২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি পুনরায় চালু করার বিরুদ্ধে আপিল করেছে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। একইসঙ্গে আপিল প্রক্রিয়া চলাকালীন লটারি চালুর আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে বিচারকের কাছে আলাদাভাবে আবেদন করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে ডিভি লটারি চালুর যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিলো তা এখন ঝুঁকির মুখে। এ খবর দিয়েছে নিউজউইক।সংবাদ পড়ুন
এরআগে ডিভি লটারি চালুর বিষয়ে আদেশ দেন ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা বিচারক জিনসুক ওহতা। অভিবাসন বিষয়ক আইনি প্রতিষ্ঠান রেড ইগল ল, এল.সি.-এর দায়ের করা এক মামলায় তিনি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে ডিভি লটারির নিবন্ধন প্রক্রিয়াসহ পুরো কর্মসূচি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন। গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহাসিকভাবে কম অভিবাসনের হার থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের প্রতি বছর ৫৫ হাজার পর্যন্ত ডাইভারসিটি ভিসা দেয়া হয়। গত ১৯শে অক্টোবর সরকার বিচারক ওহতার প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের নোটিশ দাখিল করে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আলাদা একটি প্রস্তাবও দেয় সরকার। ২০২৫ সালের নভেম্বরে পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেছিল যে, তারা ডিভি-২০২৭ এর আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনছে এবং বাস্তবসম্মত হওয়ামাত্রই নিবন্ধনের শুরুর তারিখ ঘোষণা করবে।
কিন্তু আদালতের রায় অনুযায়ী, গত ১লা অক্টোবর ২০২৭ অর্থবছর শুরু হওয়ার পরও নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। বিচারক জানান, এটি কার্যকরভাবে কর্মসূচিটি বাতিল করার শামিল, কারণ লটারিতে অংশ নেয়া ছাড়া কেউ ডাইভারসিটি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, সাময়িক স্থগিতাদেশ কেন অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হলো, তার কোনো কারণ জানায়নি পররাষ্ট্র দপ্তর। এর ফলে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছে যে, কর্মসূচি স্থগিত করার এই সিদ্ধান্তটি ছিল খামখেয়ালি ও অযৌক্তিক।
বিচারক ওহতা জানান, রেড ইগল ল প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার শর্তগুলো পূরণ করেছে। কর্মসূচি বন্ধ থাকলে আইনি প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহক হারাবে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা মামলা দিয়েও পূরণ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কর্মসূচিটি পুনরায় চালু করা হলে সরকারের ওপর অন্যায্য কোনো বোঝা চাপবে না এবং এটি কেন্দ্রীয় আইন মেনে চলার মাধ্যমে জনস্বার্থই রক্ষা করবে। সরকার যুক্তি দিয়েছিল, নিবন্ধনের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর আদালত লটারি শুরুর আদেশ দিতে পারে না। তবে বিচারক সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানান, দেরিতে নিবন্ধন শুরু হলেও তা কংগ্রেসের বেঁধে দেয়া নিয়ম মেনেই পরিচালিত হবে। যদি আপিলে ট্রাম্প প্রশাসন হেরে যায় তবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে ও আদালতের অনুমোদিত নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী ২৯শে অক্টোবরের মধ্যে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নিবন্ধনের সময়কাল ঘোষণা করতে হবে। ১লা নভেম্বর থেকে ৩০ দিনের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করতে হবে এবং নির্বাচিতদের ডিসেম্বরের মধ্যে তা জানাতে হবে।













