fbpx
 

সাংবাদিক জয়ন্ত সন্ত্রাসী হামলায় আহত

Pub: বুধবার, মে ৮, ২০১৯ ৮:৩৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, মে ৮, ২০১৯ ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একে কুদরত পাশা, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন শাল্লা উপজেলা সভাপতি দৈনিক সুনামকণ্ঠের শাল্লা উপজেলা প্রতিনিধি জয়ন্ত সেনের ওপর নৃশংস হামলা করেছে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র। মঙ্গলবার রাতে বাড়ি থেকে সুনামগঞ্জ ফেরার পথে জয়পুর ও নিয়ামতপুর গ্রামের মধ্যবর্তী নির্জন স্থানে জয়ন্তকে বেধড়ক মারধর করে মৃত মনে করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও দু’টি মোবাইল ফোনসহ নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে এলাকার কয়েকজন লোক তাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে এসে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সদর হাসপাতালের ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে রেফার করার পরামর্শ দিলে সুনামগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিকরা পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে সদর হাসপাতালেই রাখার অনুরোধ জানান।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আনন্দপুর গ্রামের গোপাল রায় এলাকার এক হতদরিদ্র শিশুকন্যাকে কয়েক মাস আগে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সাংবাদিক জয়ন্ত সেন এ বিষয়ে রিপোর্ট করেন। গোপালের ভয়ে পরে ওই মেয়েকে অন্যস্কুলে ভর্তি করান মেয়েটির বাবা। তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করার পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় সাংবাদিক জয়ন্ত অসহায় ওই ছাত্রীর পক্ষে সংবাদ করায় এবং তার পিতাকে সহযোগিতা করায় ক্ষুব্ধ হয় গোপাল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। উল্লেখ্য গোপালকে গত ১০ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিন স্কুলের ভোট কেন্দ্র দখল করে ভোট দিলে প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। এছাড়াও গোপাল গ্রামের স্কুলের জায়গা দখল করেও স্থায়ী বসতঘর নির্মাণ করায় সাংবাদিক জয়ন্ত প্রতিবাদ করেছিলেন। এর জের ধরে একই গ্রামের রিংকু রায় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ালে সাংবাদিক জয়ন্ত কিছুদিন আগে শাল্লা থানার ওসিকে ব্যবস্থা নিতে ফোনে অনুরোধ করেন। ওই ঘটনায় গোপাল রায়ের নির্দেশে রিংকু রায় সাংবাদিক জয়ন্ত সেনের ওপর হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। এই চক্রকে সুনামগঞ্জে থেকে উস্কানী ও সহযোগিতা করছে বিপ্লব নামের এক ব্যক্তি।
সাংবাদিক জয়ন্ত সেনের পরিবার জানান, মঙ্গলবার রাতে বাড়ি থেকে সুনামগঞ্জে আসার পথে গোপাল রায়, রিংকু রায়, ইন্দ্র রায়সহ কয়েকজন দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক জয়ন্ত সেনের বাড়ি ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে সুনামগঞ্জে আসার পথে ওঁৎ পেতে থাকা এই সন্ত্রাসীরা নিয়ামতপুর ও জয়পুর নামক স্থানে তাকে বেধড়ক মারধর করে। তার ডান পা ভেঙে দেয়। মাথা, গলা, কাঁধ ও বুকে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি লুটিয়ে পড়েন। নির্জন স্থানে হামলা করে সন্ত্রাসীরা গোপালের নেতৃত্বে তাকে মৃত ভেবে চলে যায়। এলাকার লোকজন বাড়ি আসার পথে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়ে তার ভাতিজা সাগর সেনকে খবর দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. বিশ্বজিৎ গোলদার তাকে প্রথমে সিলেটে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করতে চাইলে জেলার কর্তব্যরত সাংবাদিকরা সুনামগঞ্জে রেখেই চিকিৎসার অনুরোধ জানালে সুনামগঞ্জেই তার চিকিৎসা চলছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সাংবাদিক জয়ন্ত সেন শঙ্কামুক্ত নন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ি যাবার পরই তার পিছু নেয় গোপাল রায়ের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা। এসময় সাংবাদিক জয়ন্ত সেন পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান, ওসি আশরাফুল ইসলাম, দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদক বিজন সেন রায়, কালের কণ্ঠ ও একাত্তর টিভির সাংবাদিক শামস শামীমকে ফোনে তার ওপর আক্রমণের আশঙ্কার কথা জানান। সাংবাদিক শামস শামীম সাথে সাথে শাল্লা থানার ওসিকে ফোন দিয়ে বিষয়টি অবগত করে তাকে নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।
শাল্লা থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক জয়ন্ত আমাকে মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি ফোনে অবগত করেছিলেন। আমি দুষ্কৃতিকারীদের আমার অফিসার দিয়ে তাকে বিরক্ত না করার জন্য জানিয়ে দিয়েছি। এরপরও তার ওপর এই আক্রমণ মেনে নেওয়া যায়না। আমরা এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেব।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ