি জানিয়ে আসছে। তারপরও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার গ্রহণযোগ্য হবে না। হঠাৎ করে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্তটি প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ এ কমিশনই শপথ নেয়ার পর বলেছিল, জাতীয় নির্বাচনে তারা ইভিএম ব্যবহার করবে না। সেই অবস্থান থেকে সরে নির্বাচনের তিন-চার মাস আগে ইভিএম ব্যবহারের কথা বলছে। এতে সবার সন্দেহ বাড়ছে। ইভিএমের যেসব দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে একতরফা নির্বাচনে সরকারকে সাহায্য করতেই এটা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের আবারও ‘ওয়ান ইলেভেনের’ আশঙ্কা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেন’ তৈরি করেছিল আওয়ামী লীগ। তারা এটার ফল ভোগ করছে। এখন আবার কেন তারা আরেকটি ‘ওয়ান-ইলেভেনের’ আশঙ্কা করছেন, সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন।

২১ আগস্টের হামলার সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কোনোমতেই এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। ভবিষ্যতেও কোনো দিন থাকবে না। বিএনপিকে একটা সংকটে ফেলানোই হচ্ছে এ মামলার মূল উদ্দেশ্য। এ মামলায় তিনবার আইও পরিবর্তন হয়েছে। ৬১ জনের সাক্ষীকে জেরা করার পর নতুন করে পুনঃতদন্ত করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্যই হচ্ছে- তারেক রহমান ও বিএনপিকে এর মধ্যে জড়িত করা। এখন চেয়ারপারসনকে নিয়ে নানা মন্তব্য করা হচ্ছে। যার বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই।

জামায়াত ছেড়ে দিতে কোনো চাপ আছে কি না- জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, আমাদের কাছে এমন কোনো চাপ নেই। তাছাড়া জামায়াতের সঙ্গে আমাদের আদর্শগত কোনো জোট হয়নি। তারা আলাদা দল, আমরা আলাদা দল। এটা নির্বাচন ও আন্দোলনের জোট। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগও একসময় জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করেছে। আমাদের জামায়াত ছেড়ে দিতে বলছে, তাহলে সরকার কেন জামায়াত নিষিদ্ধ করছে না।

ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে- এমন বার্তা নিয়েই ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে জানিয়ে ফখরুল বলেন, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে- এটাই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের মূল বার্তা। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করতে আমরা বিভাগীয় শহরে সফরে যাওয়ারও চিন্তাভাবনা করছি।যুগান্তর

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1102 বার

আজকে

  • ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ১৫ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 
 
 
 
 
আগষ্ট ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« জুলাই   সেপ্টেম্বর »
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com