বুধবার বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম’র ৯ম মৃত্যু বার্ষিকী

Pub: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

একে কুদরত পাশা, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি::
১২ সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ৯ম মৃত্যু দিবস। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগে ২০০৯ সালের এই দিনে তিনি সিলেটের নুরজাহান জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। শাহ আব্দুল করিমের ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে উজান ধল গ্রামে তার স্ত্রীর কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। তিনি তার গানে জীবন এবং মৃত্যু সম্পর্কে এভাবে বলেন,
বাউল আব্দুল করিম বলে
জীবন লীলা সাঙ্গ হলে
শুয়ে থাকব মায়ের কোলে
তাপ অনুতাপ ভুলে।
শাহ আব্দুল করিমের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে তার পরিবার এবং বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ উপলক্ষে শাহ আব্দুল করিম পরিবারের পক্ষ থেকে ওই দিন জোহরের নামাজের পর মিলাদ মাহফিল, বিকেল তিনটায় আলেচানা সভা, আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত থাকবেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ, সন্ধ্যার পর থেকে পর দিন ফজর পর্যন্ত করিম ভক্তদের উদ্যোগে সাড়া রাত করিম গীতির আসর চলবে।
ভাটির জনপদ সুনাসমগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ধল আশ্রম গ্রামে ১৯১৬ ইংরেজীর ১৫ ফেব্রুয়ারী শাহ আব্দুল করিম জন্ম গ্রহণ করেন। শাহ আব্দুল করিমের জন্মের সময় তখনকার সমাজ, পরিবেশ, পরিস্থিতি ইংরেজদের আনুক’ল্যে বেড়ে উটেছেন। আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন মারা যান মখন শাহ আব্দুল করিমের বয়স ২৫। সে সময়টায় বেচে ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।শাহ আব্দুল করিম বেড়ে ওঠার সময় লোক সাহিত্যের একটি উজ্জল পরিবেশ ছিল।
শাহ আব্দুল করিমের জন্ম এক দিনমজুর পরিবারে। পিতা ইব্রাহীর আলা মা নাইওরজান বিবি। জন্মের পর থেকে অভাবের মধ্যেই তিনি বেড়ে উঠের। অভাবের কারণে শিক্ষা লাভের সুযোগ আসেনি তার জীবনে। তাই গ্রামের সড়লের বাড়িতে গরু রাখালের চাকরী নিলেন তিনি। সাড়া দিন মাঠে গরু ছড়াতেন আর গান গাইতেন। এ গানই রাখাল বালককে বাউল সম্রাটে পরিণত করেছে।
১৯৫৪ সারে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদর্ িও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন মুসলিম লেিগর বিরুদ্ধে বৃহত্তর সিলেটে গণসংােগে আসতেন তখন তাদের সফরসঙ্গী হতেন বাউল আব্দুল করিম।
১৯৬৭ সালে শেখ মুজিব পাকিস্তানের দুর্নীতিদমন মন্ত্রী থাকাবস্তায় সুনামগঞ্জে প্রথম সরকারী সফরে আসেন। কোন এক কারণে সেদিন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর জনসভা বর্জন করেছিলেন। তখন শাহ আব্দুল করিম জনমভাস্থলে এসে গান ধরেন তখন জনসভাস্থল লোকে লোকারন্ন হযে উঠে।
১৯৬৯ সালে সুনামগঞ্জের জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে করিমের গণসঙ্গীত শুনে আবেগে আল্পুত হয়ে শেখ মুজিব মাইকে দাড়িয়ে বলেছিলে, শেখ মুজিব বেচে থাকলে করিম ভাইও বেচে থাকবেন, করিম ভাই যেখানে শেখ মুজিব সেখানে।
৯৭০ সারের নির্বাচনে শেখ মুজিবের ভাটি অঞ্চল নির্বাচনী প্রচারাভিযানে একমাত্র মধ্য মনি ছিলেন শাহ আব্দুল করিম।
১৯৮৬ সালে শেখ হাসিনা যখন এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান চালাতে ভাটি অঞ্চলে আসেন তখন তার সফর সঙ্গী ছিলেন শাহ আব্দুল করিম।
১৯৯৫ সালে শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জ দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভায় শাহ আব্দুল করিমকে বলেছিলেন, ’আমার বাবা যার গানের ভক্ত ছিলেন, আমি তাকে উপযুক্ত সম্মান দেব।
২০০১ সারে তৎকালী পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে এক কর্মী সভায় বলেছিলেন, সুনামগঞ্জে আওয়ামিলীগের প্রতিষ্টাতা শাহ আব্দুল করিমেরস্তূমিকা অন্যতম।
শাহ আব্দুল করিম ৫৪’র নির্বাচন ৬৯,এর গণ আন্দোলন, ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি পর্যায়ে স্বরচিত গনসঙ্গীত পরিবেশন করে জনতাকে দেশ মার্তৃকার টানে উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করেছেন। তাঁর গণসঙ্গীতে মুগ্ধ হয়ে মাওলানা আব্দুল হামিদ থান ভাসানী তাঁর পিটে হাত রেখে বলেছিলেন-বেটা, গানের একাগ্রতা ছাড়িও না, তুমি একদিন গণ মানুষের শিল্পী হবে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণসঙ্গীত শুনে একশ পচাশি টাকা দেন, শেখ মুজিব ১১ টাকা দিয়ে বলেন, তোমার মতো শিল্পীকে উপযুক্ত মর্যাদা দেয়া হবে।
শাহ আব্দুল করিমের গানের বিভিন্ন বই প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় আফতাব সঙ্গীত, ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয় গফঙ্গীত, ১৯৮১ সালে কালনীপ ঢেউ, ১৯৯০ সালে ধলমেলা, ১৯৯৮ সালে ভাটির চিঠি, ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় শাহ আব্দুল করিম রচনা সমগ্র।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1089 বার

আজকে

  • ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ৯ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 
 
 
 
 
সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com