ঈদ যাতায়াতে সেই একই ভোগান্তি

Pub: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৮, ২০১৮ ৮:৫৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৮, ২০১৮ ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঈদের ছুটি শেষে আবারও পুরনো রূপে ফিরতে শুরু করেছে কর্মব্যস্ত নগরী ঢাকা। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন ঈদ শেষে সড়ক, নৌ ও রেলপথে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে।

গত শনি ও রোববার রাজধানী অভিমুখেও যেন মানুষের ঢল নেমেছিল। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার পথে ভোগান্তির পর ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতেও পদে পদে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে ঢাকামুখী লোকজনকে।

রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট, রাস্তার বেহাল দশা আর ছোট ছোট দুর্ঘটনার কারণে সড়ক পথে ছিল অসহনীয় ভোগান্তি। ট্রেন আর নৌপথেও ঠাঁই নেই, ঠাঁই নেই অবস্থাসহ ছিল ভয়াবহ সিডিউল বিপর্যয়।

মহাসড়কে মাইলের পর মাইল যানজট

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার নাটিয়াপাড়া থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের আগে-পরে প্রতিদিনই ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার তীব্র যানজট দেখা গেছে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা।

মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই হাইওয়ে থানার পুলিশ ও মির্জাপুর থানা পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এবার ব্যাপব যানজট দেখা গেছে। মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস, দেওহাটা ও জামুর্কী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো মহাসড়ক।

গ্রামের বাড়ি যাবার পথে যেমন ভোগান্তি হয়েছিল ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতেও চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

ঈদ যাত্রায় ঝরেছে শতাধিক প্রাণ

সড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল। ঈদের আগে-পরে বিগত দশ দিনে কমপক্ষে ঈদের দিনেও পৃথক পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের মতো।

বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় বগুড়ায় ৫ জন, সিরাজগঞ্জে ৩ জন, কুষ্টিয়া ৩ জন ও বরগুনায় একজন নিহত হয়েছেন। এরপর শনিবার দেশের চার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত হয়েছেন।

সবচেয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরে। জেলার লালপুর উপজেলার কদমসিলন এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বিকাল ৪টার দিকে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী লেগুনার সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন কমপক্ষে আরও ১৪ জন। এভাবে ঈদের আগে-পরে বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

আরেক হিসাব অনুযায়ী, ঈদের ছুটিতে মাত্র চারদিনে দেশের ১৬ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ সময় আরও অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন।

গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত চার দিনে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে শুক্রবার বিকালে ফেনীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় বাসের নিচে পড়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ৬ যাত্রী নিহত হয়েছেন।

এদিকে ঈদুল আজহার আগে ও পরে নরসিংদী, নাটোর, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে গত শনিবার সন্ধ্যায় এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সফিকুল ইসলামকে ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, ২০১৭ সালের ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২৮ আগস্ট এবং কর্মস্থলে ফেরার শেষ দিন ৯ সেপ্টেম্বর। মোট ১৩ দিনে ২১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৪ জন নিহত ও ৬৯৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

একই সময় নৌপথে ১৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছেন। এসময়ে রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে ৪৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের কোনো পরিসংখ্যান এখনও তারা প্রকাশ করেননি।

টিকিট সংকট

ঈদ যাত্রায় এবার সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে টিকিট সংকটের বিষয়টি। ঈদের আগে বাস এবং ট্রেনের টিকিটে ব্যাপক সংকট ছিল বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা গেছে ট্রেনের এসি টিকিট প্রাপ্তিতে।

অভিযোগ আছে, ট্রেনের এসি টিকিটের অধিকাংশই চলে যায় ভিআইপিদের দখলে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পাননি এসি টিকিট। অন্যদিকে ট্রেনের নরমাল টিকিট উচ্চমূল্যে পাওয়া গেছে কালোবাজারে।

বিশেষ করে ১৯ ও ২০ আগস্টের ট্রেনের ৩০০/৪০০ টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। ফিরতি পথেও অধিকাংশ টিকিট চলে যায় সিন্ডিকেটের দখলে। পরে সেটা উচ্চমূল্যে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করা হয়।

রফিক সালেহীন অভিযোগ করেছেন, অনেক চেষ্টা করেও তিনি বাস বা ট্রেনের কোনো টিকিট ম্যানেজ করতে পারেননি। পরে তিনি নীলফামারী থেকে ২৭ তারিখের নন এসি ৫০০ টাকা মূল্যের টিকিট কিনেছেন ১৩০০ টাকায়।

বাসের টিকিটের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে চরম সংকট। কাউন্টারে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইনে পাওয়া গেছে বাসের ফিরতি টিকিট।

এক ধরনের অসাধু টিকিট ব্যবসায়ী অনলাইনে রাত জেগে প্রয়োজনের বেশি টিকিট সংগ্রহ করেন। পরে সেটি উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হয়। অভিযোগ আছে, অসাধু টিকিট বিক্রেতারা এবার ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপের পোস্ট দিয়ে উচ্চমূল্যে টিকিট বিক্রি করেছেন।

ফিরতি ট্রেনেও বিলম্ব, ভোগান্তি

রাজধানীতে ভোগান্তি নিয়েই ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ। বিশেষ করে ট্রেন যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঈদের ছুটির সঙ্গে শুক্রবার ও শনিবার ছুটি শেষে রোববার সকাল থেকেই বাস, ট্রেন ও লঞ্চঘাটে মানুষের ভিড় দেখা যায়।

ঈদুল আজহার আগে রেলের সূচিতে যে বিপর্যয় দেখা গিয়েছিল, ঈদের বিরতির পর সেই একই চিত্র দেখা গেল। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকায় ফেরা মানুষ।

এ অঞ্চলের প্রতিটি ট্রেনই দুই থেকে তিন ঘণ্টা বেশি দেরিতে ঢাকায় এসেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ট্রেনে যাত্রী বেশি থাকায় ট্রেনগুলোকে ধীরগতিতে চালাতে হয়েছে এবং স্টেশনে ২ মিনিটের জায়গায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট দেরি করতে হচ্ছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার নৃপেন্দ্র চন্দ্র সাহা জানান, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ১৮টি ট্রেন এসেছে কমলাপুর স্টেশনে। তার মধ্যে সূচি বিপর্যয়ে পড়েছে নীলসাগর এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, লালমনি স্পেশাল ট্রেনগুলো।

নীলসাগর ২ ঘণ্টা ৫০ মিনিট এবং একতা এক্সপ্রেস ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট দেরি করে প্ল্যাটফরমে এসেছে। লালমনি স্পেশাল সকাল সোয়া ৯টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা কিন্তু বিকাল সাড়ে ৩টায়ও সেই ট্রেন ছাড়েনি।

রাজশাহীগামী সিল্ক সিটি সকাল ৯টায় ছাড়ার কথা কিন্তু বিকাল সাড়ে ৩টায়ও ছাড়েনি। তিনি জানিয়েছেন, ফিরতি পথে যাত্রীদের সুবিধার জন্য নীলসাগর এক্সপ্রেস ও সিল্ক সিটির কর্মীদের ছুটি আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।

শনিবার রাতে নীলফামারির ডোমার উপজেলা থেকে নীলসাগর এক্সপ্রেসে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দেন একটি বেসরকারি ফার্মে কর্মরত ফেরদৌস হাবীব স্বপ্নীল।

রোববার দুপুরে যুগান্তরকে তিনি বলেন, সাধারণত রাত দশটায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ডোমার ছেড়ে যায়। কিন্তু শনিবার দিবাগত রাতে ট্রেনটি ছেড়েছে রাত একটায় আর ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছেছে রোববার দুপুর দেড়টায়। ট্রেনে ঢাকাগামী মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল বলেও জানান তিনি।

সর্বোপরি ঈদের ছুটি শেষে ঢাকামুখী ট্রেনগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদ, ইঞ্জিন ও দুই বগির সংযোগস্থলে বসে এবং দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ কর্মস্থলে ফিরছেন। পরিবহন ক্ষমতার প্রায় তিনগুণ যাত্রী নিয়ে চলছে একেকটি ট্রেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক পথের বেহাল দশার কারণে ট্রেনে যাত্রীর চাপ পড়ছে বেশি।

ঘাটে ঘাটে বিড়ম্বনা

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে জীবিকার টানে ঢাকায় ছুটতে শুরু করেছে মানুষ। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বারখ্যাত রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে মানুষের ব্যাপক চাপ বেড়েছে।

রোববার সকালে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট লোকে লোকারণ্য। তিল ধারণের জায়গা নেই। উপচেপড়া ভিড় ফেরিঘাটেও। একইসঙ্গে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে নদী পারাপারের অপেক্ষায় দেখা যায় প্রায় ৫ শতাধিক যানবাহন।

জানা গেছে, যানবাহনের বাড়তি চাপ থাকলেও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক থাকায় যানবাহনের সিরিয়াল দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। কিন্তু নদীতে স্রোত থাকায় পারাপারে সময় লাগছে আগের তুলনায় দ্বিগুণ।

ঢাকাগামী যানবাহনের বাড়তি চাপের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরির জন্য অপেক্ষা করছেন পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীরা। যাত্রী ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনা করে বাস ও ছোট গাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করার কারণে ট্রাকগুলোকে আটকা থাকতে হচ্ছে দিনের পর দিন।

দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের ছুটি শেষে দৌলতদিয়া দিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। এজন্য মানুষ ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত মানুষ ও যানবাহনের চাপ সামলাতে প্রস্তুত রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কোনো ভোগান্তি বা অভিযোগ ছাড়া দৌলতদিয়া দিয়ে কর্মস্থলমুখী মানুষ গন্তব্যে যাচ্ছেন। কয়েকদিন যানবাহন ও যাত্রীদের বাড়তি চাপ থাকবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. রুহুল আমিন বলেন, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলমুখী মানুষ ফিরতে শুরু করায় দৌলতদিয়া ঘাটে অতিরিক্ত চাপ পড়েছে।

যে কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে কিছু যানবাহন ফেরি পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে রয়েছে। এর মধ্যে ছোট গাড়ির সংখ্যা বেশি। এই রুটে বর্তমান ছোট-বড় ১৯টি ফেরি রয়েছে। রো রো ফেরি শাহ আলী বিকল থাকায় ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। দু’তিন দিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

উত্তরবঙ্গে যেতে সময় লেগেছে ২৭ ঘণ্টা

এবারের ঈদ যাত্রায় সড়ক পথে ছিল ভয়াবহ যানজট। বিশেষ করে ঈদের একদিন আগে ঢাকা থেকে রংপুর ও রাজশাহীগামী বিভিন্ন রুটে দেখা গেছে ভয়াবহ যানজট। গত ২০ আগস্ট রাত আটটায় রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে নাবিল পরিবহনে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন বেলাল উদ্দীন।

একই দিন রাত দশটায় গাবতলী থেকে নীলফামারীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন হাসনা ইনি হিমি। এরমধ্যে চাকরিজীবী বেলাল গন্তব্যে পৌঁছান পরের দিন ২১ আগস্ট রাত ১২টায় আর হাসনা ইনি হিমি গন্তব্যে পৌঁছান রাত ১১টায়।

অর্থাৎ তাদের বাড়িতে পৌঁছাতে সময় লেগে যায় যথাক্রমে ২৭ ও ২৫ ঘণ্টা। প্রতিবেদকের নিজেরও দেশের বাড়ি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পৌঁছাতে সময় লেগেছে ২৬ ঘণ্টা। অথচ রাস্তা ভালো থাকলে স্বাভাবিকভাবে ঢাকায় যাতায়াত করতে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা।

দীর্ঘ এই যাতায়াতে দেখা গেছে, ঢাকার সাভার আসতেই সময় লেগেছে ৩ ঘণ্টা আর চান্দুরা পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে আরও তিন ঘণ্টা। অর্থাৎ প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকার প্রবেশপথগুলোতেই ছিল প্রধান যানজট।

এছাড়াও যমুনা ব্রিজের আগে ও পরে টাঙ্গাইল থেকে ফুড ভিলেজ রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত রাস্তায় মাইলের পর মাইল যানজট ছিল। এবার রাস্তার খানাখন্দের পাশাপাশি রাস্তায় অসংখ্য ছোট ছোট যানবাহন দেখা গেছে।

এছাড়াও রাজধানীর লোকাল বাসগুলোকে দেখা গেছে দূরপাল্লার যাত্রা পথে। প্রতিবেদক নিজেই রংপুর, দিনাজপুরে রাজধানীতে চলাচলকারী ঠিকানা পরিবহন, ভিআইপি, আকিকসহ বিভিন্ন বাস দেখেছেন।

পাশাপাশি ট্রাকে মানুষ পরিবহনের দৃশ্যটা দেখা গেছে আরও বেশি। চালকদের লেন মেনে না চলা, যানবাহন বিকল হয়ে যাওয়াসহ সড়ক দুর্ঘটনার কারণে রাস্তায় শতশত বাস আটকে থাকতে দেখা গেছে। সব মিলিয়ে ঈদযাত্রায় পদে পদে ছিল ভোগান্তি আর দুর্ভোগ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1085 বার