রুবেলের হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন

Pub: মঙ্গলবার, মে ১৪, ২০১৯ ১১:৩৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, মে ১৪, ২০১৯ ১১:৪০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে চোর প্রতিবাদ দিয়ে রুবেল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পৌরসভার কাউন্সিলর মো. মাসুদ মিয়ার নির্দেশে রুবেলকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করছে নিহতের পরিবার।

এ হত্যাকাণ্ডে নিহত রুবেলের মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাসুদ মিয়াকে প্রধান আসামি করে ২০ জনের নামে রোববার মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন বাবুল, তুহিন মিয়া, রুমান, আশরাফ, সাহেল, আলীম, রাজন, রুমান, সাবুল, রুশেদ, উসমান, বাপ্পি, আনোয়ার, আবদুল্লাহ, বিল্লাল আহমদ, উমর মিয়া, আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বদরুল মিয়া ও আবুল কালাম।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আনোয়ার, তুহিন মিয়া, বিল্লাল, মাছুম ও বারিক মিয়াকে আটক করেছে। তবে পুলিশ বলছে এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

নিহত রুবেল পৌর শহরের হিলালপুর এলাকার মৃত শহীদ উল্ল্যাহর ছেলে। পৌর শহরের বড়কাপন এলাকায় শনিবার বিকালে রুবেলকে মারা হয়।

কাউন্সিলরের ফাঁসির দাবিতে নিহত রুবেলের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের হিলালপুর এলাকায় রোববার দুপুরে মানববন্ধন করে। মানববন্ধনের ব্যানারে তারা কাউন্সিলর মো. মাসুদ মিয়াকে ঘাতক বলে আখ্যায়িত করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, শনিবার বিকালে নিহত রুবেল বাজার করতে পৌরশহরের পশ্চিম বাজারে যাওয়ার সময় কুদরত উল্ল্যাহ রোডে কাউন্সিলরের লোকজন পরিকল্পিতভাবে চোর চোর বলে তাকে ধাওয়া করে। এ সময় রুবেল আত্মরক্ষার জন্য একটি দোকানে ঢোকে। দোকান থেকে তাকে জোরপূর্বক টেনে সিএনজিতে তুলে মামলার তুহিন মিয়ার বাড়ির পিছনে নিয়ে যায়।

এ সময় মামলার প্রধান আসামি কাউন্সিলর মাসুদ মিয়ার হুকুমে তার অনুসারীরা লোহার রড, জিআই পাইপ, কাঠের বর্গা ও ধারালো দা দিয়ে রুবেলকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে মৃত্যু নিশ্চিত জেনে পালিয়ে যায়। পরে টমটম ড্রাইভার আউয়াল মিয়া টমটমে রুবেলকে মৌলভীবাজার ২৫০শয্যা হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথে রুবেল মারা যায়।

এ ঘটনায় নিহত রুবেলের মা ফাতেমা বেগম বলেন, ৫ মাস আগে বারিক মিয়ার ছেলের সঙ্গে আমার ছেলের ঝগড়া হয়। পরবর্তীতে ওই ঝগড়া শেষ করার জন্য একাধিকবার কাউন্সিলর মাসুদ মিয়ার কাছে গেলে তিনি সমাধান করে দেননি। আজ-কাল কিংবা পরশু বলে দিন অতিবাহিত করেন। কিন্তু সমাধান করেননি।

তিনি বলেন, এই শত্রুতার জের ধরে মাসুদ মিয়া তার লোকজন দিয়ে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করে হত্যা করেছেন। সন্ত্রাসীরা তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় দা দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে। শরীরের একাধিক জায়গায় ডিল মেশিনের ছিদ্রের চিহ্ন রয়েছে। প্রস্রাবের রাস্তায়ও প্লাস দিয়ে চাপ দেয়।

নিহত রুবেলের মা আরও বলেন, আমার ছেলে গুরুত্বর আহত হওয়ার পর পানি চাইলে তাকে প্রস্রাব খাওয়ানো হয়।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজ বলেন, আমি রুবেলকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় হাসপাতাল দেখতে গেলে সে বলেছে, আসামিরা তাকে বেঁধে ব্যাপক মারধর করেছে এবং পানি চাইলে পানির পরিবর্তে প্রস্রাব খাওয়ায়।

এবিষয়ে জানতে পৌর কাউন্সিলর মাসুদ মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দিলে উনার স্ত্রী নাহিদা ফোন রিসিভ করে বলেন, মাসুদ আহমেদ বাহিরে আছেন। ঘরে আসলে বলব আপনাকে ফোন দেয়ার জন্য।

মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, আসামিদেরকে রিমান্ডে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ