fbpx
 

ফলাফল বিশ্লেষণ ডাকসু নির্বাচনের ফলাফলে ব্যবধান গড়েছেন ছাত্রীরা

Pub: সোমবার, এপ্রিল ৮, ২০১৯ ৩:০১ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, এপ্রিল ৮, ২০১৯ ৩:০১ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আসিফ হাওলাদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : দীর্ঘ ২৮ বছরেরও বেশি সময় পর গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ(ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ছাত্রী হলের ভোট। ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের হার নির্ধারিত হয়েছে মূলত এই ৫ ছাত্রী হলের ভোটে। অন্যদিকে ছাত্রলীগের প্যানেল সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থীরা একচেটিয়া ভোট পেয়েছেন জগন্নাথ হলে। এই হলে ডাকসুর সব পদে একচেটিয়া ভোট পেয়েছেন ছাত্রলীগের দেওয়া প্যানেল।

১১ মার্চ ডাকসুর ২৫টি পদে আর ১৮টি হল সংসদের প্রতিটিতে ১৩ পদে নির্বাচন হয়। ৮টি হল সংসদে পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে জয় পান ছাত্রলীগের প্রার্থীরা। ছাত্রীদের হলে রোকেয়া হল ছাড়া অন্য ছাত্রীহলগুলোতে ছাত্রলীগ খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি।

হল সংসদগুলোর ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করলেও কেন্দ্রীয় সংসদের বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কেন্দ্রীয় সংসদের বিস্তারিত ফলাফলের কপিটি একটি সূত্রে প্রথম আলোর হাতে এসেছে৷

ডাকসুর বিস্তারিত ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ছাত্রলীগের বাইরে থেকে নুরুল ও আখতারের জয়ে মূল ভূমিকা রেখেছে পাঁচটি হলের ছাত্রীদের ভোট৷ ভিপি পদে ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে জয়ী হন নুরুল, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক পান ৯ হাজার ১২৯ ভোট৷ তাঁদের ভোটের পার্থক্য ১ হাজার ৯৩৩৷ ছাত্রীহলগুলো থেকে নুরুল পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৮৭ ভোট, রেজওয়ান পেয়েছেন ২০৩৮ ভোট। যা দুজনের মধ্যে ১ হাজার ৪৪৯ ভোটের বড় ব্যবধান গড়ে দিয়েছে৷ অন্যদিকে, সমাজসেবা সম্পাদক পদে ৯ হাজার ১৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আখতার হোসেন৷ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থী আজিজুল হক পেয়েছেন ৮ হাজার ১৮ ভোট৷ দুজনের ভোটের পার্থক্য ১ হাজার ১৭২৷ ছাত্রীদের পাঁচ হল থেকে আখতার পেয়েছেন ৩ হাজার ৭২ ভোট আর আজিজ পেয়েছেন ১ হাজার ৩৩৪ ভোট, যা দুজনের মধ্যে ১ হাজার ৭৩৮ ভোটের পার্থক্য গড়ে আখতারের জয় নিশ্চিত করেছে৷

ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে যে ২৩টি পদে ছাত্রলীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, তাঁরা সবাই ছাত্রী হলগুলোতে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন বা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তাঁদের ভোটের পার্থক্য খুব বেশি নয়৷ এ ছাড়া, জগন্নাথ হলে ডাকসুর ২৫টি পদেই একচেটিয়া ভোট পেয়েছেন ছাত্রলীগের প্রার্থীরা৷ এই হলে অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে৷

শীর্ষ তিন পদে যে যত ভোট পেলেন
ডাকসুর শীর্ষ তিন পদ সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জিতেছেন যথাক্রমে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নুরুল হক, ছাত্রলীগের গোলাম রাব্বানী ও সাদ্দাম হোসেন৷

ভিপি পদে ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে জয়ী হন নুরুল, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক পান ৯ হাজার ১২৯ ভোট৷ তাঁদের ভোটের পার্থক্য ১ হাজার ৯৩৩৷ ছাত্রী হলগুলো থেকে নুরুল পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৮৭ ভোট, রেজওয়ান পেয়েছেন ২০৩৮ ভোট, যা দুজনের মধ্যে ১ হাজার ৪৪৯ ভোটের বড় ব্যবধান গড়ে দিয়েছে৷ তবে জগন্নাথ হলে নুরুল আর রেজওয়ানের মধ্যে ভোটের বেশ ব্যবধান রয়েছে৷ এই হলে নুরুল পেয়েছেন ১৫৮ ভোট আর রেজওয়ান পেয়েছেন ৯০৩ ভোট৷

জিএস পদে গোলাম রাব্বানীর প্রাপ্ত ভোট ১০ হাজার ৪৮৪, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী রাশেদ খাঁন পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৩ ভোট৷ ছাত্রীদের পাঁচটি হলে গোলাম রাব্বানী পেয়েছেন ২ হাজার ৩৪৮ ভোট আর রাশেদ খাঁন পেয়েছেন ২ হাজার ৩৩৯ ভোট৷ জগন্নাথ হলে তাঁদের ভোটের পার্থক্যটা বেশ বড়৷ এই হলে গোলাম রাব্বানী পেয়েছেন ১ হাজার ১৮৩ ভোট আর রাশেদ খাঁন পেয়েছেন ১০১ ভোট৷

ডাকসু নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন সাদ্দাম হোসেন৷ তিনি পেয়েছেন ১৫ হাজার ৩০১ ভোট, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী ফারুক হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৯৬ ভোট৷ ছাত্রীদের পাঁচ হলে সাদ্দাম পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৭৭ ভোট আর ফারুক পেয়েছেন ২ হাজার ৩২১ ভোট৷ জগন্নাথ হলেও তাঁদের ভোটের বিশাল পার্থক্য৷ ওই হলে সাদ্দাম পেয়েছেন ১ হাজার ৪০৩ ভোট আর ফারুক পেয়েছেন ৪৪ ভোট৷

অন্য পদগুলোর বিস্তারিত ফলাফল
স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে ১২ হাজার ১৮৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগের প্রার্থী সাদ বিন কাদের চৌধুরী৷ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নাজমুল হুদা পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৯১ ভোট৷ ছাত্রীদের পাঁচটি হল থেকে কাদের পেয়েছেন ২ হাজার ৪০৬ ভোট আর নাজমুল পেয়েছেন ১ হাজার ৪৮১ ভোট৷ জগন্নাথ হলে কাদের ১ হাজার ৫৫ ভোট আর নাজমুল পেয়েছেন ২৫ ভোট৷ এই পদে ৩ হাজার ৯৪২ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী শ্রবণা শফিক দীপ্তি৷ তিনি পাঁচ ছাত্রী হলে ২ হাজার ৫২ ভোট আর জগন্নাথ হলে পেয়েছেন ১৮৬ ভোট৷

কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৮ হাজার ৫২৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থী লিপি আক্তার৷ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থী কানেতা ইয়া লাম-লাম পেয়েছেন ৭ হাজার ১১৯ ভোট৷ ছাত্রীদের পাঁচটি হল থেকে লিপি পেয়েছেন ২ হাজার ২০৩ ভোট আর কানেতা পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫৩ ভোট৷ জগন্নাথ হলে লিপি পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮ ভোট আর কানেতা পেয়েছেন ২২৬ ভোট৷ রোকেয়া হলে কানেতা ১৮৯ ভোট পেয়েছেন,এখানে লিপি পেয়েছেন ১০৭৯ ভোট৷ মূলত জগন্নাথ হল ও রোকেয়া হলের ভোটের ব্যবধানেই লিপির জয় নিশ্চিত হয়েছে৷

আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে ১০ হাজার ৬০৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থী শাহরিমা তানজিন অর্নি৷ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী হাবিবুল্লাহ বেলালী পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৬৭ ভোট৷ পাঁচটি ছাত্রী হল থেকে অর্নি পেয়েছেন ২ হাজার ৫৮ ভোট,বেলালী পেয়েছেন ১ হাজার ২১ ভোট৷ জগন্নাথ হলে অর্নি পেয়েছেন ১ হাজার ২৩১ ভোট আর বেলালী পেয়েছেন ২৪ ভোট৷

সাহিত্য সম্পাদক পদে ১০ হাজার ৭০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগের প্রার্থী মাজহারুল কবির শয়ন৷ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী মুহাম্মদ আকরাম হুসাইন পেয়েছেন পাঁচ হাজার ১৮ ভোট৷ পাঁচটি ছাত্রী হল থেকে শয়ন পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩২ ভোট আর আকরাম পেয়েছেন ২ হাজার ৭ ভোট৷ জগন্নাথ হলে শয়ন পেয়েছেন ১ হাজার ১৫ ভোট আর আকরাম পেয়েছেন ২৭ ভোট৷

ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৯ হাজার ৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগের প্রার্থী শাকিল আহমেদ তানভীর৷ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ মাহমুদ আকাশ পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৩৪ ভোট৷ ছাত্রীদের পাঁচ হলে শাকিল পেয়েছেন ১ হাজার ৪৫৮ ভোট আর খালেদ পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫০ ভোট৷ জগন্নাথ হলে শাকিল পেয়েছেন ৭৯২ ভোট আর খালেদ পেয়েছেন ৬৯ ভোট৷

সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১০ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগের প্রার্থী আসিফ তালুকদার৷ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৮৪ ভোট৷ ছাত্রীদের পাঁচটি হল থেকে আসিফ পেয়েছেন ১ হাজার ৭৪৬ ভোট আর নাহিদ পেয়েছেন ১ হাজার ৫৬৩ ভোট৷ জগন্নাথ হলে আসিফ পেয়েছেন ১ হাজার ৭৪ ভোট আর নাহিদ পেয়েছেন ১৯ ভোট৷

ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১২ হাজার ১৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থী শামস-ঈ-নোমান৷ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী রাজিবুল ইসলাম পেয়েছেন ৩ হাজার ৩১২ ভোট৷ ছাত্রীদের পাঁচ হলে নোমান পেয়েছেন ২ হাজার ২৬৭ ভোট আর রাজিবুল পেয়েছেন ১ হাজার ৩৭৬ ভোট৷ জগন্নাথ হলে নোমান পেয়েছেন ১ হাজার ১৮৩ ভোট আর রাজিবুল পেয়েছেন ৪১ ভোট৷

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৯ হাজার ১৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থী আরিফ ইবনে আলী৷ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী মশিউর রহমান পেয়েছেন ৬ হাজার ৩২৩ ভোট৷ ছাত্রীদের পাঁচটি হল থেকে আরিফ পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭৫ ভোট আর মশিউর পেয়েছেন ২ হাজার ২০৯ ভোট৷ জগন্নাথ হলে আরিফ পেয়েছেন ৭৯৫ ভোট আর মশিউর পেয়েছেন ৪৯ ভোট৷ এই পদে ৪ হাজার ১৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী চয়ন বডুয়া৷

সমাজসেবা সম্পাদক পদে ৯ হাজার ১৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী আখতার হোসেন৷ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থী আজিজুল হক পেয়েছেন ৮ হাজার ১৮ ভোট৷ ছাত্রীদের পাঁচ হল থেকে আখতার পেয়েছেন ৩ হাজার ৭২ ভোট আর আজিজ পেয়েছেন ১ হাজার ৩৩৪ ভোট৷ জগন্নাথ হলে আখতার পেয়েছেন ১৬৪ ভোট আর আজিজ পেয়েছেন ৮৬১ ভোট৷

ডাকসুর ১৩টি সদস্যপদেই জয় পেয়েছেন ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থীরা৷ পাঁচ ছাত্রী হল ও জগন্নাথ হলে অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে এই ১৩ জনের ভোটের উল্লেখযোগ্য ব্যবধান দেখা গেছে৷সূত্র:প্রথমআলো


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ