fbpx
 

প্রথম কার্যকরী সভা অনুষ্ঠিত ৫ চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে ডাকসুর যাত্রা

Pub: Sunday, March 24, 2019 2:30 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন ডাকসুর সদস্যপদ দেয়ার প্রস্তাবে ভিপির দ্বিমত * রাজনৈতিক বিবেচনায় হলে সিট দেয়া বন্ধের দাবি ভিপি নূরের * অভিষেক উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত আমন্ত্রণ জানানো হবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে

প্রায় ২৯ বছরের অচলায়তন ভেঙে উন্মুক্ত হল ডাকসুর দ্বার। ৫ চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে যাত্রা শুরু করলেন ডাকসুর নতুন প্রতিনিধিরা। শনিবার ডাকসুর প্রথম কার্যকরী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভিপির আপত্তি উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডাকসুর আজীবন সদস্যপদ দেয়ার প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরবর্তী সভায় গঠনতন্ত্র দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অভিষেক উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। একইদিন আলাদাভাবে ১৮টি হল সংসদের প্রথম কার্যকরী পরিষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে ডাকসুর নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে ছাত্রদল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্মসহ বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ডাকসুর প্রথম কার্যকরী পরিষদের সভা চলার সময় ছাত্র ইউনিয়ন রাজু ভাস্কর্যের সামনে লাল কার্ড প্রদর্শন করে। ছাত্রদলসহ অন্যরা মিছিল করে।

শনিবার দুপুরে ডাকসু ভবনে ডাকসুর প্রথম কার্যকরী পরিষদের সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। একইদিনে ১৮টি হল সংসদের প্রথম কার্যকরী পরিষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডাকসু সভার শুরুতেই বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা শাহাদতবরণ করেছেন তাদের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে ছাত্রদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় স্থান পায় ডাকসুর ঐতিহ্য। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডাকসুর আজীবন সদস্য করার প্রস্তাবও আসে সভায়। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হয়।

ডাকসু সভা শেষে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, দীর্ঘ তিন দশক পর গত ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিজয়ী কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি, জিএস, এজিএস, সম্পাদকীয় ও সদস্যসহ ২৫ জনের কার্যকরী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হল। আজকের সভার মধ্য দিয়ে ডাকসুর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হল। আজ থেকে ৩৬৫ দিন ডাকসুর সময়কাল হিসেবে গণ্য হবে। এর মাধ্যমে ডাকসুর শুভযাত্রা শুরু। আমি আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করে ডাকসুর নবনির্বাচিতদের অভিনন্দন জানাই।

তিনি বলেন, আমাদের কার্যকরী পরিষদের সব সদস্য প্রধানমন্ত্রীকে ডাকসুর আজীবন সদস্য করার বিষয়ে সহমত পোষণ করেছেন। সেটি আইনি ভাষা দেখে করা হবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রস্তাবটি ধন্যবাদের সঙ্গে গ্রহণ করা হল। এটি একেবারেই আনুষ্ঠানিকভাবে হয়েছে। পরবর্তী সভায় গঠনতন্ত্র দেখে আমরা এই কাজটি, মহৎ উদ্যোগটি গ্রহণ করব। এটি আমাদের আজকের কার্যকর পরিষদের সিদ্ধান্ত।’

দীর্ঘ বিরতির পর ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে ২৩টিতেই জয় পায় ছাত্রলীগ। ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে জয় পায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। ডাকসুর নবনির্বাচিত এই ছাত্র প্রতিনিধিদের যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে তা হল- সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করা, হলে হলে সব দল-মতের শিক্ষার্থীদের সহাবস্থান নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা নিরসন, দলের ঊর্ধ্বে গিয়ে শিক্ষার্থী স্বার্থরক্ষায় কাজ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডাকসুর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও কিছু আশঙ্কাও রয়ে গেছে। এ আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে ডাকসু নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়ম, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান না থাকা এবং হলগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের একক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের অবস্থান নেই। ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তাদের কিছুটা অবস্থান তৈরি হলেও হলগুলোর চিত্র বিপরীত। বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর অবস্থাও নাজুক। ফলে সবাইকে নিয়ে হলে সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে ডাকসুর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
ডাকসুর নবনির্বাচিত কমিটির বড় চ্যালেঞ্জ হবে সিটভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করে আবাসন সমস্যা সমাধান করা। কারণ হলগুলোর এই সিটকে কেন্দ্র করেই মূলত ক্যাম্পাসে পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। একজন শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার পর যখন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে হলের ‘গণরুমে’ সিট পায়, তখন তাকে বাধ্য হয়েই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিতে হয়। যোগ দিতে হয় ‘গেস্টরুমে’। এতে শুরুতেই একজন শিক্ষার্থী ধাক্কা খায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার শিক্ষাজীবন। ফলে ডাকসু নির্বাচনের আলোচনার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রধানতম দাবি ছিল ‘আবাসন সমস্যা সমাধানে কাজ করা।’ সব প্যানেলের ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে এই সমস্যাটি।

এবারের ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১৩টি প্যানেলের মধ্যে ১০টি ছিল রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলোর। বাকি ৩টি ছিল বিভিন্ন অরাজনৈতিক ঐক্য ও প্ল্যাটফর্মের। মোট ভোটের হিসাব করে দেখা গেছে, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ১০টি প্যানেল থেকে অরাজনৈতিক প্যানেলগুলো বেশি ভোট পেয়েছে। এর ফলে এটি প্রতীয়মান হয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় আগের মতো কাজ করতে পারছে না। যেহেতু ডাকসুর ২৫ পদের মধ্যে ২৩টিতেই জয় পেয়েছে ছাত্রলীগ, তাই সংগঠনটি থেকে নির্বাচিতদের এই দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। অরাজনৈতিক নেতৃত্বে আস্থা ধরে রাখতে ডাকসুর ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদকের জন্য হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার ভোটারের আস্থা অর্জন করা নতুন নেতৃত্বের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। কারণ এবারের ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। ফলে নতুন নেতৃত্বের প্রতি শিক্ষার্থীদের এক ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হয়। এছাড়া এর আগে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ ছিল। ফলে তাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়ে কাজ করতে হবে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে। নবনির্বাচিত ভিপি নূরুল হক নূরের সমর্থকদের একটি অংশও তার প্রতি বিরূপ মনোভাব দেখাচ্ছে। ‘বর্তমান সরকার ও ছাত্রলীগের হয়ে কাজ করছেন তিনি’ এমন অভিযোগ তাদের। তাই ছাত্রলীগ ও এর বাইরে থেকে নির্বাচিত উভয় পক্ষকেই আগামীতে দলীয় বা সাংগঠনিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার্থীদের হয়ে কাজ করতে হবে।

এসবের বাইরে ডাকসুর নবনির্বাচিত নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা। প্রায় তিন দশক ধরে ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় হারিয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ডাকসুকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সাংস্কৃতিক বলয় তৈরি হয়েছিল তা পুনরুদ্ধারে কাজ করা হবে বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে টিএসসিকেন্দ্রিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে কাজ চালিয়ে নিতে হবে ডাকসুকে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার বিষয়ে ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নূরুল হক নূর বলেন, ২৮ বছর পর যে ডাকসু নির্বাচন হয়েছে তা নিয়ে সারা দেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা ছিল ভিন্নমাত্রায়। কিন্তু এই নির্বাচনে কারচুপি ও বিভিন্ন অনিয়ম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীসহ দেশের মানুষকে আশাহত করেছে। সে কারণে শুরু থেকেই ডাকসুর পুনর্নির্বাচনের দাবি ছিল আমাদের। প্রশাসন সেই দাবি মানেনি এবং কার্যকরী পরিষদের প্রথম সভা ডেকেছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। তবে প্রতিবাদের মাঝেও অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে সভায় অংশগ্রহণ করেছি। ছাত্ররা আমাদের প্রতিনিধি বানিয়েছেন। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তাদের জন্য কাজ করতে আমরা প্রস্তুত আছি।

সভা নিয়ে যা বললেন ভিসি : সভা শেষে ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। তারা যেন নিজ নিজ জায়গা থেকে সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে। আশা এবং আনন্দের কথা হল, প্রায় ২৫ জনই বক্তব্য রেখেছেন, তাদের বক্তব্যের মধ্যে যে মূল্যবোধ দেখেছি, যে যুক্তিতর্ক এবং ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার যে গুণাবলি সেগুলো তাদের মধ্যে লক্ষ করেছি। যাদের ভোটে তারা নির্বাচিত হয়েছে, তারা যথার্থ মানুষকেই যে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করতে সক্ষম হয়েছে, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ দিই। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি সব শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতি যারা সদয় সহযোগিতা করেছেন আজকের অবস্থানে পৌঁছতে।’
ভিসি আরও বলেন, ‘সভায় একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা হল, বড় আকারের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। যেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। কার্যকরী পরিষদকে এর দায়িত্ব দিয়েছি। ভিপি, জিএস, এজিএসকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন কোরাম-কমিটি করে আয়োজনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এটিই হল আমাদের আজকের বড় দাগের সিদ্ধান্ত।

প্রধানমন্ত্রীকে ডাকসুর আজীবন সদস্যপদ প্রদানের প্রস্তাব : এদিকে ডাকসুর প্রথম সভায় প্রধানমন্ত্রীকে ডাকসুর আজীবন সদস্য করার প্রস্তাব আসে। এ বিষয়ে ভিসি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্বাচনের জন্য সদয় সহযোগিতা করেছেন। তিনি যে আশ্বাস আমাদের দিয়েছেন তার সফল বাস্তবায়ন তিনি করেছেন। সে কারণে আমাদের কার্যকরী পরিষদের সব সদস্য তাকে (প্রধানমন্ত্রী) ডাকসুর আজীবন সদস্য করার বিষয়ে সহমত পোষণ করেছেন। সেটি আইনি ভাষা দেখে করা হবে। প্রস্তাবনাটি ধন্যবাদের সঙ্গে গ্রহণ করার বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একেবারেই আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী সভায় গঠনতন্ত্র দেখে আমরা এই কাজটি, মহৎ উদ্যোগটি গ্রহণ করব। এটি আমাদের আজকের কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত।’

ডাকসুর ভিপি নূরুল হক নূর বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ডাকসুর আজীবন সদস্য করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমরা সমাধানে পৌঁছাতে পারিনি। আমি নিজে বলেছি, আপনারাও দেখেছেন, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলেছে এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। তাই আমি চাইনি এ প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীকে সদস্যপদ দিতে। আমিসহ কয়েকজন এ বিষয়ে অপোজ (বিরোধিতা) করেছি। প্রধানমন্ত্রী একজন সম্মানিত ব্যক্তি। ডাকসুর আজীবন সদস্য হওয়া তেমন বড় কিছু নয়। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে।

আমিও তাদের সমর্থন জানিয়েছি এবং আলোচনা সভায় উপাচার্য স্যারকে বলেছি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি বেরিয়ে আসবে। আমরা রোকেয়া হল ও কুয়েত মৈত্রী হলের ঘটনা দিয়ে আলোচনা শুরু করেছি। আমি ডাকসুর পুনর্নির্বাচন চাচ্ছি। পরবর্তীকালে ডাকসু নির্বাচন হলে সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে ডাকসুর সদস্যপদ দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সেটা তখন দেখা যাবে। অগ্রিম তো কিছু বলতে পারব না। যে জায়গায় কথা বলার সুযোগ পাব, সে জায়গাতেই শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলব।
ভিপির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাব্বানী বলেন, ‘আমাদের ডাকসুর ২৫ সদস্যের যে বডি রয়েছে সেখানে ২৩ জন সরাসরি সমর্থন করেছেন। একমাত্র ভিপি নূর দ্বিমত পোষণ করেছেন। সুতরাং ডেমোক্র্যাটিক ওয়েতে তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হয়নি। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে সদস্যপদ দেয়ার সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়ে গেছে। এটি সলভ ইস্যু।’ ছাত্র সমস্যা সমাধানে ভিপি নূরের প্রস্তাবনা : সভায় শিক্ষার্থী সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন প্রস্তাবনা এসেছে ডাকসুর ভিপির কাছ থেকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সব প্যানেলেরই দাবি ছিল হল থেকে গণরুম, গেস্টরুম এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় সিট দেয়া বন্ধ করা। সেটা নিয়ে আজকে আলোচনা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে এটা নিয়ে বিভিন্ন হলে নোটিশ দিয়ে অছাত্র এবং বহিরাগতদের হল ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রিকশা এবং সাইকেলের জন্য আলাদা লেন করা, রিকশা ভাড়া নির্ধারণ এবং বিভিন্ন আবাসিক এলাকার মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০০-৩৫০ রিকশার রেজিস্ট্রেশন দেয়া, তাদের নির্দিষ্ট ড্রেসকোড এবং গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে সভায় প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ভিপি বলেন, সিনেটে পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি থাকে। সেটা নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়েছে। ভিসি ডাকসুর ভিপি, জিএস এবং এজিএসকে দায়িত্ব দিয়েছেন এ পাঁচজনকে বাছাই করার জন্য।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ