• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

রাজনীতি

এনসিপি কেন মাঠে নেমেছে জানালেন নাহিদ ইসলাম

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:৩৯
আপডেট: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:৩৯

 

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
আগামী ৩০ অক্টোবর গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে ওই দিন বিকাল ৩টায় ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। পরে সারা দেশে গণবিক্ষোভের আয়োজন করা হবে।

এই কর্মসূচি ঘোষণার পর কেন মাঠে নেমেছে এনসিপি- সেটিও জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে লিফলেট বিতরণ ও পথসভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা বারবার বলেছেন, কোনো কিছুর দাম বাড়েনি এবং এই বাজেটের পরও বাড়বে না। নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না বলেও তারা আশ্বাস দিয়েছেন। অথচ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে একই সংসদে দাঁড়িয়েই তারা জনগণকে এমন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কথা বলেছেন। এটি একটি জনবিরোধী সরকার। এখন একে অগণতান্ত্রিক সরকারও বলা যায়।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকার পুরো শহরে কাঁচামাল থেকে শুরু করে শাকসবজির সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র কারওয়ান বাজার। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। অথচ এখানে বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের অভিযোগ শোনা যায়।

কয়েক মাস আগে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধভাবে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের এই এলাকা থেকে বিতাড়িত করেছিলেন। এ কারণেই আমরা কারওয়ান বাজার থেকে কর্মসূচি শুরু করছি। সন্ত্রাসী ও দখলদার সিন্ডিকেটের আধিপত্যের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ অক্টোবর গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।

 

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। এর মধ্যে চারটি বিষয় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নজিরবিহীন দলীয়করণের প্রতিবাদে আমাদের এই গণবিক্ষোভ কর্মসূচি।

তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিরোধী দলও দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছেন সাংবাদিকেরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরতে চাইলে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ১৫ অক্টোবর নেত্রকোনায় একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরদিন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডেও আরেকজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ১৯ অক্টোবর কক্সবাজারের বিভিন্ন সড়কে ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনে ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রাড্ডা হেলথ সেন্টারে ভাঙচুর এবং ইসিবি চত্বর এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলামের দাবি, গত নয় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১৮৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ৬৩৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, সমালোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে। শেখ হাসিনার আমলে কালো আইন হিসেবে পরিচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করে আরও দমনমূলক আইন আনার চেষ্টা চলছে। এনসিপি এ ধরনের উদ্যোগের বিরোধিতা করবে।

 

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সমালোচনা

কারওয়ান বাজারের পণ্যমূল্য তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, সেখানে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ২০০ থেকে ২১০ টাকা, টমেটো ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং প্রতি ডজন ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তার ভাষ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ বাজারে গিয়ে এক-দুই ধরনের সবজির বেশি কিনতে পারছেন না। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও আগের তুলনায় ডিমসহ প্রয়োজনীয় খাবার কম কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পর এলপিজি গ্যাসের দাম ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। এখন সরকারি হিসাবে এর দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা। বেসরকারি বাজারে তা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, অকটেন ও ডিজেলের দাম তিনবার বাড়ানো হয়েছে। সরকার আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা বলে এ মূল্যবৃদ্ধির ব্যাখ্যা দিচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা কী, সেই প্রশ্নের জবাব নেই।

তিনি বলেন, এনসিপি শুধু সরকারের সমালোচনা করতে নয়, বরং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়া মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিতেই মাঠে নেমেছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলটি আগেও পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

সরকারকে জনবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত সাত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। সংবিধান নিয়ে এমনভাবে কাটাছেঁড়া করা হচ্ছে, যাতে জনগণের অধিকার স্থায়ীভাবে কেড়ে নেওয়া যায়। এ কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই ।

জ্বালানি খাতের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে সরকার গত সাত মাসে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, জ্বালানিমন্ত্রীরও পদে থাকার অধিকার নেই। আপাতত এই দুই মন্ত্রীকে সরিয়ে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা উচিত।

 

তিনি আরও বলেন, এর আগে তথ্য উপদেষ্টা ও একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরানো হলেও কেন তাদের সরানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। অথচ যারা দায়িত্ব পালনে বেশি ব্যর্থ হচ্ছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না।

এনসিপির চার দফা দাবি

গণবিক্ষোভ কর্মসূচি সামনে রেখে চার দফা দাবি তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম।

দাবিগুলো হলো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ; একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও নতুন সংবিধান প্রণয়ন; সাইবার আইন সংশোধনের নামে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ বন্ধ এবং গুম প্রতিরোধ-সংক্রান্ত আইন ও মানবাধিকার কমিশন আইনসহ কর্তৃত্ববাদী আইন বাতিল। এ ছাড়া জুলাই গণহত্যা ও গুমের বিচার নিশ্চিত করা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার দাবি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ৩০ অক্টোবর বিকাল ৩টায় ঢাকার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। ঢাকার কর্মসূচির পর সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে গণবিক্ষোভ করা হবে বলেও জানান এনসিপির আহ্বায়ক।

 

এ ছাড়া ঢাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী দখলদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ প্রচার চালাবেন বলে জানান তিনি।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম