রমজানকে সামনে রেখেই অস্বাভাবিক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্য

Pub: বুধবার, মে ১৬, ২০১৮ ৮:১৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, মে ১৬, ২০১৮ ৯:০০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এম. শামীম আহমেদ, সিলেট থেকে ::
আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে বাড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর অজুহাত হিসেবে রোজা আর ঈদকে প্রতিবছরই ব্যবহার করেন ব্যবসায়ীরা। তবে বৃষ্টির কারণে এবার শাক-সবজি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে এমন অজুহাতে খুচরা বাজারের বিক্রেতারা মুনাফা অর্জনের জন্য এক অভিনব পন্থা হাতে নিয়েছেন। তাই রমজান যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাজারে বাড়ছে পেঁয়াজ, রসুন, চাল, ডাল, আদা, চিনি, ছোলা, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা ৩০ টাকা করে।
সরবরাহে ঘাটতির অজুহাত যেমন রয়েছে তেমনি সর্বক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ায় দ্রব্যমূল্য বাড়ছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় দাম অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পূর্বের তুলনায় দাম বেড়েছে। স্বাভাবিক রয়েছে চালের দাম। আর কোম্পানিভেদে ভোজ্য তেলের দামও কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা।
খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষজন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পরিবারকে সঠিকভাবে চালিয়ে নিতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন তারা। চাল, ডাল, শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের সীমার মধ্যে না থাকায় চরম ভুগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের। মধ্যবিত্ত একটি পরিবারে পূর্বের তুলনায় বর্তমানে খরচ বাড়তে পারে প্রায় তিন হাজার টাকার মতো। কিন্তু সে তুলনায় তাদের আয় বাড়েনি।
সিলেট নগরীর সর্ববৃহৎ পাইকারি কাঁচাবাজার সোবহানীঘাট, খুচরা বাজার রিকাবীবাজার, লালবাজার, আম্বরখানাসহ অন্যান্য বাজারে গিয়ে দেখা যায়, টমেটো, পেঁপে, ঝিঙা, বেগুন, পটল, করলা, শসা, লাউ, মুলা, পাতাকপি, ঢেঁড়স, আলু, কাঁচামরিচ, বরবটির দাম এক সপ্তার ব্যবধানে অনেক বেড়ে গেছে। আড়ত ও পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরা বাজারেও এ সকল সবজির দাম ক্ষেত্র বিশেষ শহরতলীর কোথাও দ্বিগুণ বেড়েছে। নগরীতে বুধবারে কাঁচামরিচ বিক্রি হয় ৪০ টাকা কেজি প্রতি, এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ১০ টাকা, আলু ১৫/২০ টাকা, বেড়েছে ৪ টাকা, বেগুন ৫০/৬০ টাকা থেকে বেড়েছে ১০ টাকা, গাজর- ৪০ টাকা, বেড়েছে ১০ টাকা, টমেটো- ৪৫/৫০ টাকা, বেড়েছে ১৫ টাকা, শসা- ৪০ টাকা, বেড়েছে ১০ টাকা। লাল বাজারের সবজি দোকান মালিক মুমিন ও সোবহানীঘাট কাঁচাবাজারের আহাদ সহ অনেকের সাথে কথা হলে এতথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়। আর ব্রয়লার মুরগী বিক্রি হচ্ছে ১৩৫/১৪০ টাকা, লাল মুরগী প্রতি পিছ ৩৫০ টাকা, বেড়েছে ৫/১০। গরুর মাংস- ৪৮০ টাকা কেজি, হাড্ডি ছাড়া- ৬০০ টাকা। কলিজা ৪৫০/৫০০ টাকা। খাসির মাংস প্রতি কেজি ৬০০/৬৫০ টাকা। মাংসের বাজার স্থিতিশীল আছে বলে জানা যায়।
এদিকে, নগরীর খুচরা বাজার ও সিলেটের বৃহত্তর পাইকারি বাজার কালিঘাট ঘুরে জানা যায়, পাইকারি বাজারে ডাল বড় দানা- ৫৩, ছোট দানা- ৬০, মুগ ডাল- ৯৫ টাকা কেজি ও চিনি- ৫৩/৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়েছে ৫/৮ টাকা। আর সয়াবিন তেল কোম্পানীভেদে প্রতি লিটার ৭৫/৯৫ টাকায় বিক্রি করছেন বলে জানান কালিঘাটের সন্তেষী ভান্ডার এর কর্মচারী ইসলাম উদ্দিন। বাজার ঘুরে আরো দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি এলসি- ২৬/২৮ টাকা, খুচরা বাজারে ৩০/৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহে বেড়েছে ৬ টাকা। এলসি সুখসাগর পাইকারি ২২/২৪ টাকা, খুচরা ২৫/৩২ টাকা, বেড়েছে ৪/৬ টাকা। রসূন- চায়না পাইকারি ১০০ টাকা, খুচরা ১১০ টাকা, বেড়েছে ১০/১৩ টাকা, ইন্ডিয়ান পাইকারি ৪০ টাকা, খুচরা ৪৫ টাকা, বেড়েছে ১০ টাকা ও দেশি পেয়াঁজ পাইকারি ৩০ টাকা, খুচরা ৩৫ টাকা, দাম বাড়েনি। আদা- চায়না পাইকারি ৯৫ টাকা, খুচরা ১১৯ টাকা, বেড়েছে ১৫ টাকা, ইন্ডিয়ান মিজুরাম (দেশি নামে পরিচিত) পাইকারি ৬৫ টাকা, খুচরা ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, বেড়েছে ১৫ টাকা। কালিঘাটের পুরাতন পাইকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিসমত ট্রেডার্স এর পরিচালক নীলাঞ্জন দাশ টুকু সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়।
এদিকে মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। গত ৮মে (মঙ্গলবার সকালে) নগরভবনে আয়োজিত এক সভায় এ আহবান জানান তিনি। সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ জেড নূরুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক মেয়র বলেন, রমজানের আগে ও পরে কোনভাবেই পণ্যের দাম বাড়ানো যাবেনা। সিসিক এক্ষেত্রে নগরীর প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় রাখতে মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করবে। তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ নয় বরং সাধারণ জনগণকেও দ্রব্যমূল্যের দাম স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। এক্ষেত্রে জনসাধারণ এবং গণমাধ্যম সহযোগীতা করলে সিসিকের লক্ষ্য বাস্তবায়ন অনেকাংশে এগিয়ে যাবে।’
একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরীরত একজনের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে। বাজারে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়লেও তাঁদের কোনো অসুবিধা নেই। তাঁদের অনেকেই কাঁচা বাজারে যান না। সুপারশপে আরো চড়া দামের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে বাজার করেন। অসুবিধা হচ্ছে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষের এবং দেশে এদের সংখ্যাই বেশি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব দ্রব্যের বাড়তি দামে অনেকটা অস্বস্তিতে পড়েছেন ভোক্তা সাধারণ। আর এ জন্য বাজার নিয়ন্ত্রণকারী অসাধু সিন্ডিকেট এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং টিম মাঠে না থাকাকেই দায়ী করছেন তারা।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1277 বার