আল জাজিরায় প্রতিবেদন- বিএনপি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খোদ গণতন্ত্র

Pub: রবিবার, জানুয়ারি ৬, ২০১৯ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, জানুয়ারি ৬, ২০১৯ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘মহাজাগতিক’ বিজয়ের পর বিশ্লেষক ও বিরোধী নেতারা বলছেন যে, দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি এখন একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসন পেয়েছে। অন্যান্যরা পেয়েছে বাকি ১০টি আসন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে সাতটি আসন। দুটি আসনে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে। ৩৫০ সদস্যের জাতীয় সংসদে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। ঢাকা-ভিত্তিক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেন, “নির্বাচনী ফলাফল অবাক হওয়ার মতো ছিল না”। তিনি বলেন, “নির্বাচনী অনিয়ম, মৃত্যু এবং আইন লঙ্ঘনের এত বেশি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, যেগুলো দেখে বোঝা যায় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভঙ্গুর হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন দল তাদের ‘মহাজাগতিক’ বিজয় নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে চাইবে, কিন্তু বিরোধী দলকেও তাদের পরাজয়ের দায়-দায়িত্ব নিতে হবে”। বিএনপি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খোদ গণতন্ত্র বিরোধী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও হাসিনার সাবেক মিত্র ৮২ বছর বয়সী কামাল হোসেন সোমবার পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন, যে দাবি তাৎক্ষণিক নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। হোসেন বলেন, “আমাদের আগেও খারাপ নির্বাচন হয়েছে কিন্তু আমাকে এটা বলতেই হচ্ছে, এ ধরনের খারাপ নির্বাচনের আর উদাহরণ নেই”। নির্বাচনকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিন লিখেছে যে, “আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো – পুলিশ থেকে নিয়ে আদালত ও নির্বাচন কমিশনকে নিজের সাফল্য অর্জনের জন্য ব্যবহার করেছে”। লন্ডন-ভিত্তিক ম্যাগাজিনটি লিখেছে যে, “বিএনপি এখানে আসল ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ নয়, আসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খোদ গণতন্ত্র।” মানবাধিকার সংগঠন এবং পশ্চিমা দেশগুলো বিরোধী দলের অভিযোগের সাথে একমত পোষণ করেছে। নির্বাচনে সহিংসতায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে এবং ভোটে প্রচুর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বুধবার বলেছে যে “নির্বাচনে যে সব মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশনের মাধ্যমে সেগুলোর তদন্ত হওয়া উচিত।” কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশের (সিপিবি) প্রেসিডেন্ট মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বাংলাদেশ ‘গণতান্ত্রিক সঙ্কটের’ একটা সময় পার করছে। ৭৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভালো করতে পারেনি সিপিবি। নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ হিসেবে উল্লেখ করেন সেলিম। নির্বাচনে যে ৩৯টি দল অংশ নিয়েছিল, এদের মধ্যে মাত্র নয়টি দল থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে ৯৬ শতাংশ আসন গেছে ক্ষমতাসীন জোটের কাছে। সেলিম আল জাজিরাকে বলেন, “যদিও আমাদের বহুদলীয় গণতন্ত্রের দেশ হওয়ার কথা, কিন্তু আমরা সেটা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছি।”তিনি বিশ্বাস করেন যে ক্ষমতাসীন দলকে সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষ এক শতাংশ ধনী ব্যক্তিরা, যারা গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে অসম অনুপাতে লাভবান হয়েছে। তিনি বলেন, “অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭ শতাংশের কাছে পৌঁছেছে। কিন্তু ৯৯ শতাংশ মানুষের আয় বেড়েছে খুবই সামান্য পরিমাণে”। এই কমিউনিস্ট নেতা বলেন, “বাকি সম্পদ কোথায় গেল? এটা গেছে ক্ষুদ্র একটা জনগোষ্ঠির কাছে। আর এই ছোট অংশটিই আজ ক্ষমতা দখল করে সেটার পুনরাবৃত্তি করতে যাচ্ছে।” ‘সংলাপের ক্ষেত্র’ যারা সরকারের বিরুদ্ধে অসম উন্নয়নের কথা বলেছে, তারা বিশেষ স্বার্থে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছে সরকার। গায়িকা-অ্যাক্টিভিস্ট রাহি বলেন, “গণতন্ত্রের কোনো একটি মাত্র বয়ান প্রচারিত হলে সেটা কোন ইতিবাচক বিষয় নয়। বিভিন্ন ধরনের বয়ানের মধ্যে বিনিময়ের একটা ক্ষেত্র ও পরিবেশ থাকতে হবে। সেটা হলেই কেবলমাত্র অর্থপূর্ণ গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে উঠতে পারে বাংলাদেশে। উন্নয়ন মানে শুধু ব্রিজ আর রোড-ঘাট বানানো নয়। আমাদের টেকসই ব্যবস্থার দিকে নজর দিতে হবে।”


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1221 বার