fbpx
 

সিলেট যুবদলে মান্নান যুগের অবসান, এখনো আছেন মামুন

Pub: মঙ্গলবার, অক্টোবর ৮, ২০১৯ ১:২৪ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, অক্টোবর ৮, ২০১৯ ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডেস্ক নিউজ : সিলেট জেলা যুবদলের বয়স চলছে এখন ১৯ বছর। ২০০০ সালে জেলা যুবদলের কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। আর মহানগর যুবদলের কোন কমিটি হয়নি আজও।

দীর্ঘ ১৯ বছর পর সোমবার জেলা যুবদলের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা নিলেন আব্দুল মান্নান। তবে সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন পদ থেকে সরতে নারাজ। দলের এই দুর্দিনে পদ ছেড়ে দিলে দলের ক্ষতি হবে সেই চিন্তা করেই মামুন ইস্তফা দেননি বলে জানিয়েছেন এ প্রতিবেদককে।

জানা গেছে, সিলেট জেলা যুবদলের কমিটি গঠন করা হয়েছিলো ২০০০ সালের মার্চ মাসে। এর মধ্যে পেরিয়ে গেছে দেড় যুগেরও বেশি সময়। নতুন করে যুবদলের আর কোন কমিটি হয়নি। যুবদলের আংশিক এই কমিটি দিতে পারেনি পূর্ণাঙ্গ একটি কমিটি। শুরু থেকেই এই কমিটি চলছিলো জোড়াতালি দিয়ে। ২০০১ সাল থেকে কার্যত: সভাপতির দায়িত্ব নেন আব্দুল মান্নান। যুবদলের এই কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তালাত আজিজ। দায়িত্ব নেয়ার দুই মাস পর যুক্তরাজ্যে চলে যান সাধারণ সম্পাদক আজিজ। পরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান কানাইঘাটের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুন। এরপর থেকেই দলের জেলা শাখার দায়িত্বে রয়েছিলেন মান্নান-মামুন।

দীর্ঘদিন থেকে সিলেটে নেই যুবদলের কোন কার্যক্রম। প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। সিলেট জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন যুবদল থেকে বিদায় নেয়া মান্নান। বিএনপির এই কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে ছিলেন মামুনুর রশিদ মামুনও। গত ৩ অক্টোবর সিলেট জেলা বিএনপির ২৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে রয়েছেন মান্নান-মামুন। পাশাপাশি তারা যুবদলের জেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ আঁকড়ে রয়েছেন দীর্ঘ ১৯ বছর থেকে। যুবদল সভাপতি মান্নানের বয়স এখন ৫৫ বছর আর সাধারণ সম্পাদক মামুনের বয়স ৫৩ বছর।

সোমবার দুপুরে জেলা যুবদলের এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মূল দল বিএনপির দায়িত্ব পাওয়ায় যুবদলের জেলা শাখার সভাপতি থেকে ইস্তফা নেন আব্দুল মান্নান। আর এতেই যুবদলে মান্নান যুগের অবসান হলো। সভায় সিলেট জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়।

সভাপতি বিদায় নিলেও বিদায় নেননি সম্পাদক মামুন। দলের এই দুর্দিনে তার অনুপস্থিতিতে সক্রিয় কেউ না থাকায় ইস্তফা দেননি বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন তিনি। দলের এই বিপদে পদ ছেড়ে দেয়া ঠিক হবেনা বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে আর যুবদলে থাকতে চাননা তিনি। নতুন কমিটি এলে বিদায় নেবেন মামুন।

২০০৩ সালে সিলেট পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয়। তৎকালীন সময়ে জেলা যুবদলের আওতাভুক্ত ছিল যুবদলের শহর কমিটি। জেলা যুবদল শহরে একটি কমিটি দিয়েছিল। গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদ হোসেন চৌধুরী টিপুকে সভাপতি আর বর্তমান সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মইন উদ্দিন সুহেলকে সাধারণ সম্পাদক করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বিগত তত্ত্বাবদায়ক সরকারের আমলে টিপু চলে যান যুক্তরাজ্যে। আর সুহেল বিগত দুই কমিটি থেকে সিলেট মহানগর বিএনপির পদ-পদবীতে রয়েছেন।

সিলেট যুবদলের কার্যক্রম শুরু থেকেই চলছিলো খুঁড়িয়ে-খুঁড়িয়ে। জেলা কমিটি প্রথম কয় বছর সাংগঠনিক কার্যক্রম চালালেও বিগত কয় বছর থেকে রাজনীতির মাঠে তাদের তেমন দেখা যায়নি। আর মহানগর যুবদলের কমিটি না থাকায় সিলেটে আরও দুর্বল হয় এই সংগঠনটি।

যুবদল থেকে বিদায় নেয়া আব্দুল মান্নান বলেন, মূলত গত তিন বছর থেকে আমি বলে আসছি যুবদল আর করবোনা। সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার আওতায় সোমবার সভায় তিনি ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে বিএনপির রাজনীতি করে আসছি। এই বয়সে যুবদল করতে আমাকে আর মানায়না।

দলের একটি সুত্রে জানা গেছে, যেকোনো সময় সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি আসতে পারে। নতুন কমিটি হলে ঝিমিয়ে পড়া সিলেট যুবদল ফিরে পাবে পুরনো জৌলুস এই দাবী এক নেতার। আর এতেই বিলুপ্তি হবে ১৯ বছরের বুড়ো সিলেট যুবদলের কমিটি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ