সিলেট হবে দেশের প্রথম ডিজিটাল সিটি: সেমিনারে মোস্তফা জব্বার

Pub: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮ ১০:০৮ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮ ১০:০৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মো. এনামুল কবীর, বিশেষ প্রতিনিধি :: বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল সিটি হবে সিলেট। সরকার সেই লক্ষে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছে বাংলাদেশের নেতৃত্বে। বর্তমান বিশ্বের শিল্পোন্নত অনেক দেশের আগে এই বাংলাদেশ থেকেই শুরু হয়েছে ডিজিটাল দেশ গঠনের উদ্যোগ এবং সেটি ২০০৮ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে। এর অনেক পরে ইংল্যান্ড জার্মানিসহ বিশ্বের আরও কয়েটি দেশ এমন উদ্যোগ গ্রহন করে।

তিনি সিলেট ইলেক্ট্রনিক্স সিটিই বাংলাদেশের সিলিকন ভ্যালী হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যাক্ত বলেছেন এটা এখন আর শুধু স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা।

রবিবার সকালে সিলেটে একটি সেমিনারে তিনি তার প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র যৌথ উদ্যোগে ‘হাই-টেক পার্ক, সিলেট (সিলেট ইলেক্ট্রনিক্স সিটি)তে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। সিলেট চেম্বারের কনফারেন্স হলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ এর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব মোঃ নজিবুর রহমান, বাংলাশে হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম, এনডিসি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা জব্বার বলেন, প্রথম দ্বিতীয় বা তৃতীয় শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশের কোন ভূমিকা ছিলনা। এই বিপ্লবগুলো থেকে আমরা পিছিয়ে ছিলাম যোজন যোজন। কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকার শিল্পোন্নত দেশগুলোর অনেক আগেই আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ঘোষণা দিয়েছি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ নিয়ে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই এই উদ্যোগ গ্রহন ও বাস্তবায়ন করতে শুরু করেন। আমাদের অনেক পরে ইংল্যান্ড-জার্মানি বা বিশ্বের অন্য আরও কয়েকটি দেশ এমন কর্মসূচি গ্রহন করে। একদিন আমরা এমন এক জায়গায় গিয়ে পৌঁছাবো বিশ্বের অন্য কোন দেশ আমাদের ছুঁতে পারবেনা।

তিনি বলেন, দেশের শ্রেষ্ঠতম আইটি পার্ক হবে সিলেট ইলেক্ট্রনিক্স সিটি। আমরা সেভাবেই তা গড়ে তুলছি। প্রাকৃতিক পরিবেশ, নৈসর্গিক সৌন্দর্য সুরক্ষার পাশাপাশি বিনিয়োগের নিরাপত্তাও আমরা নিশ্চিত করবো। তিনি অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সিলেট-ঢাকা রুটে বিমানের সকাল-সন্ধ্যা ডমেস্টিক ফ্লাইট চালু এবং নগরীতে একটি তথ্যকেন্দ্র স্থাপনেরও আশ্বাস দিয়েছেন। মন্ত্রী প্রতিবেশি ভারতের সেভেন সিস্টার খ্যাত রাজ্যগুলোতে বাজার সম্প্রসারণের অপার সম্ভবনার কথাও তুলে ধরেন।

এছাড়া সরকারও সহযোগিতা দিয়ে বিনিয়োগকারীদের বাজার সৃষ্টিতে সহায়তা করবে বলে সিলেটের ব্যাবসায়ীদের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল সিটি হবে সিলেট। ডিজিটাল সিলেট প্রকল্প নামের একটি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সিলেটের মেয়র নগরীতে কিছুটা ডিজিটাল ছোঁয়া দিয়েছেন। আমরা পুরোপুরি ডিজিটাল করে সিলেটকে নিরাপদ নগরীতে রূপান্তর করবো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান বলেন, হাই-টেক পার্ক ও সিলেট ইলেক্ট্রনিক্স সিটি কোন বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সুখী সমৃদ্ধ মধ্য আয়ের দেশ গঠন এবং রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের  ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন।

তিনি ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভোলিউশনে সিলেট সম্পৃক্ত হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিভিন্ন প্রকল্প নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। নির্দিষ্ট সময়ে যাতে প্রকল্প শেষ হয় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকতে হবে। তিনি বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সিলেট-ঢাকা রুটে বিমানের সকাল-সন্ধ্যা ডমেস্টিক ফ্লাইট চালু এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় ২১০০ সাল ডেল্টা প্ল্যান গৃহীত হচ্ছে। যার মাধ্যমে ভাটি এলাকাগুলো অনেক উপকৃত হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাশে হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম বলেন, সিলেট ইলেক্ট্রনিক্স সিটির প্রকল্প দ্রæত বাস্তবায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের সবধরণের সুযোগ সুবিধা দিতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন সেজন্য এক পয়েন্ট থেকেই তাদের সবধরণের সেবা প্রদান করা হবে।

এছাড়া সিলেট ইলেক্ট্রনিক্স সিটির তথ্য জানার জন্য বিভাগীয় সদরে একটি তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সভাপতির বক্তব্যে ইমরান আহমদ এমপি বলেন, সিলেট ইলেক্ট্রনিক্স সিটি হবে বিনিয়োগকারীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সমৃদ্ধি অর্জনে এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে আগামীতে লন্ডনে একটি মতবিনিময় করা হবে বলে জানান। ইমরান আহমদ বলেন, বাংলাদেশ সর্বক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করছে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র কোন বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কের ৪৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারীর মধ্যে এই সড়ক এবং সিলেট-জাফলং সড়কের কাজ সম্পন্ন হলে যোগাযোগের আর কোন দূর্ভোগ থাকবেনা। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ। সেমিনারে প্রকল্পের অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন হাই-টেক পার্ক, সিলেট প্রকল্পের প্রধান পরামর্শক স্থপতি ইকবাল হাবিব এবং প্রকল্প সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্যাদি উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুলিশ সিলেট রেঞ্জ এর ডিআইজি মো. কামরুল আহসান, বিপিএম ও সিলেটের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মৃণাল কান্তি দেব। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক দেবজিৎ সিংহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও উন্নয়ন)  আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম, বাংলাদেশের ব্যাংক, সিলেটের মহাব্যবস্থাপক জীবন কৃষ্ণ রায়, কাস্টম্স, এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনারেট সিলেট এর যুগ্ম কমিশনার মিনহাজ উদ্দিন, মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ্, এফবিসিসিআই এর পরিচালক সালাহ্ উদ্দিন আলী আহমদ, শাবিপ্রবির প্রফেসর মোঃ সাহিদুর রহমান, ড. মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হায়দার, সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী, সহ সভাপতি মোঃ এমদাদ হোসেন, পরিচালক মোঃ হিজকিল গুলজার, পিন্টু চক্রবর্তী, মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান (ভূট্টো), মুকির হোসেন চৌধুরী, আব্দুর রহমান, চন্দন সাহা, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, মোঃ আব্দুর রহমান (জামিল), হুমায়ুন আহমেদ, আলহাজ্ব মোঃ আতিক হোসেন, মুজিবুর রহমান মিন্টু প্রমুখ।

সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আইটি উদ্যোক্তা সহ বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন। সিলেট ইলেক্ট্রনিক্স সিটিতে প্লট বরাদ্দ চেয়ে ইতিমধ্যে ৫০ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেছেন বলেও জানিয়েছেন সিলেট চেম্বার কর্তৃপক্ষ।

শীর্ষ খবর/এক


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1115 বার