জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি প্রধানের বিরুদ্ধেই গাফিলতির অভিযোগ!

Pub: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৯ ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৯ ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এজাহারভুক্ত আসামি কাদেরসহ গ্রেফতার ৩ * আরেক আসামি মণি ৫ দিনের রিমান্ডে ও দায় স্বীকার শরীফের * বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট * ওসি মোয়াজ্জেমের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পুলিশের তদন্ত কমিটি * সারা দেশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অব্যাহত

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের অভিযোগ- জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এনামুল করিম বিতর্কিত ব্যক্তি। তার (এনামুল করিম) নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরবে কিনা- তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।

এদিকে রাফি হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি হাফেজ আবদুল কাদেরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। তাদের মধ্যে আবদুর রহিম শরীফ ঘটনার দায় স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

এ নিয়ে বুধবার পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হল। পাশাপাশি সোমবার গ্রেফতার হওয়া কামরুন্নাহার মণিকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

এছাড়া সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার তদন্তকাজ বুধবার থেকে শুরু করেছে পিবিআই।

রাফিকে যৌন হয়রানি এবং পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার তদন্তে সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা যথাযথ ছিল কিনা- তা খতিয়ে দেখতে এদিন বিকালে ডিআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড প্ল্যানিং) এসএম রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশ সদর দফতরের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

তারা রাফির স্বজন, মাদ্রাসার শিক্ষকসহ বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলেন। আরও জানা গেছে, সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের এ ঘটনার (রাফি হত্যা) পেছনে জড়িত থাকার যে অভিযোগ উঠেছে- তা খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানে নেমেছে পিবিআই।

একই দিন রাফি হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। আর রাফি হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবারও ঢাকা, ফেনী, গোপালগঞ্জ, নীলফামারীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে।

জানা গেছে, রাফিকে আগুনে পোড়ানোর ঘটনার পরদিন ৭ এপ্রিল ফেনী জেলা প্রশাসন ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান করা হয় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিমকে।

কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী সলিম উল্লাহ। কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ- কমিটি ৩ কার্যদিবসে ঘটনাস্থলেই যেতে পারেনি। পরে আরও ৭ দিনের সময় বাড়ানো হলে ১১ এপ্রিল কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বুধবার টেলিফোনে বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পিকেএম এনামুল করিম মাদ্রাসার গভর্নিং বডির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। এ মাদ্রাসার প্রিন্সিপালসহ কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে। তার তদন্ত রিপোর্টে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এমনটা আশা করা যায় না।

এদিকে এ ঘটনায় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে মাদ্রাসা গভর্নিং বডির গাফিলতির বিষয়টি। এ প্রসঙ্গে কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বুধবার টেলিফোনে বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) যিনি মাদ্রাসার গভর্নিং বডির প্রধান। রাফির ঘটনায় দায়িত্ব পালনে তিনিসহ ওই বডির সবার গাফিলতি পাওয়া গেছে। যার বিরুদ্ধে একই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগ আছে, সেই ঘটনা তদন্তে তাকে কমিটির প্রধান করা ঠিক হয়নি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, সেখানে আমি কোনো কথা বলতে পারি না। আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলব না। তবে আমাদের রিপোর্ট প্রায় চূড়ান্ত। আশা করছি আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) দাখিল করতে পারব। রিপোর্টে কি উঠে এসেছে তাও এ মুহূর্তে বলা যাবে না।

যোগাযোগ করা হলে ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আমরা তদন্ত কমিটির প্রধান করেছিলাম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে। তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পিকেএম এনামুল করিম। এ হিসেবে তিনি তদন্ত কমিটির প্রধান।

জেলা প্রশাসক বলেন, তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর দেখা হবে এতে কোনো ধরনের চাতুরী করা হয়েছে কিনা। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে পিবিআইর একটি সূত্র জানায়, রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল সিরাজ উদ্দৌলাসহ ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও অন্তত ৭ জনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ মিলেছে। এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পিবিআইর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেছেন, রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। গ্রেফতার হওয়া আসামিদের জবানবন্দিতে যাদের নাম এসেছে, তাদের প্রত্যেকের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শামীমের সঙ্গে তার (রুহুল আমিন) কথোপকথনের কল রেকর্ডও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, কেউ ছাড় পাবে না। ডিআইজি জানান, ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার তদন্তে একজন নারী এসপিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছেন।

পুলিশ সদর দফতরে তদন্ত কমিটি : রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় প্রশাসনের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ সদর দফতরের পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত দল বুধবার বিকালে ফেনীর সোনাগাজীতে যায়।

তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি রুহুল আমীনের নেতৃত্বে একজন পুলিশ সুপার, দু’জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও একজন পরিদর্শক এ তদন্ত দলে রয়েছেন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কথা বলেন মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে।

পরে তারা সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরছান্দিয়া গ্রামের নুসরাত জাহান রাফির বাড়িতে যান। সেখানে তার বাবা এসএস মুছা মানিক, মা শিরিন আক্তার, বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ও ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান ও রাফির দুই সহপাঠীকে মাদ্রাসায় নিয়ে এসে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে কথা বলেন। রাফির কবর জেয়ারতও করেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

ডিআইজি রুহুল আমিন যুগান্তরকে বলেন- ঘটনায় ওসির ভূমিকা কি ছিল, যথাযথ ছিল কিনা সেটাই আমরা খতিয়ে দেখব। আমি আমার টিমসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আজ কথা বলেছি। আগামীকালও কথা বলব। তদন্তে কি পাওয়া গেছে তা এখনই বলা যাবে না। তবে পুলিশের কেউ অপরাধ করলে এর দায় পুরো বাহিনী নেবে না। আমরা যেটা পাব সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে প্রতিবেদন দাখিল করব।

সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব নেয়ার ৩ দিন পর পিবিআইর প্রধান বনজ কুমার মজুমদার প্রাথমিক তদন্তের বিষয়গুলো উল্লেখ করে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) একটি প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে সোনাগাজীর ওসিসহ স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে পিবিআই সূত্র জানায়, রাফি হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি হাফেজ আবদুল কাদেরকে বুধবার ভোরে মিরপুরের ৬০ ফিট ছাপড়া মসজিদ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এছাড়া কামরাঙ্গীর চর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় আবদুর রহিম শরীফকে এবং বুধবার বিকালে ফেনী এলাকার স্টারলাইন পরিবহনের একটি বাস থেকে আটক করা হয় ইমরান হোসেন মামুনকে। শরীফ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী।

শরীফকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের জন্য বুধবার বিকালে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সারাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। সে ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শাহাদাৎ ও নুরুদ্দিনের জবানবন্দিতে শরীফ ও মামুনের সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে এসেছিল। রাফির গায়ে আগুন দেয়ার সময় এরা গেটের পাহারায় ছিল।

এদিকে ফেনী প্রতিনিধি জানান, রাফিকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা মিশনে অংশ নেয়া কামরুন নাহার মনিকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সারাফ উদ্দিন আহম্মেদ এ আদেশ দেন।

কোর্ট ইন্সপেক্টর গোলাম জিলানী জানান, কামরুন নাহার মনিকে আদালতে তুলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর মো. শাহ আলম ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত তাকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামিমের জবানবন্দিতে উঠে আসে, কামরুন নাহার মনি বোরকা সংগ্রহ করে এবং রাফিকে আগুনে পোড়ানোর মিশনে অংশ নেয়।

এ ছাড়া রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে বুধবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। এদিন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ এ আবেদন করেন।

অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জানান, হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার এ আবেদনের শুনানি করতে পারেন। তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ভুলের কারণে রাফি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, সোনাগাজী মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে কাজ করেছিলেন। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেও শাস্তি দেয়া উচিত।

স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশের আইজি ও সোনাগাজীর ওসিসহ মোট পাঁচজনকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। কয়েকজন তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়।

অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ রাফি। এর আগে ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

বিক্ষোভ-মানববন্ধন : রাফি হত্যায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার ঢাকা, ফেনীর সোনাগাজী, গোপালগঞ্জ, লালমনিরহাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয়েছে।

বুধবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রাফি হত্যায় সর্বোচ্চ সাজার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সোনাগাজীর পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম নিজেকে বাঁচাতে স্থানীয় সাংবাদিকদের হুমকি ও বিএমএসএফের স্থানীয় সভাপতিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন। পরদিন স্থানীয় ও ফেনী জেলার সাংবাদিকরা ফুঁসে উঠে মানববন্ধনের ডাক দিলে তাকে আদরের ছলে বাসায় নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন পৌর মেয়র। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানকার সাংবাদিকদের ওপর স্টিম রোলার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিএমএসএফ ঢাকা জেলা কমিটির আয়োজনে ঢাকা জেলার সহসভাপতি অহিদুজ্জামান মোল্লার সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর, মহেশখালীর পৌর মেয়র মকছুদ উল্লাহ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক সালামত উল্লাহ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী সুরক্ষা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র নাথ দে, আবদুর রাজ্জাক, ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল ভূঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক আনিস লিমন, সাংগঠনিক সম্পাদক কবির নেওয়াজ, আমেনা ইসলাম, মানবাধিকার সম্পাদক মোনালিসা মৌ, উপ-প্রচার সম্পাদক কৌশিক আহম্মেদ সোহাগ প্রমুখ।

এ ছাড়া আরও কয়েকটি সংগঠন নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকাণ্ডে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে।

সোনাগাজীতে মানববন্ধন : সোনাগাজী প্রতিনিধি জানান, রাফির হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বুধবার সকাল ১০টায় সোনাগাজী প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে সোনাগাজী বাজারের জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, বখতার মুন্সি কলেজ, এনায়েত উল্যাহ মহিলা কলেজ, ১৮টি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1104 বার