ইসি কী কেন্দ্রে ভোটার দেখতে চায় না: ভোটারদের প্রশ্ন

Pub: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮ ৭:৩৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮ ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শনিবার মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার মধ্যরাত থেকে বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস ট্রাক, টেম্পোসহ স্থানীয় যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচলে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে
শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোট চার দিন সারাদেশে মোটরসাইকেল চালানোয় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
যানবাহন চলাচলে এই নিষেধাজ্ঞায় সারাদেশের ভোটারদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও মফস্বল শহরের ভোটাররা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দেশের ৩০০টি আসনে নির্বাচন হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে এক ইঞ্চি সড়কও থাকার কথা নয়। কিন্তু বিষয়টি কতটা বাস্তবসম্মত, তা কমিশন কিংবা সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখা প্রয়োজন। রাজধানীতে এমন অনেক ভোটার রয়েছেন যাদের আবাসস্থল যাত্রাবাড়ী কিন্তু তাদের  ভোটকেন্দ্র উত্তরা। অনেকের আবাসস্থল মিরপুরে কিন্তু ভোটকেন্দ্র যাত্রাবাড়ী। সব ধরনের যান্ত্রিক যানবাহন বন্ধ থাকলে তাঁর পক্ষে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া সম্ভব হবে না। এমন পরিস্থিতিতে যন্ত্রচালিত যানবাহন বন্ধ থাকলে তারা কীভাবে এতো দূরের ভোট কেন্দ্রে যাবেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সাংবাদিকদের কাছে অনেকে টেলিফোন করেও এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মফস্বল এলাকাগুলোতেও অনেক দূরে ভোট কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে বিশেষকরে বয়স্করা কীভাবে যানবাহন বন্ধ থাকলে ভোট কেন্দ্রে যাবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ভোটারদের প্রশ্ন এই যানবাহন বন্ধ করে নির্বাচন কমিশন কী কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতির পথ বন্ধ করতে চায়? তারা কী কেন্দ্রে ভোটারদের দেখতে চায় না?
এমনকি শহরের বিত্তবানরা যারা সাধারণত ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন তাদেরও স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইতিমধ্যেই বিভিন্নমহল থেকে ইসির এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন কমিশন একের পর এক যে অযৌক্তিক ও খামখেয়ালিপূর্ণ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে, যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তার সর্বশেষ উদাহরণ বললেও অত্যুক্তি হবে না। নির্বাচন কমিশনের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার পথ সহজ করা, যাতে তাঁরা নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। কিন্তু ইসির পূর্বাপর সিদ্ধান্তে মনে হচ্ছে তারা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করার চেয়ে পথ আগলে রাখতেই বেশি আগ্রহী।

যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয় বাস্তবতার নিরিখে। কিন্তু ইসি মাথাব্যথার প্রতিষেধক হিসেবে মাথা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়াকেই শ্রেয় মনে করছে। নির্বাচনের দিনে যাতে কেউ ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য তারা প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেবে, এতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। বিআরটিএ বলেছে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে। কিন্তু এর আওতায় ব্যক্তিগত যানবাহন আসবে কি না, তা পরিষ্কার নয়।  ভোটাররা প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচন কমিশন কেন নিরাপত্তার নামে যানবাহনের ওপর পাইকারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে? তাহলে কি নির্বাচন কমিশন চায় না যে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাক।

জানা যায়,
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শনিবার মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোট চার দিন সারাদেশে মোটরসাইকেল চালানোয় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকরা ইসির স্টিকার ব্যবহার করে বাইক চালাতে পারবেন।
শনিবার মধ্যরাত থেকে বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস ট্রাক, টেম্পোসহ স্থানীয় যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
জানা যায়, যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের (পরিচয়পত্র থাকতে হবে) ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য। তাছাড়া নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিক (পরিচয়পত্র থাকতে হবে), নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শক ও কতিপয় জরুরি কাজ যেমন- অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদির কাজে নিয়োজিত যানবাহন নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
এছাড়া মহাসড়ক, বন্দর ও জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে টানা
ভোটগ্রহণ চলবে। এক প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোটগ্রহণ
পিছিয়ে ২৭ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ