• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে

গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার পর মঙ্গলবার দাম ১ শতাংশ বেড়েছে। আজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। মন্দার কারণে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্যে চাহিদা কমার চেয়ে বিনিয়োগকারীরা...

বিস্তারিত পড়ুন

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি

ডেস্ক রিপোর্ট সুইস ব্যাংকে রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে বাংলাদেশিদের টাকা। গত এক বছরে বাংলাদেশিরা প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা করেছেন। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল...

বিস্তারিত পড়ুন

ঢাকায় জমি বা ফ্ল্যাট আছে সবাই কালো টাকার মালিক

ঢাকা শহরে যাদের জমি বা ফ্ল্যাট আছে, তারা সবাই কালো টাকার মালিক বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ পরিস্থিতির জন্য সরকারের বিদ্যমান ব্যবস্থাকে দায়ী করেন...

বিস্তারিত পড়ুন

আবারো বাড়তে যাচ্ছে জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারো ঊর্ধ্বমুখী। এক মাসের ব্যবধানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি গড়ে প্রায় ১৬ ডলার বেড়েছে। এ অবস্থায় দেশের বাজারে ডিজেল-অকটেন বিক্রিতে লোকসান গুনতে হিমশিম খাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বর্তমানে এ দুটি পণ্য বিক্রিতে দৈনিক লোকসান ১০৭ কোটি টাকায় ঠেকেছে। এ অবস্থায় আবারো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জ্বালানি বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে। বিপিসি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বর্তমানে ১২১-১২৫ ডলারে ওঠানামা করছে। এ পরিস্থিতিতে কেবল ডিজেল-অকটেন বিক্রিতেই লিটারপ্রতি দৈনিক ৯৭ টাকা লোকসান করছে বিপিসি। সব মিলিয়ে দেশের জ্বালানি তেল বিক্রিতে সংস্থাটির দৈনিক লোকসানের পরিমাণ ১০৭ কোটি টাকার বেশি। দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দামে সমন্বয় করা না হলে অব্যাহত এ লোকসান পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে মনে করছেন বিপিসি সংশ্লিষ্টরা। সংস্থাটির চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ বণিক বার্তাকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যে হারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে তাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে নেই। আমরা প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতি জ্বালানি বিভাগকে জানাচ্ছি। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের কোনো বিকল্প আমাদের হাতে থাকবে না। এ লোকসান দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে বিপিসির উন্নয়ন প্রকল্পেও তার প্রভাব পড়বে। জ্বালানির বাজার বিশ্লেষণকারী সংবাদমাধ্যম অয়েল প্রাইস ডটকমের তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১২১-১২২ ডলারে ওঠানামা করছে। অথচ গত ১৮ মে ব্যারেলপ্রতি পণ্যটির দাম ছিল ১০৭ ডলারের কিছু বেশি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল পর্যন্ত ১২৪-১২৫ ডলারে ওঠানামা করেছে। এক মাস আগের একই সময়ে পণ্যটি ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলারের কিছু বেশিতে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ব্যারেলপ্রতি পণ্য দুটিতে ১৫-১৭ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে এ অস্থিরতা চলছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে জ্বালানির বাজার আরো খারাপের দিকে যেতে পারে। এতে আমদানিকারক দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করা হলে তা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কারণ এরই মধ্যে এক দফা ডিজেল-কেরোসিনের দাম বাড়ানোয় নিত্যপণ্যের বাজারে তার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। জনজীবনে এখনো সেই অস্থিরতার রেশ কাটেনি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বণিক বার্তাকে বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এখন বৈশ্বিক বাস্তবতা। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে। মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধই এর পেছনে দায়ী। তবে এ কারণে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা অযৌক্তিক। কারণ কিছুদিন আগেই লিটারপ্রতি ১৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এখন আরেক দফা বাড়ালে তা জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। এর চেয়ে বরং সরকার নিত্যপণ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দিতে পারে। তাতে বাজার স্বাভাবিক রাখা যাবে। কভিড মহামারীর মধ্যে গত বছরের জুনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের নিচে থাকা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ওই সময় ৭০ ডলারে ওঠে। এরপর ওই বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হয়। যদিও ডিজেল-অকটেন বিক্রিতে লোকসান হচ্ছে উল্লেখ করে নভেম্বরের শুরুতে পণ্য দুটির দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা করে জ্বালানি বিভাগ। পরবর্তী সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দামামা বাজলে জ্বালানি তেলের বাজারও অস্থির হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে চলতি বছরের মার্চে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। গত এপ্রিলে তা ১২৪ ডলারে পৌঁছে। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই চলতি বছরের এপ্রিলের শেষে এবং মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত জ্বালানি তেলের বাজার নিম্নমুখী হতে থাকে। একপর্যায়ে তা ১০৭ ডলারেও নামে। তবে মে মাসের শেষ সপ্তাহের দিক থেকে বাজার আবারো অস্থির হয়ে ওঠে। সে অস্থিরতা এখনো অব্যাহত। এ অবস্থার মধ্যেই গত নভেম্বর থেকে দেশের বাজারে ৮০ টাকা লিটার দামে ডিজেল বিক্রি করে আসছে বিপিসি। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে এরপর আর দাম বাড়ানো হয়নি। কিন্তু এখন মূল্যবৃদ্ধির এ চাপ বিপিসি আর সামাল দিতে পারছে না বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। বিপিসির বিপণন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, বিশ্ববাজারে যদি জ্বালানি তেলের দাম ৯৩-৯৫ ডলারের মধ্যে থাকে তখন ৮০ টাকা লিটারে ডিজেল-কেরোসিন বিক্রি করলে বিপিসি ব্রেক ইভেনে থাকে। অর্থাৎ লাভ বা লোকসান কোনোটিই হয় না। কিন্তু এরপর যদি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায় তাহলে ৮০ টাকায় বিক্রি করলে বিপিসিকে লোকসান গুনতে হয়। বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১২১-১২৫ ডলারের মধ্যে রয়েছে। সে হিসেবে বিপিসিও লোকসান গুনছে। জ্বালানি তেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসানের বোঝা ভারী হওয়ার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও। গতকাল এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিপিসির দৈনিক লোকসান শতকোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের যে মূল্যবৃদ্ধি, তা অস্বাভাবিক। এটি আসলে কতদিন চলবে সেটার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তন হবে কিনা তা এখনো ঠিক হয়নি। কোথায় সমন্বয় করা হবে বা আদৌ করা হবে কিনা তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের ফলে পরিবহন খাতের ওপর যেন চাপ না পড়ে সে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে সরকার। প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে ডিজেল লিটারপ্রতি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অকটেন বিক্রি হচ্ছে ৮৯ টাকায়। এ দুটি পণ্যই আমদানিনির্ভর। দেশে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের অন্তত ১৭ হাজার টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, যার মধ্যে ৭৩ শতাংশ ডিজেল। বাকি পেট্রল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি।

বিস্তারিত পড়ুন

আরও কমল রিজার্ভ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে। মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ছয় কোটি ৪০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে বাংলাদেশ...

বিস্তারিত পড়ুন

১০ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকায় ১০ প্রকল্প অনুমোদন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০ হাজার ৮৫৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ঢাকার...

বিস্তারিত পড়ুন

চাল উৎপাদনে অতিরঞ্জন বাজার ব্যবস্থাপনায় সংকট

অর্থনীতির ভোগসংক্রান্ত সাধারণ একটি পর্যবেক্ষণ হলো আয় বাড়লে জনসাধারণের খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য আসে। এর সঙ্গে সঙ্গে প্রধান খাদ্যশস্যের মাথাপিছু ভোগ ও চাহিদাও কমতে থাকে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দেশে মাথাপিছু আয় বাড়ছে। এর সঙ্গে সংগতি রেখে দেশে চালের মাথাপিছু ভোগও কমছে বলে সর্বশেষ খানা আয়-ব্যয় জরিপে (২০১৬) উঠে এসেছে। আবার কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে দেশে চাল উৎপাদন বাড়ছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরেও চাল উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে মন্ত্রণালয়ের। অর্থনীতির ভোগপ্রবণতার তত্ত্ব অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান সঠিক হলে দেশে চালের বাজার স্থিতিশীল থাকার কথা। যদিও বাজারের প্রকৃত চিত্র এর সম্পূর্ণ বিপরীত। ভরা মৌসুমেও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে চালের বাজারদর। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বাজারে গতকাল সরু চালের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৬৪ টাকা। এক মাস আগেও তা বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়। এক বছর আগে ছিল ৫৮ টাকা। সে হিসেবে গত এক মাসে বাজারে সরু চালের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। এক বছরে বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। বাজারে এখন মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৮ টাকায়। এক মাস আগে তা বিক্রি হয়েছে ৪৪ টাকায়। এক বছর আগে ছিল ৪৫ টাকা। সে হিসেবে গত এক মাসে পণ্যটির দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এক বছরে বেড়েছে ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। বাজারের এ অস্থিতিশীলতায় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যানগুলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী এসব পরিসংখ্যান সঠিক হলে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিত না। মন্ত্রণালয়ের উৎপাদন তথ্যে অবশ্যই অতিরঞ্জন বা গরমিল রয়েছে। চালসহ খাদ্যশস্য উৎপাদন নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও মার্কিন কৃষি বিভাগসহ (ইউএসডিএ) দেশী-বিদেশী সংস্থাগুলোর তথ্যে এখন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি এক পর্যায়ে কৃষি ও খাদ্যোৎপাদন খাতে বড় ধরনের ব্যবস্থাপনাগত সংকটের কারণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয় চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৮১ হাজার টন। আবার ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে চাল উৎপাদন হতে পারে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টন। গরমিল রয়েছে ২০২০-২১ অর্থবছরের তথ্যেও। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে চাল উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৩৭ হাজার টন। বিবিএসের তথ্যে এর পরিমাণ ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৮ হাজার টন। আবার ইউএসডিএর পরিসংখ্যানে এর পরিমাণ ৩ কোটি ৪৬ লাখ টন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য সঠিক হলে দেশে খাদ্যশস্য আমদানির প্রয়োজনই পড়ত না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বণিক বার্তাকে বলেন, প্রতি বছরই চাল উৎপাদন নিয়ে তথ্যের এ গরমিল আমরা দেখে আসছি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য যদি সঠিক হতো তবে চাল আমদানির প্রয়োজন হতো না। তারা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে এসব তথ্য দেয় না। এক্ষেত্রে বরং ইউএসডিএ স্যাটেলাইট ব্যবহার করে যে তথ্য দেয়, সেটি বেশি গ্রহণযোগ্য। সঠিক তথ্য না থাকায় তা দেশের কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি করছে। কারণ প্রথমে বলা হয়, আমরা চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমদানির প্রয়োজন নেই। পরে দেখা যায় চালের সংকট, ভোক্তাদের বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। সে সময় তড়িঘড়ি করে অধিক মূল্যে চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়। এতে হয়তো গুটি কয়েক ব্যবসায়ী লাভবান হচ্ছেন। তবে বরাবরের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় সাধারণ ভোক্তাদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক বছরে দেশে চালের বাজার বারবার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর থেকে যৌক্তিক কারণ ছাড়াই চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বেশি। এক্ষেত্রেও সঠিক তথ্যের অভাব বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. এম আসাদুজ্জামান মনে করছেন, এ বিষয়ে বিবিএসের পরিসংখ্যান কৃষি মন্ত্রণালয়ের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। বণিক বার্তাকে বলেন, বিবিএসের তথ্যগুলো অনেকটা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা। আবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যে হিসাব দেন, তা সঠিকভাবে পরিমাপ করে দেন না। তাদের তথ্যে প্রায়ই দেখা যায়, বাস্তবতার চেয়ে বেশি জমিতে বেশি ফলন হয়েছে। এজন্য বিবিএসের তথ্যটিকেই তুলনামূলক বেশি গ্রহণযোগ্য বলা চলে। প্রকৃত তথ্য পেতে হলে কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিবিএসকে যৌথভাবে হিসাব করতে হবে। কিন্তু সমস্যা হলো এ দুই সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের উৎপাদনের তথ্যে ব্যবধান অনেক বেশি। তথ্যে এত বেশি গরমিল থাকলে সঠিক নীতি পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায় না। এর আগে বিআইডিএসও এ-সংক্রান্ত একটি জরিপ করেছিল। সেখানেও দেখা গিয়েছে, মন্ত্রণালয় থেকে উৎপাদনের যে তথ্য আসে, প্রকৃত উৎপাদন তার চেয়ে অনেক কম। চাহিদা স্থির থাকে। আবার উৎপাদনের তথ্যে গরমিল থাকায় সরবরাহও ঠিক থাকে না। ফলে বাজারে দেখা দেয় অস্থিতিশীলতা। তিনি আরো বলেন, আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ছিল বেশি। ওই সময়ে ক্রসকাটিং সার্ভে হতো। সেখান থেকে একটা গড় হিসাব পাওয়া যেত। মতিয়া চৌধুরী কৃষিমন্ত্রী থাকাকালে নিয়মিত স্যাটেলাইটভিত্তিক ছবি নিয়ে জরিপ করাতেন। এতে আবাদি জমির সঠিক পরিমাণ সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যেত। এর সঙ্গে প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে গরমিল থাকলেও তার মাত্রা হতো সামান্য। এখন দৈবচয়ন ভিত্তিতে ৬৪ জেলায় জরিপ হলেই হয় খাদ্যশস্যের উৎপাদন প্রবৃদ্ধিতে মন্থরতা দেখা যাচ্ছে কয়েক বছর ধরেই। চালের ক্ষেত্রে এ প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও নেতিবাচক গমে। আবার চাল উৎপাদন যতটুকু বাড়ছে, তা যথেষ্ট নয়। সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর আমলে গম উৎপাদন স্থিতিশীল থাকলেও বর্তমানে তা কমছে। বিষয়টি খাদ্যশস্যের আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। মতিয়া চৌধুরী কৃষিমন্ত্রী থাকাকালে গত দশকের শুরুতে দেশে খাদ্যশস্যের আমদানিনির্ভরতার হার এক অংকে নেমে এসেছিল। গত দশকের মাঝামাঝি পর্যায়ে এসে তা কিছুটা বাড়তে শুরু করে। ২০১৭ সালের আগাম বন্যায় হাওরের বোরো ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উৎপাদনে বড় ধস নামে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই অর্থবছর ও ২০১৭-১৮ সালে খাদ্যশস্য আমদানি ব্যাপক মাত্রায় বেড়ে যায়। এর পরের অর্থবছরগুলোয় প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির কথা বলা হলেও আমদানিনির্ভরতাও ছিল অনেক। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে খাদ্যশস্যের বাজারে আমদানিনির্ভরতার হার ছিল ১৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। পরের অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ১০ শতাংশে। গত অর্থবছরে এর হার ছিল ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। এভাবে চলতে থাকলে অদূরভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতার হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে ইউএসডিএর এক প্রক্ষেপণে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে দেশে খাদ্যশস্য আমদানির প্রয়োজন পড়তে পারে প্রায় এক কোটি টন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি। বর্তমান কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তথ্যের গরমিল খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকটের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্যমতে, বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও কৃষিপণ্যের সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটিয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধ। এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। দেশের বাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট। এ মুহূর্তে কৃষি উৎপাদনের সঠিক তথ্য সামনে না এলে তা দেশের চালসহ কৃষি ও খাদ্যপণ্যের সার্বিক বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরো কঠিন করে তুলবে। কৃষি উৎপাদনের সঠিক তথ্য না থাকায় কৃষক থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একদিকে চাষীরা তাদের উৎপাদিত ধানের কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না। অন্যদিকে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে প্রয়োজন ও সময়মতো আমদানি হ্রাস-বৃদ্ধিসংক্রান্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। চাল ও গমসহ খাদ্যশস্যের বাজারে যখন-তখন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, সরকারি সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের তথ্যের এ পার্থক্য এখন আগের তুলনায় বেড়েছে। গত বছর উৎপাদনের যে তথ্য দেয়া হয়েছিল তা বাস্তবতার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ ছিল না। আবার কৃষি, খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে সময়মতো আমদানি করা যায়নি। এতে খাদ্য ব্যবস্থাপনা, সংগ্রহ, বিপণন ও আমদানি সবদিকই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য যে ধরনের নিষ্ঠা প্রয়োজন, তা এক্ষেত্রে পুরোপুরি অনুপস্থিত। তথ্যের নৈরাজ্যের বড় উদাহরণ এটি। বিশ্বের সব জায়গায় যেভাবে মাঠ পর্যায়ের বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি প্রচলিত, সেটিই অনুসরণ করা যেতে পারে। একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করে তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আস্থাভাজন প্রাক্কলন করা প্রয়োজন। সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলে চাহিদা জোগানের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। মৌসুমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়। এতে কৃষক-ভোক্তা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হন। সর্বশেষ গত মাসেও খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে উৎপাদনের তথ্যে গরমিল থাকার বিষয়টি উঠে আসে। ওই সময় উঠে আসে গত অর্থবছরে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন নিয়ে বিবিএস ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যে গরমিলের পরিমাণ ৪০ লাখ ২০ হাজার টন। বিবিএসের তথ্যই বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বিবিএস পদ্ধতিগতভাবে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতেই কৃষির পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। সংস্থাটির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যকেই নির্ভরযোগ্য বলে ধরে নিতে হবে।

বিস্তারিত পড়ুন

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হলেন আব্দুর রউফ তালুকদার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হয়েছেন আব্দুর রউফ তালুকদার। আগামী ৩ জুলাই বর্তমান গভর্নর ফজলে কবিরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এ দায়িত্বে আসছেন তিনি। শনিবার (১১ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের...

বিস্তারিত পড়ুন

বছরে বেড়েছে ১০৮৩০ টাকা মাথাপিছু ঋণ ৯৬ হাজার টাকা

ডেস্ক নিউজ দেশের মানুষের কাঁধে ঋণের বোঝা বাড়ছে। বর্তমানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ৯৫ হাজার ৬শ টাকা। আজ যে শিশুটি জন্ম নেবে, তার মাথায়ও সমপরিমাণ ঋণের দায় চাপবে।...

বিস্তারিত পড়ুন

বাজেটকে কঠিন সময় অতিক্রম করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট সংসদে পেশ করা প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে এই বাজেটকে কঠিন সময় অতিক্রম করতে হবে...

বিস্তারিত পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com