বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য মন্তব্য মনুষ্যত্বহীনতার বহি:প্রকাশ :বিএনপি

Pub: রবিবার, মে ১৯, ২০১৯ ২:৫৪ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, মে ১৯, ২০১৯ ২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শনিবার, মে ১৮, ২০১৯, সকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র সুচিকিৎসা ও নি:শর্ত মুক্তির দাবীতে দলের নয়াপল্টন হেডকোয়ার্টার্সে প্রেস কনফারেন্সে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছেন, যা শুধু অমানবিকই নয়, নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন মনেরও বহি:প্রকাশ।

সাংবাদিক বন্ধুরা,
পবিত্র মাহে রমজানে সবাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

প্রায় এক বছর তিন মাসের অধিক সময় বাংলাদেশের তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণমানুষের অবিসংবাদিত নেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্টের একটি সাজানো মামলায় নিম্ন আদালতে সাজা দিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে নির্জন কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। ঐ সালেরই ৩১ অক্টোবর নিম্ন আদালতের ৫ বছরের সাজা হাইকোর্ট ১০ বছর বৃদ্ধি করে। এর কয়েক মাস পরে নিম্ন আদালত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট মামলা নামে আরো একটি মামলায় ৭ বছরের সাজা প্রদান করে। এ ছাড়াও এর আগে তাঁর নামে বেশ কয়েকটি বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসমস্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, প্রতিহিংসাপরায়ন এবং শুধুমাত্র বেগম জিয়াকে হয়রানী ও বিপর্যস্ত করার জন্য। বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা প্রদানে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এর পেছনে প্রতিহিংসা কাজ করেছে। এখন দেশে-বিদেশে বিভিন্ন অধিকার গ্রুপ, মানবাধিকার সংস্থা এমনকি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সরকারগুলোর পক্ষ থেকেও বেগম জিয়ার মামলাকে সাক্ষ্য প্রমানহীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করা হয়েছে।

বেগম জিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এক শোচনীয় পরিনতির দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

সাংবাদিক বন্ধুরা,
সেক্ষেত্রে বন্দী হওয়ার অনেক আগে থেকেই নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত একজন বর্ষিয়ান নারীর এই নির্জন মানবেতর কারাবাস স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে তা বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় উপলব্ধি করা যায়। কারাগারে অবস্থানকালীন তাঁর কক্ষের বাথরুমে তিনি পড়ে গিয়ে প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছেন। নির্জন, নিঃসঙ্গ, নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে নিদ্রাহীনতা, উদ্বেগ, বিষন্নতাসহ মানসিক রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার সম্ভবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিরূপ, নিপীড়নমূলক পরিবেশ ও অস্বাভাবিক মানসিক চাপের ফলে তাঁর আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মারাত্মক জীবন-বিনাশী জীবানুদ্বারা ফুসফুসের সংক্রমন বা নিউমোনিয়ার সম্ভাবনা বেশ প্রবল হয়ে উঠেছে। এ ছাড়াও ধারণা করা হয় যে, কারাগারে থাকার সময় সেখানকার পরিবেশের জন্য ভয়ংকর মাত্রার ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়ামের শুন্যতা দেখা দিয়েছে যা’ তাঁর হাড়ের জন্যে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এমনিতেই অনেক আগে থেকেই তিনি বাম কাঁধ ও হাতের ব্যথায় ভুগতেন। এখন সেই ব্যথা ডান কাঁধ ও হাতেও সম্প্রসারিত হয়ে মারাত্মক রুপ ধারণ করেছে। তিনি এখন দুই হাতেই নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করছেন। সর্বশেষ তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, ইনসুলিন ব্যবহারের পরেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না, বরং তা বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে তাঁর মুখে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, এই ক্ষতের জন্য মুখে প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি হয়েছে যার কারণে তিনি স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না, কোনরকমে জাউ খেয়ে জীবন ধারণ করছেন।

অথচ সরকার প্রধান থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতারা বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছেন, যা শুধু অমানবিকই নয়, নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন মনেরও বহি:প্রকাশ। প্রধানমন্ত্রী বলছেন-‘তিনি (বেগম জিয়া) আয়েশ করে পায়েস খাচ্ছেন। তিনি অসুস্থতার নামে নাটক করছেন।’ দেশের একজন বর্ষীয়ান ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের অসুস্থতা নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী যেধরণের বিদ্রুপ ও রসিকতা করে আসছেন তা নজীরবিহীন। এধরনের দৃষ্টান্ত সভ্য দেশ ও সমাজে একেবারেই বিরল। কারাগারের দূষণযুক্ত পরিবেশে তাঁর স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও জীবন সবই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বেগম জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন-বেগম জিয়ার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য একজন বন্দীর মানবাধিকারকে অবজ্ঞা করার শামিল এবং এই বক্তব্য কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে খুশী করার জন্য। বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিষ্ঠুর রসিকতায় একটি স্বৈরাচারী সরকারের ভয়াবহ রুপটিই ফুটে ওঠে।

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো-বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে জটিল নানা রোগে ভুগছেন। ইতোপূর্বে তাঁর দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি লন্ডনে চোখের অপারেশনও সম্পন্ন করেছেন। চিকিৎসকদের পরিভাষায় তিনি একজন বিশেষ পরিচর্যা সাপেক্ষ রোগী (Patient with Special Care Needs)। সে হিসাবে সুচিকিৎসার স্বার্থে তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত পরিচর্যার সকল সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরী, যা সকল সভ্য, গণতান্ত্রিক ও মানবিকতাবোধসম্পন্ন দেশে নিশ্চিত হয়।

প্রকৃত ও যথাযথ সেবার অভাবে, ক্রমান্বয়ে তিনি ঘাঁড়, মেরুদন্ড ও নানাবিধ স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁর এই দীর্ঘকালীন অসুস্থতা কেবলমাত্র দীর্ঘকাল চিকিৎসায় অভিজ্ঞ ও নিয়োজিত ব্যক্তিগত চিকিৎসকদেরই ভালোভাবে জানা আছে। নতুন কোন চিকিৎসক দলের পক্ষে তাঁর সম্পূর্ণ শারীরিক অবস্থা এক নজরে ও এক নিমেষে অনুধাবন ও নির্ণয় করা একেবারেই অসম্ভব। গভীর উদ্বেগের বিষয় এই যে, বেগম খালেদা জিয়ার কোন সাজাই চূড়ান্তভাবে নিস্পত্তি হয় নাই। এমতাবস্থায় জামিন না দিয়ে তাঁকে কারাগারে রাখা সম্পূর্ণরুপে সংবিধান ও মানবাধিকার পরিপন্থী।

সরকারের লোকজন শুরু থেকেই বেগম খালেদা জিয়ার যথাযথ সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করছে বলে দেশ ও বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে আসছেন, কিন্তু কারাগারে থাকার সময় বন্দী দেশনেত্রীর সুচিকিৎসার উদ্যোগ নেয়ার কোন গ্রহণযোগ্য প্রমাণ আজও দেশ ও বিশ্বাসীর কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং সাম্প্রতিককালে সরকার নিয়োজিত চিকিৎসকদল তাঁর স্বাস্থ্য বিষয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন তাতে এক বছর পূর্বে ব্যক্ত সকল অনুমান ও শংকা অক্ষরে অক্ষরে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে সরকারের সুচিকিৎসার দাবীকে সাম্প্রতিক মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট বিন্দুমাত্র সমর্থন করছে না। এই মেডিকেল বোর্ডের লিখিত প্রতিবেদনে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে শংকা ও পূর্বানুমিত ক্রমাবনতির ধারণা এখন প্রতিনিয়ত মারাত্মক অবনতির চিত্রই ক্রমাগত ফুটে উঠছে।

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে নিজ দলের উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার এক পর্যায়ে বলেছিলেন যে, বেগম জিয়া কোনদিনই কারাগার থেকে বের হবেন না। তিনি দেশে এসে সেটি পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করছেন। ইতোমধ্যে কেরানীগঞ্জে আদালত স্থানান্তরের এসআরও জারী করা হয়েছে। এই নির্দেশ কিসের জন্য এবং কার জন্য করা হচ্ছে তা জনগণের বুঝতে বাকী নেই। দেশ কর্তৃত্ববাদী শাসনে এক মহা শৃঙ্খলের মধ্যে আবদ্ধ হয়েছে বলেই ন্যায় বিচার নিরুদ্দেশ হয়েছে। আর সেই কারণে অন্যায় এবং অবিচারের এক চরম বহি:প্রকাশের ফলশ্রুতি হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেয়া। অশুভ উদ্দেশ্যেই কারাগারে আদালত বসানো হচ্ছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার যাতে চরম অবনতি না ঘটে সেজন্য তাঁকে অবশ্যই বিশেষায়িত হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করানো অত্যন্ত জরুরী। তাই আমরা অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি এবং তাঁর পছন্দনীয় হাসপাতালে সুচিকিৎসার জোর দাবি জানাচ্ছি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ