fbpx
 

প্রিমিয়ামের টাকা আত্মসাত, কিছুই জানেন না কর্মকর্তারা!

Pub: Tuesday, October 9, 2018 8:40 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এনামুল কবীর, বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট :: বীমা কোম্পানীর উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার প্রতারণায় দিশাহারা অবস্থা গ্রাহকদের। ঐ কোম্পানীর সিলেট ব্রাঞ্চের অন্য কোন কর্মকর্তা এ ব্যাপারে কোন কথাই বলতে চাননা। ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও গ্রাহকরা কোন সদুত্তর পাচ্ছেন না। বছরের পর বছর ধরে তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। আর ঐ কোম্পানীটির সিলেট অফিসে এখন আর ঐ প্রকল্পের কোন কর্মকর্তাও নেই। এ অবস্থায় প্রতারিত গ্রাহকদের হয়রানি কেবল বাড়ছেই। ঐ বীমা কোম্পানীর নাম পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড। আর কর্মকর্তার নাম আখতার বাসিত।

দেশের সহজ সরল জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষনের জন্য লোভনীয় নামের বিভিন্ন প্রকল্প চালু করছে বীমা কোম্পানীগুলো। ধর্মীয় আবেগ অনুভ‚তিকে পুঁজি করে বানিজ্যই তাদের মূল লক্ষ্য। কোরআন হাদিসের নানা ব্যাখ্যা বিশ্লেষনের মাধ্যমে তারা গ্রাহককে বীমা করতে উদ্বুদ্ধ করেন। তারপর মাঝপথে কোন কোন কর্মকর্তা হাওয়া হয়ে যান। এরপর প্রতারিত গ্রাহককে টাকা হারানোর যন্ত্রনার পাশাপাশি সইতে হয় আরও নানা দুর্ভোগ-বিড়ম্বনা।

এমন অবস্থায় পড়েছেন সিলেট মহানগরীর মধুশহীদ এলাকার গাজী কামরুল ইসলাম। তিনি পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর ইসলামী বীমার তাকাফুল প্রকল্পে ৫ লাখ টাকার বীমা ঝুঁকি গ্রহন করেন ২০১১ সালের ৯ মার্চ। কোম্পানীর সিলেট বিভাগীয় অফিসের জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আখতার বাসিতের মাধ্যমেই তিনি এই বীমা করেছিলেন (পলিসি নম্বর ০৫০১০৩০৫৩৯-১)। চুক্তি ছিল ১২ হাজার ৪শ’ টাকা করে মোট ১৭টি কিস্তি জমা দেওয়ার পর তিনি লভ্যাংশের ২৫ ভাগ তুলতে পারবেন। সে অনুযায়ী কামরুল মোট ১৯টি কিস্তি জমা দেন। তিনি সর্বশেষ কিস্তি জমা দিয়েছিলেন প্রায় সাড়ে ৩ বছর আগে, ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল। এরপর লাভের টাকা তুলতে গেলে কোম্পানীর কর্মকর্তারা জানান, তার মাত্র ৫টি কিস্তি জমা হয়েছে। অন্যগুলো জমা হয়নি। তিনি মানি রিসিট দেখালে কর্মকর্তারা জানান, সেগুলো নকল।

মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে কামরুলের। ইতিমধ্যে আখতার বাসিতও লাপাত্তা। পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের সিলেট ব্রাঞ্চের কর্মকর্তারা এই প্রকল্পের কিছু জানেন না বলে কামরুলকে ঢাকায় যোগাযোগ করতে বলেন। গত ৩ বছরের বেশি সময় থেকে কখনো ঢাকায় কখনো সিলেটে ছুটাছুটি করেও কোন সুফল পাননি কামরুল।

তিনি জানান, সর্বশেষ তাকে ঢাকা থেকে বলা হয়েছে, আখতার বাসিতের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তার কাছ থেকে টাকা উদ্ধার সম্ভব হলে তিনি তা পাবেন। আর সম্ভব না হলে কোম্পানীর কিছু করনীয় নেই। তিনি আরও জানিয়েছেন, এ অবস্থায় পড়েছেন আরও অনেকে।

এ ব্যাপারে আলাপকালে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের সিলেট বিভাগীয় শাখার একক বীমা প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, এটা পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের ইসলামী বীমার তাকাফুল প্রকল্প। সিলেটে আখতার বাসিত নিখোঁজের পর এখানে আর কোন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আর তাই বিষয়টি নিয়ে নির্দিষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারবেনা।

তিনি আরও বলেন, যতদুর জানি কোম্পানীর পক্ষ থেকে আখতার বাসিতের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তার কারণে অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর বেশি তিনি আর কিছু বলতে পারেন নি। তবে তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে পারবেন পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর ইসলামী বীমার তাকাফুল প্রকল্পের সিনিয়র প্রকল্প পরিচালক (ঢাকা) সৈয়দ সুলতান মাহমুদ।

এ ব্যাপারে কথা বলতে সৈয়দ সুলতান মাহমুদের নম্বরে মঙ্গলবার বার বার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এদিকে গাজী কামরুল তার জমাকৃত টাকার ১৯টি মানিরিসিট দেখিয়ে জানান, তিনি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬শ’ টাকা জমা দিয়েছেন। অথচ কোম্পানীর কর্তারা বলছেন ৫ কিস্তিতে মাত্র ৬২ হাজার টাকা পেয়েছেন। বাকী ১লাখ ৭৩ হাজার ৬শ’ টাকা আখতার বাসিত মেরে দিয়েছে। কামরুলের প্রশ্ন, এর দায় কি কোম্পানীর নয়? আখতার বাসিত কোম্পানীর একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।

তিনি আরও অনেক গ্রাহকের টাকা মেরে পালিয়েছেন। মানুষ কান্নাকাটি করছে। আর কোম্পানীর কর্মকর্তাদের দায়িত্ব কেবল মামলা দিয়েই খালাস! আমরা টাকা ফেরত চাই।

শীর্ষ খবর/এক


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ