টার্গেট নির্বাচন রাজনীতিতে কৌশল পাল্টা কৌশলের খেলা

Pub: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ ১০:৫৪ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ ১১:০৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে নানামুখী তৎপরতা চলছে। এক দিকে ক্ষমতাসীন দল বিরোধীদের দাবি উপেক্ষা করে নিজেদের অধীনেই আরো একটি নির্বাচন করতে সম্ভাব্য সব ‘রাজনৈতিক কৌশল’ নিয়ে মাঠে নেমেছে। অন্য দিকে বিরোধী জোটগুলো একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের ওপর চাপ তৈরির ‘কার্যকর পদক্ষেপ’ নিতে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছে। সরকারের মতিগতি সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণে রেখেছেন বিরোধী নেতারা। তারা মনে করছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচনের কোনো সুযোগ এবার নেই। সরকারকে হয় সমঝোতার পথ বেছে নিতে হবে, না হলে দেশে সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতির মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকার ও নির্বাচন কমিশনে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। অক্টোবরে বিএনপিকে বাদ দিয়েই নির্বাচনকালীন একটি সরকার গঠনের ছোট্ট তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এমন পরিকল্পনা ঠিক থাকলে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে ডিসেম্বরের শেষে সপ্তাহে।

তবে দিন যত এগোচ্ছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে খালেদা জিয়ার মুক্তি, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের নানা দাবি-দাওয়া ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন সঠিক সময়ে হবে কি না সে ধরনের শঙ্কাও উঁকিঝুঁকি মারছে।

জোট-মহাজোটের বাইরে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এখন সক্রিয় রয়েছে মাঠে। গণফোরামের ড. কামাল হোসেন ও বিকল্প ধারার বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে এ দলগুলোর তৎপরতায় আগামী দিনের রাজনীতির নানা সমীকরণের বার্তা বহন করছে। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে তারা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে মাঠে নেমেছেন। বিএনপির সাথে জোট গড়ে তুলে দাবি-দাওয়াকে শক্তিশালী করতে চান তারা। এক্ষেত্রে বিএনপির কাছে তাদের কিছু চাওয়া পাওয়াও রয়েছে। যুক্তফ্রন্টের সদস্যসচিব মাহমুদুর রহমান মান্নার সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যে এর প্রমাণ মিলেছে। তিনি বলেছেন, ‘সর্বক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালুর ধারা তৈরি করতে বিএনপিকে দুই বছর ক্ষমতা তাদের হাতে ছেড়ে দিতে হবে।’ বিএনপির সাথে এসব দলের ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মিত্রতা গড়ে উঠেছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে জোটের বাইরে একটি বৃহত্তর ঐক্য গঠনেরও প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। সে ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দিতেও প্রস্তুত বিএনপি।

তবে দিন যত এগোচ্ছে নির্বাচনের পথে ‘খালেদা জিয়া’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। খালেদা জিয়াবিহীন নির্বাচন করার যে রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথা ভেসে বেড়াচ্ছিল, তা এখন বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বলে সূত্রগুলো বলছে।

জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের জন্য দণ্ডিত বেগম জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন। এ মুহূর্তে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দুইটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে। আরো কয়েকটি মামলায় বেগম জিয়াকে আসামি করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। এরই মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে কারাগারেই। দ্রুত এ মামলার শুনানি শেষ করার একটি প্রক্রিয়া চলছে বলে আইনজীবীরা বলছেন। এ মামলায় দণ্ডিত হলে বেগম জিয়ার মুক্তির সুযোগ আরো সঙ্কুচিত হয়ে যাবে। নির্বাচনে তার অংশ নেয়ারও কোনো সম্ভাবনা থাকবে না।

বিএনপি খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাবে কি না তা নিয়ে বেশ সংশয় রয়েছে। দলের চেয়ারপারসনের মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন- এ দুই ইস্যুতে আন্দোলনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করছে দলটি। তৃণমূল নেতাদের মতামতের ভিত্তিতেই এ রোডম্যাপ চূড়ান্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজধানীতে বড় শোডাউন করেছে তারা। খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ওই বিশাল সমাবেশ বিএনপির আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। দলটির নেতারা বলেছেন, চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে তারা এখন যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক বলেন, তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন ইস্যুতে সৃষ্ট সঙ্কট নিরসনে নানাভাবে সরকারকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হবে। সরকার শেষ পর্যন্ত সঙ্কটের সমাধান না করে একতরফাভাবে তফসিল ঘোষণা করলে এর প্রতিবাদে একযোগে মাঠে নামা হবে।

২০০৭ সালে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির আরেক নীতিনির্ধারক জানান, ওই সময় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে আওয়ামী লীগ। বিএনপির বাইরে থাকা প্রায় সব দল নিয়ে তারা রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলে। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবীরাও ওই আন্দোলনে যোগ দেন। একপর্যায়ে ওই সময় ঘোষিত নির্বাচনের দিনক্ষণ বাতিল হয়ে যায়। বিএনপির আন্দোলনও এবার অনেকটা ২০০৭ সালের মতো হতে পারে।

জানা গেছে, সরকারি দল আওয়ামী লীগ বিরোধী জোটগুলোর হুমকি-ধমকিকে প্রকাশ্যে তেমন পাত্তা না দিলেও আগামী দিনে পরিস্থিতি যে ঘোলাটে হতে পারে, তা তারা ঠিকই অনুমান করছে। এ কারণে মামলা ও গ্রেফতারের প্রাথমিক কৌশল প্রয়োগ করতে শুরু করেছে তারা। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে মামলা ও গ্রেফতারের এক ধরনের হিড়িক চলছে। বিরোধী জোটের তৎপরতা দেখে শাসক দল সামনের দিনগুলোতে নতুন নতুন কৌশল নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1170 বার