বিশ্বনাথে সরকারি রাস্তায় ব্যাক্তিগত তোরণ, উত্তেজনা-শংকা

Pub: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ ৪:৩৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মো. এনামুল কবীর, বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট :: বিশ্বনাথে সরকারি রাস্তায় ব্যাক্তি মালিকানায় তোরণ নির্মানের ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যখন তখন সংঘর্ষেরও আশংকা ব্যাক্ত করেছেন এলাকাবাসী। তবে এ ব্যাপারে তদন্ত কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসেনর নির্ভরযোগ্য সূত্র।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। খুব দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এলাকাবাসীর স্মারকলিপি সূত্রে এবং মোবাইল ফোনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্বনাথের খাজাঞ্চি ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের ৯টি গ্রামের প্রায় ৫/৬ হাজার মানুষ চলাচলের একমাত্র রাস্তা হচ্ছে ঘাসিগাঁও রেলক্রস-কিশোরপুর-হোসেনপুর-খাজাঞ্চি-কামাল বাজার রাস্তা। এটি সরকারি রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন আমরগাঁও, পাহাড়পুর, লালারগাঁও, ঘাসিগাঁও, কিশোরপুর, হোসেনপুর, তবলপুর, রহিমপুর ও তেলিখালা গামের বাসিন্দারা রাজাগঞ্জ ও মুফতির বাজারে যাতায়াত করেন।
এছাড়াও হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হারিস মিয়া কিন্ডারগার্টেন, খাজাঞ্চি একাডেমি এ্যান্ড উচ্চ বিদ্যালয়, লজ্জতুন্নেসা দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় ও রাগীব রাবেয়া ডিগ্রি কলেজে প্রায় দেড়শ’ শিক্ষার্থীও যাতায়াত করেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রাস্তায় সম্প্রতি একই গ্রামের মৃত আব্দুল খালিকের পুত্র ফয়সল আহমদ একটি তোরণ নির্মাণ করেন তার নিজের হোসেনপুর বড় বাড়ির নামে। তার এমন কাজে ভবিষ্যতে রাস্তাটি বন্ধ হওয়ার আশংকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ। তারা বারবার অনুরোধ করেও তোরণ নির্মাণ থেকে ফয়সলকে বিরত রাখতে পারেন নি। রাতের আঁধারে তিনি নিজের বাড়ির নামে তোরণটি নির্মাণ করেন।

সরকারি রাস্তায় ব্যাক্তিগত তোরণ নির্মাণের কারণে এলাকাবাসী আতংকিত, ভবিষ্যতে যদি প্রভাবশালী ফয়সল ও তার লোকজন রাস্তাটি বন্ধ করে দেন? তখন কি উপায় হবে তাদের? তাছাড়া সরকারি রাস্তায় ব্যাক্তিগত উদ্যোগে ব্যাক্তি বিশেষের বাড়ির নামে তোরণ নির্মাণের বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

আর তাই সংঘবদ্ধ হয়ে তারা ৬ আগস্ট (২০১৮) বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে অবিলম্বে তোরণ ও পাকা দেয়াল অপসারণের দাবি জানানো হয়। এছাড়া স্মারকলিপির অনুলিপি সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছেও পাঠানো হয়।

স্মারকলিপিতি স্বাক্ষর করেন ঐ এলাকার গৌছ আহমদ মেম্বার, গৌছ আলী, আব্দুর রহিম, আশিক মিয়াসহ প্রায় ৪০ জন সচেতন নাগরিক। এরপর নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন। বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরাকে। তিনি কয়েকদিন আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে এসেছেন। এই অফিসের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ভূমি কর্মকর্তা তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। এখন সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদারের সাথে মোবাইলে আলাপকালে বলেন, বিষয়টির তদন্ত চলছে। আমি সংশ্লিষ্ট সব মহলকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়েছি। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

এদিকে উপজেলা ভূমি অফিসার ফাতেমাতুজ জোহরা জানিয়েছেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছি। এখন উর্ধ্বতন কর্তৃৃপক্ষ যথাযত ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন।’
রিপোর্টের বিষয়বস্তু তিনি না জানালেও উপজেলা প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, ভূমি কর্মকর্তা তার রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, তোরণটির উপরের অংশ সরকারি রাস্তার উপর হলেও দু’পাশের দেয়াল ও খুঁটি ব্যাক্তি মালিকানার ভূমিতে। মানে তোরণ নির্মাতা ফয়সলের ভূমিতে।

তবে এ বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুটি খুঁটি এবং পাকা দেয়ালটিও সরকারি ভূমিতে। এব্যাপারে কথা বলতে তোরণ নির্মাতা ফয়সল আহমদের মোবাইলে (০১৭১৫৫৭৪৩৮৩) বারবার কলদিলেও উত্তরে ‘নম্বরটি ব্যাবহার হচ্ছে না’ বলে জানায় মোবাইল কোম্পানিটি।

এদিকে তোরণ অপসারণের দাবিতে স্থানীয়দের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরেও তারা বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল আহমদ চৌধুরীর সাথে দেখা করে জোরালোভাবে তাদের দাবি তুলে ধরেছেন।

উল্লেখ্য, প্রায় ১১, কোথাও কোথাও ১৮ ফুট প্রস্ত রাস্তাটি বিশ্বনাথ উপজেলার প্রাচীন রাস্তাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর আগে ১৯৯৮ সালে একবার হঠাৎ করে এই রাস্তার ভূমির মালিকানা (জেএল নং ২৪, খতিয়ান নং ০১, দাগ নং ৩০১, মৌজা-পূর্ব প্রয়াগমহল, বর্তমান-হোসেনপুর) দাবি করে মামলাদায়ের করেছিলেন ফয়সলের পিতা আব্দুল খালিক। মামলায় তিনি পরাজিত হয়েছিলেন।

পরে ২০০৮ সালে আবারও ফয়সলদের বাড়ির সোনাফর আলীর দুই পুত্র কয়েস আহমদ ও হেলাল আহমদ আবারও রাস্তায় দেয়াল ও তোরণ নির্মাণের চেষ্টা করলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশাসন তা উচ্ছেদ করে। এখন আবারও ফয়সল তোরণ নির্মাণের মাধ্যমে গোটা এলকাবাসীর শান্তি নষ্টের পাশাপাশি যখন তখন আরও বড় ধরণের বিশৃংখলা বা আইনশৃঙখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর ইন্ধন বা উস্কানি দিচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন এলাকাবসী।

তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসন যথাযত আইনি পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে তোরণ ও দেয়াল অপসারণের উদ্যোগ নিবেন।

শীর্ষ খবর/এক


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1096 বার