fbpx
 

সিলেটে সেই ভিডিও নিয়ে আলোচনার ঝড় সালাম মেম্বারের ভয়ে মুখ খুলিনি

Pub: Saturday, November 23, 2019 1:53 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
‘ওরা এমনভাবে মেরেছে, মনে হয়েছিল মারাই যাবো। পরে ছেড়ে দেয়ার পর ভয় পেয়ে যাই। ভয়ে এতদিন মুখ খুলিনি। পুলিশ অভয় দেয়ার পর মামলা করতে থানায় যাই।’- সিলেটের জকিগঞ্জে নির্যাতনের শিকার হওয়া গিয়াস উদ্দিন গতকাল সাংবাদিকদের
কাছে এ কথা বলেন। শুধু জকিগঞ্জ নয় গোটা দেশের মানুষের কাছে এখন পরিচিত মুখ গিয়াস উদ্দিন। উঠোনে বাঁশের সঙ্গে টানিয়ে বেধড়ক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে তার ওপর। ঘটনা গত মার্চ মাসের। ৭ মাস আগের ঘটনা এলাকার মানুষ ভুলেই গেছেন।

কিন্তু নির্যাতনের সময়কার ২৫ সেকেন্ডের ভিডিও আবার জাগিয়ে তুলেছে পুরো ঘটনা। নাড়িয়ে দিয়েছে সবাইকে। হচ্ছে তোলপাড়ও। প্রথমে জকিগঞ্জ, এরপর গোটা দেশে এখন তোলপাড় এই ভিডিও নিয়ে। ভিডিওটি বেশি সময়ের নয়। নির্যাতনকারী মেম্বার আবদুস সালামের পক্ষের লোকজনই কৌতূহলবশতঃ ভিডিওটি মোবাইলে ধারণ করেছিলেন। আর ৭ মাস পর সেটি ছেড়ে দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- স্থানীয় প্রভাবশালী আবদুস সালাম মেম্বার চুরির অপবাদে একটি বাড়ির উঠোনে বাদুরঝোলা করে বাঁশে টানিয়ে রাখেন গ্রামের গিয়াস উদ্দিনকে।

এরপর হাতের বাঁশ দিয়ে গিয়াসের পায়ে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। এ সময় নির্যাতনের শিকার হওয়া গিয়াস ‘মাগো মাগো-বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছিলেন। কিন্তু কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি। সবাই দাঁড়িয়ে নির্যাতনের দৃশ্য অবলোকন করছিলেন। পুলিশসহ স্থানীয়রা জানিয়েছেন- আবদুস সালাম মেম্বারের লোকজন তখন নির্যাতনের ভিডিওটি ধারণ করেন। প্রথমে তারা ভিডিওটি ইন্টারনেটে প্রকাশ করেননি। নির্যাতনের বিষয়টি যখন সবাই ভুলতে বসেছিলেন তখন এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। বুধবারই বিষয়টি পৌঁছে যায় সিলেটের জকিগঞ্জ পুলিশের হাতে। সিলেটের এসপি ফরিদ উদ্দিনও বিষয়টি অবগত হন। এরপর এসপি এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ওসি জকিগঞ্জকে নির্দেশ দেন। নিজেও নামেন তদারকিতে। নির্যাতনের ২৫ সেকেন্ডের ফুটেজ ছড়িয়ে পড়া মাত্র ভয় পায় নির্যাতনকারী সালাম মেম্বার ও তার সহযোগীরা। তারা গা ঢাকা দেয়। পুলিশের অভয়ে বৃহস্পতিবার সকালে থানায় মামলা করেন গিয়াস উদ্দিন। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর পরই অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে সালাম মেম্বারের তিন সহযোগী ইউপি সদস্য এবাদুর রহমান, আনোয়ার হোসেন ও শাহজাহানকে। তবে খুঁজে পায়নি আবদুস সালাম মেম্বারকে। সালাম মেম্বারকে অনেকেই ‘ফকির মাস্তান’ হিসেবে চেনেন।

গ্রেপ্তারের পর সালামের তিন সহযোগী পুলিশের কাছে ঘটনা স্বীকার করে। এদিকে- ঘটনায় মামলা দায়ের ও তোলপাড় হওয়ার পর গা ঢাকা দেয় সালাম মেম্বার। প্রস্তুত নেয় ভারত যাওয়ার। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকালে জকিগঞ্জ পুলিশ তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। জকিগঞ্জ থানা পুলিশ গতকাল সকালে সালাম মেম্বার ও তার ৩ সহযোগীকে আদালতে সোপর্দ করে ৭ দিনের রিমান্ড চায়। গতকাল রিমান্ডের শুনানি না হওয়ার কারণে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়। জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মো. আবদুন নাসের দুপুরে জানিয়েছেন- সালাম মেম্বার ও তার সহযোগীরা গিয়াস উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তবে- আরো অনেক ঘটনার অভিযোগ রয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। এ কারণে আদালতে তাদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আর গিয়াসের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় আর কেউ জড়িত কী না- এ ব্যাপারেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তিনি জানান- পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছে। দ্রুততম সময়ে যাতে বিচার হয় পুলিশ সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

জকিগঞ্জের কালাসার ইউনিয়নের বড়বন্দ গ্রামের লোকজন গতকাল জানিয়েছেন- গিয়াসের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ইউপি সদস্য এবাদুর রহমানের বাড়িতে। শাহজাহান নামের এক ব্যক্তির কাছে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে সালাম মেম্বার ওরফে ফকির মাস্তানের নির্দেশে এবাদুর ও আনোয়ার তাকে বাঁশের সঙ্গে বাদুরঝোলা করে টানায়। এরপর সালাম মেম্বার তাকে মারধর করে। পরে গিয়াসের পরিবারের সদস্যদের ডেকে নিয়ে তাকে তুলে দেয়া হয়। পরে জকিগঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন গিয়াস উদ্দিন। বাড়ি ফিরে তিনি আর এ ঘটনার কোনো প্রতিবাদ করেননি। এ ঘটনার পর এলাকার মানুষের ভেতরে সালাম মেম্বার আতঙ্কের মানুষ হিসেবে পরিচিতি পান। সে এলাকায় একাধিক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটালেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তো দূরের কথা মুখ খুলেন না কেউ। পরকীয়ার জের ধরে এক যুবককে হত্যা, আগুন দিয়ে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ এতসব অভিযোগকে এখন গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। আর এসব অভিযোগের সত্যতা জানতে তার রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ