কাইমার মাঠে ঐতিহ্যের দাওয়াতি ফুটবল খেলা

Pub: বৃহস্পতিবার, জুন ৬, ২০১৯ ২:৫৪ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, জুন ৬, ২০১৯ ২:৫৪ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একে কুদরত পাশা:
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কাইমা গ্রামের রয়েছে ক্রিড়া, সাহিত্য সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধশালী ইতিহাস। ষাটের দশকে কাইমা মাঠে আয়োজন করা হয়েছিলো দিরাইথানা টুর্নামেন্ট। শর্তছিলো টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহণকারিদের তিনদিনের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাকরতে হবে আয়োজক গ্রামকে। সে সময়ে গ্রামের হাজী আব্দুল জব্বার, হাজী আব্দুল খালিক, মজম্মিল আলী, ইসমাইল আলী, ইয়াছিন আলী, খলিলুর রহমান, আব্দুল মজিদ সেই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ক্রীড়া জগতে কাইমা গ্রাম নতুন ইতিহাস সংযোজন করে।
ষাট থেকে নব্বই দশক ছিলো কাইমা গ্রামের স্বর্ণযুগ। তৎকালীন সময়ে কাইমা গ্রামে প্রত্যেকের ছিলো সুন্দর টিনের বাংলো। কাইমা গ্রামে যাত্রাপালা ও ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা ছিলো নিয়মিত আয়োজন। নব্বইর দশকে নিয়মিত প্রকাশ হতো একটি সাহিত্য সাময়িকি। বর্তমানে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ায় গ্রামটি হারাতে বসেছে অতীথ ইতিহাস তবে গ্রামের কিছু যুবক আঞ্জুরুল মিয়া, আব্দুল ময়িদ, সবুর হোসেন, আনজির পাশা, সুমন মিয়া, বাবলু, আবু ছালিম তা ধরে রাখতে চেষ্টা করছে।
কাইমা মাঠে নিয়মিত আয়োজন করা হতো দাওয়াতি ফুটবল খেলার। যে সব গ্রামে কাইমা গ্রামের আত্মীয় স্বজন রয়েছে বা যে গ্রামের খেলোয়ারদের সাথে কাইমা গ্রামের খেলোয়ারদের ভালো সম্পর্ক সে সব গ্রামকে আমন্ত্রণ জানানো হতো দাওয়াকি খেলায়। সে সময় নিয়ম ছিলো যারা দাওয়াতি হয়ে আসবে তাদের বিজয়ী হতে হবে। বিজয়ী না হওয়া পর্যন্ত কাইমা টিমের সাথে খেলতে হবে তবে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করবে গ্রামবাসী। তবে বর্তমানে বাংলো না থাকায় খেলার নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন দাওয়াতি খেলা হয় এক দিনে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার
কাইমামাঠে দাওয়াতি ফুটবল খেলায় মুখোমুখি হবে ধল বনাম কাইমা, শুক্রবার মুখোমুখি হবে বীরগাঁও বনাম কাইমা।
কালিয়াকোটা হাওরের পূর্ব দক্ষিণ পাড়ের এ গ্রামটিতে শিক্ষার আলোজলে অনেক আগে। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্টা হয় কাইমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। সে সময়ে কেজাউড়া, কাইমা, বেগমপুর, মধুপুর, দলুয়া, আনোয়ারপুর গ্রামের ছাত্র ছাত্রীরা লেখাপড়া করতো এ গ্রামের বিদ্যালয়ে।
হাওরের মানুষের বৈশাখি ধান কাটাশেষেই হাতে কোন কাজ থকতো না। সে সুযোগে জৈষ্ঠ্য মাস থেকেই কাইমা গ্রামে আয়োজন করা হতো রহিম বাদশা ও রূপবান কন্যা যাত্রা পালার। গ্রামের মজম্মিল আলী ও ইয়াছিন আলী ষাট থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত গ্রামে যাত্রাপালাকে লালন করেছেন। গ্রামের নবাব উল্লাহর বারবাড়ী ছিলো মাঠের চেয়ে বড়। ছিলো অনেক বড় বাংলো ঘর। সেই বাংলোতেই চলতো যাত্রাপালার রিয়ারসেল। শেষে তাদের বাইরবাড়ীতে মঞ্চায়ন করা হতো যাত্রাপালার। জৈষ্ঠ্য মাস থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত কাইমা গ্রামে মঞ্চায়ন করা হতো একের পর এক যাত্রাপালার। হাজর হাজর দর্শক থাকলেও সেখানে কোন ঝগড়া বিবাদ হতো না। মজম্মিল আলী ও ইয়াছিন আলীর মৃত্যুর পর কাইমা গ্রামে আর যাত্রা পালার আয়োজন করা হয়নি।
কাইমা মাঠের ঘোড়ার দৌড় চক্কর ছিলো অনেক নামকরা। প্রতি বছর গ্রামের মাঠে আয়োজন করা হতো ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতার। শত শত মানুষের চারদিনের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতো গ্রামবাসী। কাইমা গ্রামের ঘোড়া চায়নিচ স্টার, টান্ডামীল, লালবাহাদুর ও দুলদুল জেলাব্যাপী কাইমা গ্রামকে পরিচিতি ও সম্মানীত করেছে।
কাইমা গ্রামের ইতিহাস ঐতিহ্য হারাতে বসলেও ক্রীড়া অঙ্গনে গ্রামের এ প্রজন্মের প্রতিনিধি আমিনুল, সালমান, পাবলু, রুমন, জহির মিয়া, মইনুল-১, মইনুল-২, সাজেদ, জব্বার, পারভেজ, জুনেদ পূর্বশুরীদের ইতিহাস ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
ষাটের দশকে থানা টুর্নামেন্ট আয়োজনকারী গ্রামটি এখন দু গ্রামের একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করার শক্তিনেই। এ প্রজন্মের কিছু প্রতিনিধি পূর্বের ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করলে গ্রাম থেকে সহযোগিতা করা হয়না। গত বছর টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলেও মারামারি আশঙ্খায় গ্রামবাসীর চাপে আয়োজকরা আগেরদিন টুর্নামেন্ট বাতিল করতে বাধ্য হয় আয়োজকরা।
শত প্রতিকূলতা অতিক্রম করেও গ্রামের কিছু তরুণ গ্রামের অতীথ ইতিহাস ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছে। তারা এখনো বিশ্বাস করে সামাজিক সম্প্রীতি ফিরিয়ে এনে কাইমা গ্রাম আবারো স্ব-মহিমায় আর্বিভূত হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ