ভোটার আনতে মসজিদের মাইকে আহ্বান

Pub: সোমবার, এপ্রিল ১, ২০১৯ ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, এপ্রিল ১, ২০১৯ ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

উপজেলা পরিষদের বিগত তিন ধাপের মতো চতুর্থ ধাপেও ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। বিক্ষিপ্ত সহিংসতা, জালভোট ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এসেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কাছ থেকে। তবে নির্বাচন কমিশন বলেছে, নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ আসায় কুমিল্লার তিতাস উপজেলা নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া অনিয়মের কারণে বিভিন্ন উপজেলার ১২টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্র দখল সহিংসতা ও প্রার্থী ও এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগে বিকালে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেয়। কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার একটি কেন্দ্রে যেতে মসজিদের মাইকে ভোটারদের আহ্বান জানানো হয়। গতকাল সকালে উপজেলার রাধানগর এলাকার একটি মসজিদ থেকে এই আহ্বান জানানো হয় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

খুলনার বিভিন্ন উপজেলায় ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। ভোটার না থাকায় নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের অলস সময় কাটাতে দেখা যায়। টাঙ্গাইলের বাসাইলে নৌকায় জালভোট দেয়ায় সহযোগিতা করায় সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ২ জনকে আটক করা হয়। নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারে কেন্দ্রগুলোতে তেমন ভোটার না দেখা গেলেও ব্যালটে বাক্স ভরে যায়।

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। গতকাল নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রতিক্রিয়া জানান ইসি সচিব। হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, অনিয়মের কারণে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সবগুলো কেন্দ্র্র্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এর বাইরে ১২টি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত কেন্দ্র্র্রগুলো হলো মুন্সীগঞ্জের তিনটি, ধামরাইয়ের একটি, কুমিল্লার চান্দিনায় চারটি, কুমিল্লার মেঘনায় দুটি ও হোমনার দুটি। বাকি কেন্দ্রগুলোতে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইসি সচিব বলেন, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকায় সাতজন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে তাদের আইনের আওতায় সাজা দেয়া হবে।

তিনি আরো দাবি করেন উপজেলা নির্বাচনে প্রস্তুতি ভালো হওয়ার কারণে চার ধাপের নির্বাচনে একটি লোকও নিহত হয়নি। হয়তো কিছু আহত হয়েছে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য আমরা অনেকগুলো উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করেছি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), এমনকি আমরা পুলিশ সুপারকে (এসপি) প্রত্যাহার করেছি। কয়েকজনকে আমরা সাময়িক বরখাস্তও করেছি। হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, যেসব কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে, সেসব কেন্দ্রে তদন্ত করে ইসি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করবে। আর যেসব উপজেলা স্থগিত করা হয়েছে, সেসব উপজেলা নির্বাচন বন্ধের বিষয়েও তদন্ত করা হবে। পরবর্তীকালে এর তারিখ নির্ধারণ করা হবে। আগামী ১৮ই জুন ৩০ থেকে ৪০টি উপজেলায় নির্বাচন হবে বলেও জানান ইসি সচিব। চার ধাপের ভোটগ্রহণে ভোটের হার নিয়ে ইসি কতখানি সন্তুষ্ট- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আহত, নিহত যাতে না হয়, সেটার ওপরে আমরা সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছি। আপনারা আমাদের শতকরা হারের কথা বলেছেন, শতকরা হার বাড়াতে গেলে অনিয়মের মধ্যে পড়তে হয় আমাদের।

এ জন্য ভোটাররা যে পরিমাণ আসুন না কেন, আমরা ওটার ওপরে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা যদি ভোটার হার বাড়াতে চাই, তাহলে আবার সেই স্থানীয় প্রশাসন বা রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অনিয়মের দিকে ঝুঁকে পড়বে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাহলে ৮০ শতাংশ ভোট কীভাবে পড়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে উপজেলা নির্বাচনের তুলনা করলে চলবে না। জাতীয় নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু উপজেলায় নির্বাচনে সকল দল অংশগ্রহণ করেনি। আমরা চেয়েছি যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাররা যাতে অংশগ্রহণ করে। রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির ব্রাস্ট ফায়ারের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা তো নির্বাচনকালীন সংহিসতা নয়। আপনারা কি এটাকে তাই বলবেন? আপনারা জানেন, সেখানে পাহাড়িদের বিভিন্ন গ্রুপ কাছ করে। সেখানে ভোটকেন্দ্র দখলের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

আঞ্চলিক দলের প্রাধান্য বিস্তারের জন্য এমন হতে পারে। এটাকে আমরা নির্বাচনী সহিংসতা বলতে নারাজ। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) বিষয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফলাফল আসতে দেরি হয়। তৃতীয় ধাপে ইভিএমের ফলাফল রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আরএমএস) আনতে চেয়েছিলাম। ইন্টারনেট ডাউন থাকার কারণে আমরা পারিনি। চতুর্থ ধাপে আমরা সেটা বাদ দিয়েছি। ম্যানুয়ালি ফলাফল আনা হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনেও ইন্টারনেটের গতি কম থাকায় ফলাফল প্রকাশে দেরি হয়েছিল। উপজেলা নির্বাচনে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে ইসি সচিব দাবি করলেও দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ফলাফল নিয়ে ফেরার সময় দুর্বৃত্তদের ব্রাশ ফায়ারে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাসহ সাতজন নিহত হন। আর আহত হন ১৫ জনের মতো।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1079 বার