বাজেট নিয়ে যতো প্রতিক্রিয়া

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার এই বাজেট দেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) এই বাজেট উপস্থাপনের পরপরই এ নিয়ে নিজেদের মতো করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও গবেষণভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও গবেষণভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া ‍তুলে ধরা হলো-

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
নতুন (২০১৯-২০) অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটকে কল্যাণমূলক বাজেট বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সব উদ্যোগ-কার্যক্রমই জনগণের কল্যাণের জন্য। এই বাজেট জনকল্যাণমূলক বাজেট।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কে কী বললো, তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। সমালোচনা করার অধিকার সবারই আছে। কেউ ভালো কথা বললে তা আমরা গ্রহণ করবো, আর কেউ ভালো কথা না বললে তা আমরা ধরবো না। 

‘কাউকে কষ্ট না দিয়ে রাজস্ব জোগাড় করতে চাই। ২০২১ সালের মধ্যে এক কোটি করদাতা তৈরি করতে চাই।’ আয়-রোজগার ভালো থাকলে মানুষ কর দিতে উৎসাহী হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।’

বিএনপি
অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেয়ার নৈতিক অধিকার নেই দাবি করে সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি বলেছে, ‘সরকার জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে, একইভাবে বাজেটও দিচ্ছে। যেভাবে জনগণ এই নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি বাজেটও তারা গ্রহণ করবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে প্রকল্প ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। করের মাধ্যমে, ভ্যাটের মাধ্যমে বা অন্যান্য মাধ্যমে এই টাকা সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কেটে নেবে। অনির্বাচিত সরকার একটি অনির্বাচিত সংসদে এই বাজেট দিয়েছে। গণতন্ত্র না থাকায় সুশাসন নেই দেশে। সু-শাসনের অভাবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ বন্ধ, শেয়ার বাজারে অস্থিরতা, ব্যাংকে তারল্য সংকট চলছে। সরকার দেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতির বৃত্তে আবদ্ধ করে রেখেছে। এই ঋণ শোধ দিতে দেশের মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। নাগরিকদের ভুগতে হবে চরমভাবে।’

তিনি বলেন, ‘রফতানির চেয়ে আমদানি বেশি হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি বেকার বাংলাদেশে। প্রবৃদ্ধির যে কথা বলা হচ্ছে, তার সত্যতা নিয়ে মারাত্বক প্রশ্ন আছে। দেশের অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা একটি শ্রেণীর কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে। অনির্বাচিত সরকারের নৈতিক অধিকার নেই বাজেট দেয়ার। সরকার জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে, একইভাবে বাজেটও দিচ্ছে। যেভাবে জনগণ এই নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি বাজেটও তারা গ্রহণ করবে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঘোষিত বাজেটের শিরোনাম দেয়া হয়েছে “সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ- সময় এখন আমাদের সময় এখন বাংলাদেশের”। বর্তমান অর্থমন্ত্রী পরিকল্পনামন্ত্রী থাকাকালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দেয়ালে লেখা দেখা গেছে “সময় এখন আমাদের : সময় এখন বাংলাদেশের”। আবার বছর খানেক আগে টিভির পর্দায় একটি পণ্যের অ্যাডভার্টাইজমেন্ট হিসেবেও শোনা গেছে “সময় এখন আমাদের”। আসলে সময় এখন তাহাদের এবং একমাত্র তাহাদেরই। সেটা বাংলাদেশের মানুষের বুঝতে কোন অসুবিধা হচ্ছে না। বাজেটের শিরোনাম থেকেই উন্নয়নের ‘গীত’ প্রকৃষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই তথাকথিত উন্নয়নের ‘গীত’ আর মানুষ শুনতে চায় না। কর আর দ্রব্যমূল্যের চাপে ভোক্তা সাধারণের এমনিতেই নাভিশ্বাস উঠেছে। আয়-বৈষম্য, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক নৈরাজ্যের কারণে সামাজিক অস্থিরতার মুখোমুখি জনগণ এখন আর উন্নয়নের মিষ্টি কথায় সন্তুষ্ট হতে পারছে না।’

আওয়ামী লীগ
নতুন বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আলাদা আনন্দ মিছিল বের করেছে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।  

আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, এই বাজেট গণমুখী ও গণকল্যাণমুখী। এটি বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বসবাসের উপযোগী একটি আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য পূরণের বাজেট। আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার যে রূপকল্প দিয়েছে, এ বাজেট সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ কাঙিক্ষত লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে যাবে।

তারা বলেন, জাতীয় সংসদে  আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রথম বাজেট। এই সরকারের শাসনামলে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে দেশের অগ্রগতি এসেছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য প্রস্তাবিত বাজেট অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গণমুখী এ বাজেট পেশ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে ধন্যবাদ জানান তারা।

সিপিডি
২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সম্পদশালীদের সুবিধা দেয়া হয়েছে দাবি করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জানিয়েছে  ‘প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যবিত্তদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি। আবার সারচার্জকৃত সম্পদের সীমা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ যারা আয় করে তাদের জন্য সুবিধা বা প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। কিন্তু যারা সম্পদের ওপর নির্ভরশীল তাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কেন দেওয়া হয়েছে, আমাদের কাছে এটি বোধগম্য নয়। এটি সরকারের নির্বাচনী চেতনার সঙ্গেও মিলে না।’

সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নের কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেই। এটা অনেকটা আশ্বাসের মতো। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সরকারের উপর যে চাপ ছিল সেটা প্রশমনের ব্যবস্থা নেই। আর বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সংবিধান পরিপন্থি।’

টিআইবি
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, ‘সামগ্রিকভাবে ক্রমবর্ধমান সম্পদ ও আয়বৈষম্য নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব না রেখে বরং অনিয়ম ও দুর্নীতির মহাৎসবের অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করায় সম্পদ ও আয়বৈষম্য আরো বাড়বে। প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক, দুর্নীতিবান্ধব ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত শূন্য সহনশীলতার পরিপন্থি।’

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ‘কালো টাকা ব্যবহারের সুযোগপ্রাপ্ত খাতে দুর্নীতির একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, সৎপথে এসব খাতে আয় ও সম্পদ আহরণের সুযোগ ধূলিস্যাৎ হবে; এর প্রভাবে দুর্নীতির বিস্তৃতি ও গভীরতা আরো বৃদ্ধি পাবে।’ অন্যদিকে সংকটাপন্ন ব্যাংক খাতের সংস্কারে কার্যকর কোনো পথ নির্দেশ বা পরিকল্পনা না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

মির্জা আজিজুল ইসলাম
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা মির্জা আজিজুল ইসলাম, ‘বাজেটে কৃষি বীমা এবং তরুণদের জন্য বিশেষ ফান্ড গঠন করার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এ দু’টি সিদ্ধান্ত ছাড়া সবই গড়পড়তা আলোচনা এবং সেকেলে।’

তিনি বলেন, ‘বাজেটের ত্রুটি হচ্ছে, যা লক্ষ্যমাত্রা থাকে, তা বাস্তবায়ন না হওয়া। এবারেও তার ব্যতিক্রম নয়। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে বিশেষ কোনো বার্তা নেই। ব্যাংকিং খাতের সমস্যা দীর্ঘদিনের। হাজার হাজার কোটি টাকা উধাও হয়েছে ব্যাংক থেকে। মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছে। এ খাতের সমস্যা দূরীকরণে কোনো নির্দেশনা রাখা হয়নি এবারের বাজেটে। তার মানে সমস্যা জিইয়েই থাকছে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে যে স্থবিরতা, তা দূরীকরণে সুস্পষ্ট কোনো দিক-নির্দেশনা নেই। ঠিক আগেও ছিল না। অথচ এই খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।’

আকবর আলি খান
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা
আকবর আলি খান বলেছেন, বাজেটে আয়–ব্যয়ের যে সংখ্যা বলা হচ্ছে, তা অর্জন হবে না। আর সমস্যা হলো, এই সংখ্যাগুলো কতটা বাস্তব। বাজেট যখন সংসদে পেশ হবে, তখন সংখ্যাগুলো বাস্তব হওয়া উচিত। কয়েক বছর ধরে অবাস্তব সংখ্যার বাজেট পাস করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘সংসদে বাজেট নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। এমন কোনো সংসদ সদস্য পাওয়া যাবে না, যিনি এই বাজেটের পুরোটাই পড়বেন। প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ নিয়ে অর্থমন্ত্রী যে বাজেট উপস্থাপন করেন, তা–ই অনুমোদন হবে। অথচ আমাদের সংবিধানে বলা হয়েছে, প্রতিনিধির মতামত ছাড়া কোনো কর আরোপ করা যাবে না। তাহলে খরচের ওপরও নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। আমাদের কর আরোপ, খরচ কোনো কিছুতেই প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হচ্ছে না।’

বদরুদ্দোজা চৌধুরী
বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ব‌লে‌ছেন, সাধারণভাবে প্রস্তা‌বিত এই বাজেট ইতিবাচক।

তবে বি.চৌধুরী বা‌জে‌টের সমা‌লোচনা ক‌রে ব‌লেন, ‘বাজেটে মোবাইল ফোনে কথা বলার খরচ, সঞ্চয়পত্রের লাভে দ্বিগুণ কর, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ, ব্যাংক সংস্কার এবং শিক্ষার উন্নয়নে দৃঢ় পদক্ষপ নাই। এসব দিক বা‌জে‌টের জন্য ‌নে‌তিবচক।’

বি.চৌধুরী উপজেলায় ট্যাক্স সেন্টার করার প্রস্তাবের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটা সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ।ক্যান্সারের ওষুধের দাম কমানোর প্রস্তাবের জন্যও তিনি সরকারকে সাধুবাদ জানান।  

জামায়াত 
বর্তমান জাতীয় সংসদ জনগণের নির্বাচিত নয় এবং এ সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্বও করে না উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মকবুল আহমাদ বলেছেন, ‘এ অনির্বাচিত সংসদের কোন মূল্য জনগণের কাছে নেই। বর্তমানে দেশে ৪ কোটি লোক দরিদ্র সীমার নীচে বসবাস করছে। অতি দরিদ্র সীমার মধ্যে আছে ২ কোটি মানুষ। দেশের ২ কোটি ৫০ লক্ষ লোক পুষ্ঠিহীনতায় ভুগছে। অথচ বাজেটে দেশের মধ্যবিত্ত, নিম্ম-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র লোকদের জন্য কোন সুখবর নেই। 

মকবুল আহমাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ১২ জুন জাতীয় সংসদে বলেছেন, ‘ঘুষ, খাব না, কাউকে ঘুষ খেতেও দিব না’। অথচ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য সরকার নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সবাইকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুষ দিয়ে এবং নির্বাচনের পরে সরকারী অর্থে তাদের জন্য ভুরি-ভোজের ব্যবস্থা করে তাদের সন্তুুষ্ট করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘুষ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোন কথাই নেই। তাই প্রধানমন্ত্রীর মুখে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফাঁকা ভুলি মানায় না।’ 

জাতীয় পার্টি
সংসদীয় বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত এই চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘বড় বাজেট হয়েছে, কিন্তু নেতিবাচকভাবে দেখছি না। বরং ইতিবাচকভাবে দেখতে চাই। কারণ, আমাদের মতো দেশে সরকার বড় প্রকল্প নেবে, বড় বাজেট দেবে, তাতে দেশের মানুষ উপকৃত হবে-এটাই আমার চাওয়া। যে বিষয়টি কিছুটা হলেও আমাদের ভাবাচ্ছে, তা হলো, প্রচুর ঘাটতি।

তিনি বলেন, ‘রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য এবার গতবারের সংশোধিত বাজেটের চেয়েও বাড়িয়ে রাখা ধরা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ঘাটতি আরো বাড়তে পারে। ফলে উন্নয়ন বাজেট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। তেমন পরিস্থিতি হলে, আমরা সেটাতে একমত হতে পারবো না৷ কারণ, জনগণের স্বার্থে যে উন্নয়ন দরকার, সেটা হওয়া উচিত।’

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘মধ্যবিত্তকে চাপে রেখে ধনীদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছেন অর্থমন্ত্রী এই বাজেটে। বাংলাদেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধির পেছনে যারা মূল শক্তি সেই কৃষক, শ্রমিক, নারী উদ্যোক্তারা অবহেলিতই রইলেন।’

তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থার কথা বলছেন। ব্যাংক খাতের সংস্কারের কথাও বলেছেন। কিন্তু সবই ভবিষ্যত বাচক, বর্তমান এখনও ব্যাংক লুটেরা ও খেলাপিদের হাতেই বন্দি। কেবল আয় বৈষম্যই নয়, আঞ্চলিক বৈষম্য, গ্রাম-শহরের বৈষম্য অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট করছে। বাংলাদেশের সম্পদ এখন কেন্দ্রীভূত মুষ্টিমেয় ধনীর হাতে।’

বাম গণতান্ত্রিক জোট
বর্তমান ভোট ডাকাতির সংসদের বাজেট দেয়ার নৈতিক অধিকার নেই বলে দাবি করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।  বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতারা এক বিবৃতিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করেন। 

প্রতিক্রিয়ায় নেতারা বলেন, জনগণের ভোট ছাড়া গায়ের জোরে ক্ষমতাসীন এ সরকারের এবারের বাজেট পূর্বের মতোই গতানুগতিক, ঋণনির্ভর ও ঘাটতি বাজেট।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফোনঃ +৪৪-৭৫৩৬-৫৭৪৪৪১
Email: [email protected]
স্বত্বাধিকারী কর্তৃক sheershakhobor.com এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত