fbpx
 

সিলেট বিএনপিতে ‘ভূতের আচর’

Pub: Saturday, November 2, 2019 10:33 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে: দীর্ঘ দেড় বছর থেকে দলের প্রধান যখন কারাগারে বন্দি, তখন নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনের চেয়ে দলের পদবী নিয়ে আন্দোলনকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। গেল বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রেরণ করেন আদালত। এরপর শুরুর দিকে নেত্রীর মুক্তি আন্দোলন কিছুটা দেখা দিলেও পরে সে আন্দোলন আর দেখা যায়নি। সিলেটে বিএনপি নেতাদের মধ্যে শুরু হয় পদ-পদবী নিয়ে আন্দোলন।

গেল বছরের ১৪ জুন সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। কমিটি ঘোষণার পরপরই ছাত্রদলের মধ্যে তুমূল আন্দোলন শুরু হয়। কমিটিকে অযোগ্য, পকেট কমিটি উল্লেখ করে বিদ্রোহীরা আন্দোলন শুরু করেন। কমিটি গঠনের পরই প্রায় ডজন খানেক নেতা পদত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন আন্দোলনের পর বিদ্রোহীরাও ধসে পড়ে, কিছুটা নীরব হয় ছাত্রদল।

গতকাল হঠাৎ করেই সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে সিলেট জেলা যুবদলের আহবায়ক করা হয় নারী নির্যাতন মামলার আসামি ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পাপলুকে। আর সাবেক ছাত্রনেতা নজিবুর রহমান নজিবকে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক করা হয়েছে। ঘোষিত কমিটিতে জেলা শাখায় সদস্য সচিব করা হয়েছে জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মকসুদ আহমদকে। আর মহানগর শাখায় সদস্য সচিব করা হয়েছে শাহ নেওয়াজ বক্ত তারেককে।

এ কমিটি গঠনের পরপরই সিলেটে বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গণে ক্ষোভের বিষ্ফোরণ ঘটে। অনেকেই ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটিকে ‘মুক্তাদির গ্রুপ’ এর কমিটি বলে আখ্যায়িত করেছেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি আব্দুল মালিক খন্দকারের পুত্র।

ওইদিনই বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসাইন চৌধুরী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন।

সূত্র জানায়, এ চার নেতা গতকাল শুক্রবার রাতেই বৈঠক করেন। সর্বশেষ যুবদলের কমিটি কোন যোগ্যতায় দেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে কেন্দ্রে যোগাযোগ করে কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গতকাল সকালে এ বিষয়টি জানাজানি হলে বিএনপিসহ সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিরও নেতৃত্ব দিয়েছেন। শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সিলেটের প্রথম কমিটির সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে আরিফুল নগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। ২০১৩ সালে তিনি প্রথম সিটি নির্বাচন করে মেয়র পদে নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হন। সামসুজ্জামান সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বিএনপির ‘নিখোঁজ’ নেতা এম ইলিয়াস আলীর অনুসারী একজন নেতা হিসেবে পরিচিত তিনি। আবদুর রাজ্জাক জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ২০১৮ সালে দলীয় প্রতীকে সিটি নির্বাচনে তিনি প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন জেল খেটেছেন।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা যুবদলের সদ্য সাবেক কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে এতে দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের রাজনীতি করা কেউ ঠাই পাননি। ঠাই পেয়েছেন বিশেষ একজন কেন্দ্রীয় নেতার অনুসারীরা।

তবে ইকবাল বাহার চৌধুরী কোন কেন্দ্রীয় নেতার অনুসারীরা কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বা কার ইশারায় কমিটি দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ঠ বলেননি।

বিতর্কিত কমিটি দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত তারেক রহমান সিলেটে বিতর্কিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুবদল পদবঞ্চিত বিভিন্ন জনের স্ট্যাটাস দেখলে বুঝা যায়- বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের অনুসারীদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। এমনকি কমিটিতে যারা স্থান পেয়েছেন তারা সবই মুক্তাদির সাপোর্টার। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের মুক্তাদিরের পক্ষেই তারা মাঠে কাজ করেছেন।

তাছাড়া বিগত সময়ে যখন সিলেটে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয় তখন-ই পদবঞ্চিত নেতারা কমিটিকে মুক্তাদিরের পকেট কমিটি বলে উল্লেখ করেছেন। এ থেকে স্পষ্ঠ বুঝা যায় বর্তমানে সিলেটে বিএনপি’র একক আধিপত্য বিস্তার করছেন খন্দকার মুক্তাদির। তবে- সেটাকে আধিপত্য নয়, ‘ভূতের আচড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন- ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি নিয়ে সিলেটে বিএনপির রাজনীতিতে যে দাঙ্গা শুরু হয়েছে তা বেড়েই চলেছে। সিলেটকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি শূণ্য করতেই এভাবে এক নেতার অনুসারীদের দিয়ে কমিটি বাণিজ্য করা হয়েছে। যদি রাজনীতির এ দাঙ্গা সমাধান না করা হয় তাহলে অচিরেই সিলেটে বিএনপির রাজনীতি ধ্বসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ