কোম্পানীগঞ্জ ভূমি অফিসে দুর্নীতি : নেপথ্যে সুজন সাহা

Pub: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯ ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯ ২:৫৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কোম্পানীগঞ্জের ভূমি অফিসকে দুর্নীতির আখড়া বানিয়ে ফেলেছেন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (সহকারী তহশীলদার) সুজন সাহা। ভূমি অফিসের মধ্যে এমন কোন অনিয়ম নেই যা তিনি করেন না। স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে তিনি ভূমি অফিসে অনিয়ম করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ফলে নিরীহ ভূমি মালিকরা সর্বত্র অর্থদণ্ড দিচ্ছেন ও সীমাহীন বিড়ম্বনার সম্মুখীন হচ্ছেন। এভাবে দুর্নীতি করে সুজন সাহা মাসিক ২০ লাখ টাকারও বেশী অবৈধ আয় করছেন।

“সাত-পাঁচ চৌদ্দ। না দেন দুই, দেন তো তাড়াতাড়ি বারো।” এই অদ্ভূত হিসেবটি বহুদিন ধরে আমাদের দেশের বিভিন্ন ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর একশ্রেণির অসাধু প্রকৃতির কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে প্রচলিত আছে। সাধারণ মানুষদের ঠকানোর জন্য দেশের ভূমি অফিসের অসাধুরা সর্বদা ওঁৎ পেতে থাকে। বলা হয়ে থাকে যে, দেশের যেক’টি সেক্টরে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়ম ওপেন-সিক্রেট, তন্মধ্যে ভূমি অফিস শীর্ষে। কারণ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শেকড় অনেক গভীরে। এর মূলোৎপাটন করা বলতে গেলে কোনো সরকারের দ্বারা সম্ভব নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করেছেন তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করলে দুর্নীতিবাজরা যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন তাদের মূলোৎপাটন এ সরকারের আমলেই সম্ভব।

জানা যায়, ২০১৫ সালের মার্চে কানাইঘাট উপজেলার চতুল ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে বদলী হয়ে কোম্পানীগঞ্জে যোগদান করেন সুজন সাহা। যোগদানের কিছুদিন পর থেকেই দুর্নীতির ডালপালা মেলেন সুজন। রাতারাতি ভূমি অফিসে অপরাধী চক্রের নেতা হয়ে যান তিনি। শুরু করেন দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্য। খাজনা আদায় ও নামজারি প্রতিবেদনের গুরু দায়িত্ব রয়েছে সুজন সাহার উপর। তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন ঠিকই তবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। টাকা না দিয়ে কোন নামজারি প্রতিবেদন হয় না তার কাছে। নামজারি আবেদনের পর তাকে ৩/৪ হাজার টাকা না দিলে ফাইল জমা হয় না। তৈরী হয় না প্রতিবেদন।
অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, খাজনা আদায়ে সুজন সাহা অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকেন। যে খাজনায় পাঁচশত টাকা খরচ হয় সে খাজনায় তাকে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা না দিলে খাজনা নেন না। যারা তাকে খাজনার অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করেন তাদেরকে আইনের মারপ্যাচের ভয় দেখান। যদি তাতেও কাজ না হয় তবে তার স্থানীয় দালালদের দিয়ে তার কাঙ্খিত টাকা আদায় করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা ভূমি অফিসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও তাদের আড়ালে কখনও নিজে আবার কখনও দালালদের দিয়ে দুর্নীতি করে যাচ্ছেন সুজন সাহা।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা বলেন, যারা দুর্নীতি করে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। শক্ত হাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ করবো। প্রমাণ পেলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা তৎপর রয়েছি।

এ ব্যাপারে সহকারী তহশীলদার সুজন সাহার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘‘আপনি এভাবে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন না। আর আমি এভাবে আপনাকে উত্তর দিতে বাধ্য নই বলে ফোন কেটে দেন।”

বিস্তারিত ২য় পর্বে। …


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1381 বার