fbpx
 

মহিলা আইনজীবী খুন: ইমামের দেয়া তথ্যে মোবাইল উদ্ধার

Pub: বুধবার, মে ২৯, ২০১৯ ৮:৪২ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, মে ২৯, ২০১৯ ৮:৪২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মহিলা আইনজীবী আবিদা সুলতানা (৩৫) হত্যা মামলার রিমান্ডে থাকা প্রধান আসামি মসজিদের ইমাম তানভীর আলমের দেয়া তথ্যে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এদিকে মামলার দ্বিতীয় আসামি তানভীরের ছোটভাই আফছার আলমকে গ্রেফতারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ অনেক দূর অগ্রসর হলেও তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে তা প্রকাশ করছে না।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, আইনজীবী আবিদা সুলতানা হত্যা মামলার ৩ আসামির রিমান্ড শুরু হয় গত মঙ্গলবার। ১০ দিনের রিমান্ডে থাকা প্রধান আসামি স্থানীয় মসজিদের ইমাম তানভীর আলম (৩৪) প্রথম দিনেই পুলিশের নিকট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এ মুহূর্তে তা প্রকাশ করছে না। তার দেয়া তথ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার বরুনা মাদ্রাসা এলাকার একটি বাসায় রাখা তানভীরের ব্যাগ থেকে পুলিশ নিহত আইনজীবীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।

এ বাসা থেকেই সোমবার শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আবদুছ ছালেকের নেতৃত্বে পুলিশ ইমাম তানভীরকে আটক করে। এতেকাফের কথা বলে আগেই সে এ বাসায় উঠেছিল।

গত ২৬ মে বড়লেখায় পৈত্রিক বাসায় খুন হন মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও জজকোর্টের নিয়মিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবিদা সুলতানা। তিনি উপজেলার কাঠালতলী মাধবগুল গ্রামের মৃত হাজী আব্দুল কাইয়ুমের বড় মেয়ে।

হত্যাকাণ্ডের পরই ওই বাসার অপরাংশের ভাড়াটিয়া স্থানীয় মসজিদের ইমাম তানভীর আলম (৩৪) বাসায় তালা ঝুলিয়ে স্ত্রী ও মাকে শ্বশুড়বাড়ি পাঠিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে শ্রীমঙ্গল থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ স্ত্রী হালিমা সাদিয়া (২৮) ও মা নেহার বেগমকে (৫৫) আটক করেছিল।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী স্বামী শরিফুল ইসলাম বসু মিয়া বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক জানান, ১০ দিনের রিমান্ডে থাকা প্রধান আসামী তানভীর রিমান্ডের প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তার দেয়া তথ্যে খুন হওয়া আইনজীবীর মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। তবে এখনও হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ জানা যায়নি। রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

তদন্ত কর্মকর্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন: আবিদা সুলতানা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসিম উদ্দিন বুধবার দুপুর ১২টায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল বাসা পরিদর্শন করেছেন। মামলার প্রধান আসামি তানভীর আলম যে মসজিদে ইমামতি করতেন সে মসজিদ এবং নিহতের পৈত্রিক পুরাতন বাড়ি ঘুরে দেখেন। এছাড়াও তিনি ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে তাৎক্ষণিক উত্তেজনাবশত ইমাম তানভীর আলম হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন। তবে হত্যার মোটিভ উদঘাটনে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইমাম তানভির আলমের পরিচয়: সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার ছিলারকান্দি গ্রামের ময়নুল ইসলামের ছেলে তানভীর আলম। স্থায়ী ঠিকানা সিলেটের জকিগঞ্জ হলেও কয়েক বছর ধরে সে বড়লেখা উপজেলার চরকোনা গ্রামে বসবাস করছেন। মাত্র ৩ মাস আগে নিহত আবিদা সুলতানার পিতার নির্মিত পারিবারিক মসজিদের ইমাম হিসেবে চাকরি নেন।

এর আগে বড়লেখার বরইতলি নামক এলাকায় একটি মসজিদে ইমামতি করলেও মসজিদ কমিটি সেখান থেকে বের করে দেয়। নতুন কর্মস্থল মসজিদে যোগদানের পর স্ত্রী, মা ও ছোটভাইকে নিয়ে নিহত আবিদা সুলতানার পৈত্রিক বাসায় নামমাত্র ভাড়ায় বসবাস করত।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ