• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

আন্তর্জাতিক

ইরানে পরমাণু হামলায় ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, সিদ্ধান্ত শিগগির

প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:০৮
আপডেট: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:০৮

ইরানে পরমাণু হামলায় ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, সিদ্ধান্ত শিগগির
 

ইরানের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন।

রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে কার্লসন দাবি করেন, ইরানে পারমাণবিক হামলার সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে সময় খুব বেশি নেই। কয়েকদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তার দাবি, ইরানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নামে একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে চাইছে ইসরায়েল। এ জন্য নেতানিয়াহু নিয়মিত ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

তবে কার্লসনের এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি।

কার্লসনের দাবি, ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ রয়েছে। সেগুলোর ওপর প্রায় ৩০০ ফুট পুরু গ্রানাইট পাথরের স্তর রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

তার বক্তব্য, প্রচলিত মার্কিন অস্ত্র দিয়ে ওই স্থাপনায় আঘাত করা কঠিন। এ কারণে সামরিক হামলার ক্ষেত্রে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

কার্লসন এক অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেন, নেতানিয়াহু এ বিষয়ে ট্রাম্পকে প্রতিদিন ফোন করছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর তাগিদ দেওয়ার পেছনে কাজ করছে।

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক স্বার্থের অভিযোগ

কার্লসনের দাবি, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সহায়তা চাইছেন। তা না হলে ক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি তদন্ত ও কারাবাসের মুখেও পড়তে পারেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

কার্লসন আরও দাবি করেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছেন নেতানিয়াহু।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফও নেতানিয়াহুর অবস্থান অনুসরণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা

কার্লসনের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন। সেখানে ইরানে চূড়ান্ত হামলার বিষয়ে দেশটির সমর্থন চেয়েছিলেন তিনি। তবে আমিরাতের কর্মকর্তারা তাতে রাজি হননি বলে দাবি কার্লসনের।

তার মতে, গত আট মাসের সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি, জ্বালানি ও সারবাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, অক্টোবরে হরমুজ প্রণালিতে বিশ্বের প্রায় ৮৫০টি তেলবাহী সুপারট্যাংকারের মধ্যে ১১টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। এতে প্রায় ১০ কোটি মানুষের পানির সরবরাহ হুমকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরমাণু হামলা হলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা

কার্লসন সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক হামলা বিশ্বজুড়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

তার আশঙ্কা, এমন ঘটনা রাশিয়াকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করতে পারে। ভারত-পাকিস্তান এবং উত্তর কোরিয়া-দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যেও নতুন করে পারমাণবিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কার্লসনের ভাষ্য, প্রথম পারমাণবিক হামলার পর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়া প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

ট্রাম্পকে কূটনীতির পথে রাখার চেষ্টা ভ্যান্সের

কার্লসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।

তার মতে, আলোচনা কঠিন হলেও ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে, এমন ব্যক্তিরা মনে করছেন—নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে কোনো পক্ষই লাভবান হবে না।

কার্লসন দাবি করেন, ৭ নভেম্বরের মধ্যে ইরানে হামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ট্রাম্প।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কোনো সময়সীমা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম