ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চরম আতঙ্ক ক্ষোভ-অসন্তোষ

Pub: মঙ্গলবার, অক্টোবর ৯, ২০১৮ ২:১০ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, অক্টোবর ৯, ২০১৮ ২:১০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শীর্ষ কাগজের সৌজন্যে: বিভিন্ন মহলের ব্যাপক আপত্তি ও মতামত উপেক্ষা করে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে  তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। একইসঙ্গে এই আইন নিয়ে চরম আতঙ্ক, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠাও দেখা দিয়েছে। নিবর্তনমূলক তথ্য প্রযুক্তি আইনের কুখ্যাত ৫৭ ধারা ইস্যুতে বিতর্কের মধ্যেই গত ১৯ সেপ্টেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে আরো একটি কুখ্যাত কালো আইন প্রণয়ন করলো সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আইন ৫৭ ধারার  চেয়েও উদ্বেগজনক। তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল করা হলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অনেক জায়গায় ৫৭ ধারার ভীতি আরও বেশিভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার প্রতিকারে কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। গণমাধ্যম কর্মীরা শুধুমাত্র আইনটির ৩২ ধারা নিয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এর বেশিরভাগ ধারাই স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের অধিকারের পরিপন্থি। বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, গণমাধ্যম শুধু  আইনটিকে ৩২ ধারার মধ্যে নিয়ে গেলো। আমার দৃষ্টিতে ৩২ ধারাটা তুলনামূলকভাবে কম বিপদজনক ধারা। এই আইনে যে আরও ভয়াবহ দিকগুলি আছে সে সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টি সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এই আইনের পরে হয়ত বাক স্বাধীনতা বলে আর কিছু থাকবে না। আমার মনে হয় এর পেছনে বড় উদ্দেশ্য ছিল কথা বলা বন্ধ করা। শাহদীন মালিক বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কিন্তু ভূমিকম্প হয়ে গেছে। বাক স্বাধীনতা শেষ হয়ে যাবে। এটা সাংঘাতিক ভয়াবহ অবস্থা হয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ আইনে কুখ্যাত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো চারটি ধারায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশকে পরোয়ানা এবং কারও অনুমতি ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই আইনে ঢোকানো হয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের সমালোচিত, কুখ্যাত আইন ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’। আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য। বিশ্বের যেকোনো জায়গায় বসে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক এই আইন লঙ্ঘন হয়, এমন অপরাধ করলে তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনে বিচার করা যাবে। এই আইনের অধীনে সংগঠিত অপরাধ বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে।
নিবর্তনমূলক এই আইন সংযোজনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, অংশীজনদের আপত্তি ও বিতর্কিত ধারাগুলো অপরিবর্তিত রেখে এই আইন পাস খুবই উদ্বেগজনক। আইনের ৮, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বেগ ও মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। যা তাদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
তারা বলছেন, প্রস্তাবিত আইনের ৩২ ধারার অপপ্রয়োগের ফলে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী দুর্নীতি প্রতিরোধক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত আইনি অধিকার ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হবে। ফলে এই ধরনের অপরাধের আরও বিস্তার ঘটবে। এ ছাড়াও অনুসন্ধানীমূলক সাংবাদিকতা ও যে কোনো ধরনের গবেষণামূলক কর্মকা- পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে। এই আইন দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দেবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে এমন একটি সময়ে এই আইন পাস হলো যখন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে সংবাদমাধ্যম একের পর এক দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করছে।
সাংবাদিকরা বলছেন, বিশ^ব্যাপী যখন সাংবাদিকতা ও মুক্ত মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুনিশ্চিত হচ্ছে ঠিক তখনই বাংলাদেশে এ ধরনের একটি আইন বিস্ময়কর ও হতাশার।
স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে সংকুচিত করার এই আইন নিয়ে আগ থেকেই সাংবাদিক মহলের তীব্র বিরোধিতা ছিলো। এ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে সাংবাদিক নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। খসড়া প্রণয়ন থেকেই সম্পাদক পরিষদ এর কড়া বিরোধিতা করে আসছে। দেশের শীর্ষ স্থানীয় সম্পাদকরা মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে নিবর্তনমূলক এই আইনের বিরোধিতা করেছেন। সাংবাদিকদের এই উদ্বেগ  দূর করার আশ্বাস সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হলেও তেমন কোনো পরিবর্তন না করেই গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাস করা হয়। এর প্রতিবাদে ২৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করে সম্পাদক পরিষদ।
সম্পাদক পরিষদের কর্মসূচি ঘোষণার পর ২৬ সেপ্টেম্বর বুধবার তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সম্পাদক পরিষদকে চিঠি দিয়ে কর্মসূচি স্থগিতের অনুরোধ জানান। সেই সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে নিয়ে সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দেন তিনি। সম্পাদক পরিষদ এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৯ টি ধারা নিয়ে সম্পাদক পরিষদের আপত্তির বিষয়টি মন্ত্রিসভায় আলোচনার জন্য তোলা হবে বলে সম্পাদক পরিষদকে আশ^াস দেন তিন মন্ত্রী। আইনমন্ত্রী  বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করার পর আবারও তারা সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বসবেন। আইনমন্ত্রী ছাড়াও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য সচিব আবুয়াল হোসেনও সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে এ রকম একটা আইন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে, আমরা সেই ঐকমত্যে পৌঁছেছি। কিন্তু এ রকম একটা আইন যেন সাংবাদিকতার স্বাধীনতা বা বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না করে- সেই ব্যাপারে কিছু প্রশ্ন আছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে আনিসুল বলেন, অন্যান্য ধারা নিয়ে কারও বক্তব্য নেই।
বৈঠক শেষে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আনাম আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ায় তথ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা মনে করি ডিজিটাল সিরিউরিটি অ্যাক্ট সংবিধানের ফান্ডামেন্টাল রাইটস, ফ্রিডম অব স্পিচ, ফ্রিডম অব প্রেস লঙ্ঘন করে। আমরা মনে করি মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ পেয়েছি, এটা সে বাংলাদেশের আদর্শের পরিপন্থি। আমরা মনে করি এটা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থি। আমরা মনে করি এটা সাংবাদিকতার মূল যে নীতি, সেটার বিরোধী।”
সম্পাদক পরিষদের দাবি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি যে ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি আধুনিক আইন আসা উচিত, কিন্তু সেই আইন যেন কোনোখানে সাংবাদিকতাকে প্রতিহত না করে বা সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে না দাঁড়ায়।”
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার আলোচনায় বিশ্বাসী এবং যে কোনো সমস্যা তৈরি হলে আলোচনা করে নিষ্পত্তির পক্ষে। গণমাধ্যমের কর্মীরা কোনো আইন দ্বারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা আমাদেরও উদ্বেগ। আমি মনে করি গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার বিধান গণতান্ত্রিক কাজ।”
তবে মন্ত্রীদের সঙ্গে এই বৈঠকের পর ৩ অক্টোবর গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন না করারই সংকেত দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মিথ্যা তথ্য’ না দিলে সাংবাদিকদের উদ্বেগের কিছু নেই।
সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কোনো সাংবাদিক ‘মিথ্যা তথ্য’ না দিলে বা ‘বিভ্রান্ত’ না করলে এ আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, “উদ্বিগ্ন তারা বেশি হবে, যারা এতদিন ধরে খুব তৈরি হয়ে আছে,…নির্বাচনের কাছাকাছি…মানে আমাদেরকে ভালো করে ঘায়েল করার জন্য যারা খুব বেশি ডকুমেন্ট তৈরি করে বসে আছে বা একটা একটা করে ছাড়ছে। তারা উদ্বিগ্ন হতে পারে কারণ তারা ভাবছে যে এরকম একটা মিথ্যা নিউজ করব, এটা তো মাঠে মারা যাবে।”
তিনি বলেন, পত্রিকায় মিথ্যা তথ্য প্রকাশের কারণে কারও ক্ষতি হলে সেজন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান এ আইনে নেই, যা রাখা উচিৎ বলে তিনি মনে করেন।
আইনটি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই বলে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার মতে এই আইনটিতে একটি ধারা যুক্ত করার পক্ষে তিনি, আর তা হলো কোন সাংবাদিক যদি কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে তাহলে তার শাস্তির বিধান থাকা উচিত।
“যদি কেউ কারও বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা তথ্য দেয়, তাহলে তাকে প্রমাণ করতে হবে যে এটা সত্য। যদি ব্যর্থ হয়, সেই সাংবাদিক- যে লিখবে, যে পত্রিকা বা মিডিয়া প্রকাশ করবে বা ব্যবহার করবে, তাদের সবাইকে শাস্তি পেতে হবে। যার বিরুদ্ধে লিখবে, তার যে ক্ষতি হবে, সেজন্য তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যেটা ইংল্যান্ডে আছে।”
“আমি যদি এখন বলি, ২০০৭ এ আমি যখন বন্দি, আমার বিরুদ্ধে যত দুর্নীতির ব্যাপারে যত রকমের তথ্য বিভিন্ন পত্রিকা প্রচার করেছে, বা এখনও আমাদের অনেকের বিরুদ্ধে একটা মিথ্যা নিউজ দিয়ে দিল, ছবি টবি দিয়ে নিউজ দিল, তদন্ত করে প্রমাণ হল, যে এটা মিথ্যা, তারপরে কি হয়?”
“যার বিরুদ্ধে করে, তার জীবনটাতো শেষ। তার তো ড্যামেজ হয়ে গেল। কিন্তু যে পত্রিকাটা করল, সে কি শাস্তি পেল? তার তো কোনো সাজা হল না, তারা তো বহাল-তবিয়তে তত্ত্ব কথা বলে বেশ বুক উঁচু করে চলছে সমাজে।”
তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা খুব উদ্বিগ্ন আমি বুঝলাম, কিন্তু আমাদের উদ্বেগটা কে দেখবে? যারা ভিকটিম হচ্ছে তাদের উদ্বেগটা কে দেখবে? তাদের কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেবেন? ওই জায়গাটার কমতি আছে, যেটা ইংল্যান্ডের আইনে আছে।”
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করার আগে সরকার বিভিন্ন দেশের আইন পর্যালোচনা করেছে এবং দেশে সাংবাদিকদের সঙ্গেও যে আলোচনা করেছে- সে প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “এরপর এসে হঠাৎ উদ্বিগ্ন হয়ে গেলেন, কিসের জন্য?”
সাংবাদিকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “আমি যতক্ষণ আছি উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, ভয়ের কিছু নেই। ভয় পাবে তারা, যারা অপরাধ করবে।”
রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায়:
তিন মন্ত্রীর সঙ্গে সাংবাদিকদের আলোচনার দু’দিন পরেই ৩ অক্টোবর স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিলটিতে স্বাক্ষর করেন। এরপর ৪ অক্টোবর সকালে এই বিলটি রাষ্ট্রপতির দফতরে পাঠানো হয় স্বাক্ষরের জন্য। রাষ্ট্রপতি স্বক্ষর করলে এটি আইনে পরিণত হবে। তবে ইতিমধ্যেই সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিলটিতে স্বাক্ষর না করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন না হলে আন্দোলন 
পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হওয়ার মতো বিষয়গুলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থেকে বাদ না দিলে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নেতারা তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের পর এ আন্দোলনের কথা জানিয়েছেন।
বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল সাংবাদিকদের বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকরা যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতার স্বীকার না হয়, ওই জায়গাটুকুতে আমরা নিশ্চয়তা চাচ্ছি, এর বাইরে আমাদের অন্য কোনো ডিমান্ড নেই। আমরা বলেছি যদি ওই জায়গাটি নিশ্চিত না হয়, তবে কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন করব, অবস্থান গ্রহণ করব।”
ডিআরইউ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “সব সাংবাদিকের বক্তব্য একই, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কিছু কিছু ধারা আছে যেগুলো সত্যিকার অর্থে গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আতঙ্ক ও উদ্বেগের। কোথায় কোথায় আপত্তি, সেগুলো কীভাবে দূর করা যায় সে সুপারিশ দিয়েছি। আমরা সার্বিকভাবে এই আইনের বিরোধিতা করছি না, আমরা চাই এই আইন দ্বারা যাতে গণমাধ্যম এবং সংবাদকর্মীরা কোনোভাবেই প্রতিবন্ধকতার স্বীকার না হন।”
মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে আশ্বস্ত কি না- সেই প্রশ্নে ডিআরইউ সভাপতি বলেন, “আমরা দেখতে চাই। তথ্যমন্ত্রীর তিনজন সহকর্মী (বৈঠকে) ছিলেন, বলেছেন বিষয়টি মন্ত্রিসভায় তুলবেন। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েও যদি না হয় আমরা আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কর্মসূচি দেব।” সম্পাদক পরিষদও দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে।
শুধু সাংবাদিক সমাজই নয়, অন্যান্য শ্রেণি-পেশাসহ সাধারণ সচেতন মানুষ প্রায় সকলেই এই আইনের ব্যাপারে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানবিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করেছে টিআইবি। দুর্নীতিবিরোধী এই সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে এই আইনের সব নিবর্তনমূলক ধারা বাতিলের দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে আইনটিকে নতুন করে সাজানোরও দাবি করেছেন। তিনি এই আইনকে আত্মঘাতী ও অগণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেছেন।

( সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ০৮ অক্টোবর ২০১৮ প্রকাশিত)


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1042 বার