শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেছেন, আগের সরকারগুলো লুণ্ঠনের দিকে মনোযোগী ছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের সেবার দিকে মনোযোগ দিয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীতে খিদমাহ হসপিটাল ও খিদমাহ আই হসপিটাল লিমিটেড আয়োজিত ‘সবাই মিলে সচেতন থাকি, ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গড়ি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশের উন্নতি করা সম্ভব হলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এবং এর বিস্তার উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। একজন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় যে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়, তার চেয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে রোগটি প্রতিরোধ করা অনেক সহজ।
আগের সরকারগুলোর সমালোচনা করে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, বিগত সরকারগুলোর জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহি ছিল না। জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় মানুষের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার জায়গাও ছিল না।
তিনি বলেন, আমি এই এলাকায় (ঢাকা-৯) বড় হয়েছি এবং এখানেই বসবাস করি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার মানুষের প্রতি আমার ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আগের সরকারগুলোর অসম্পূর্ণ কাজ আমরা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক সফরে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পর্যবেক্ষণ করছেন।
ঢাকা-৯ এলাকাকে তুলনামূলক দরিদ্র অঞ্চল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য মুগদা হাসপাতালে প্রায় ২৫০টি শয্যা তৈরি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগের সাথে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
মুগদা হাসপাতালের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি আগে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল থাকলেও বর্তমানে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। রোগীদের সেবায় আগে যেখানে একটি মাত্র বুথ ছিল, সেখানে নতুন করে আরও তিনটি বুথ চালু করা হয়েছে।
এলাকার পরিবেশ ও নাগরিক সুবিধা প্রসারে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই নগরায়ণ হওয়ায় নাগরিক সুবিধা বিঘ্নিত হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে মান্ডা ও জিরানী খালসহ এলাকার বিভিন্ন খাল, ডোবা ও নালা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
সেমিনারে তিনি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি রোগীদের ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ জানান।












