মিরাবাজারে আজও উদ্ধার হয়নি সংখ্যালঘু মনোজ দে’র জমি

Pub: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯ ৯:৫০ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯ ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট নগরীর মিরাবাজারে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের পৈত্রিক বসতবাড়ি জাল নামজারির মাধ্যমে জবরদখলকারী জামায়াত নেতাদের কবল থেকে আজও উদ্ধার হয়নি। জমি দখলে নানা পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে মিরাবাজারের আব্দুল মুতলিবের ছেলে রেজাউল করিম রেজা গং।
এ নিয়ে বিগত সময়ে সিলেটে সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন আগপাড়ার মৌসুমী-১৯ নম্বর বসতবাড়ির মালিক মনোজ দে। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ব্যাপারে রেজাউল করিম রেজা বলেন, ওই ৮ শতক জমি আমার বাবা কিনেছিলেন মনোজের বাবার কাছ থেকে কিন্তু বাবা ভুল বশত দলিল করেননি। যাহা ২০১৬ সালের ৯ জুন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
জানা যায়, মিরাবাজারের আগপাড়ার মৌসুমী-১৯ নম্বর বাসাসহ ১০৭২৮ নম্বর দাগের মোট ৬৬ শতক ভূমির মালিক ছিলেন মনজ দে’র বাবা বিমল কান্তি দে, কাকা বিভূতি ভুষণ দে ও তার ঠাকুর মা রাজি বালা দে। ১৯৬০ সালে সিলেট সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে সম্পাদিত ৫৭৮৭/৬০ নম্বর দলিলে তার বাবা, কাকা ও ঠাকুর মা ১৭ শতক জমি বিক্রি করেন মৌলভী আব্দুর রহমান ও মৌলভী শেখ আব্দুল মুতলিবের কাছে। পরে ঠাকুর মা মারা গেলে বাকি ৪৯ শতক জমির মালিক হন তার বাবা বিমল কান্তি দে ও তার কাকা। পরে ৫৭৮৭/৬০ নম্বর দলিল ও সদর অ্যাসিল্যান্ডের ১১৯৯/৭৫-৭৬ মকদ্দমা মূলে আব্দুর রহমান ও আব্দুল মুতলিব আলাদা খতিয়ানে এই ১৭ শতক জমি নামজারি করে নেন। পরে ১৯৬৬ সালে একই দলিলের ক্রেতা আব্দুর রহমান ৭১৯৭/৬৬ নম্বর দলিলে তার ক্রয়কৃত সাড়ে ৮ শতক জমি আব্দুল মুতলিবের কাছে বিক্রি করে দখল ত্যাগী হন। তখন এই দাগে আব্দুল মুতলিবের জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭ শতক। বাকি ৪৯ শতক জমি থেকে ১৯৭৬ সালে বিমল কান্তি দে এর অংশ থেকে ১৮ শতক ৪০ পয়েন্ট, কাকা বিভূতি ভুষণের অংশ থেকে ৬০ পয়েন্ট মোট ১৯ শতক জমি ১২১৯৮/৭৬ নম্বর দলিলে মুহাম্মদ ফজলুর রহমানের কাছে বিক্রি করেন। এরপর দুই ভাইয়ের বাড়ির আপোষ ভাটোয়ারার মাধ্যমে ১০৭২৮ নম্বর দাগে পৈত্রিক সূত্রে ৮ শতক জমির মালিক হন বিমল কান্তি দে (ছেলে মনোজ দে)।
কিন্তু মনোজ দে’র পৈত্রিক ওই ৮ শতক জমি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানার জালালপুর ইউনিয়নের রায়খাইল গ্রামের নছর উল্লাহ, সুরুজ মিয়া গংদের ৫৭৮৯/৬০নং দলিল দেখিয়ে অবৈধভাবে ২০১৪/১৫ ইংরেজিতে নামজারী করে নেন জামায়াত নেতা রেজাউল গং। এ ঘটনায় সদর সেটেলমেন্ট অফিসে ৩১ ধারা মোতাবেক মামলা দায়ের করেন মনোজ দে। পরে মামলায় রায় মনোজ দে পক্ষে আসে। তাছাড়া জাল দলিল প্রমাণিত হওয়ায় সিলেট ভূমি কমিশনার অফিস থেকেও জামায়াত নেতাদের ভূয়া নামজারি বাতিল করে মনোজ দে’র নামে এসএ রেকর্ডিয় মৌরসী স্বত্ত্বাধিকারী হিসেবে নামজারি বহাল রাখেন।
জায়গার প্রকৃত মালিক মনোজ দে থাকা স্বত্ত্বেও আজও পৈত্রিক ভিটায় যেতে পারেননি। অবৈধ দখলকারী রেজাউল গংরা এখনও জায়গা দখলের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ