
শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
স্থানীয় সময় রোববার (১৮ অক্টোবর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এ ঘটনাকে ‘কানাডার মাটিতে সামরিক বাহিনীর জন্য অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ বলে অভিহিত করেছেন।
এর আগে শনিবার বিকেলে কানাডীয় সামরিক বাহিনীর অন্যতম ব্যস্ত প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ‘কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটে’ এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর সঙ্গে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ কোনো যোগসূত্র থাকার আশঙ্কা নেই।
প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর যে সাহসী সদস্যদের আমরা হারিয়েছি, তাদের জন্য পুরো জাতি শোকাহত।’
বিবিসি নিশ্চিত করেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সার্জেন্ট মরগান ওং, প্রাইভেট শন ফারেল, প্রাইভেট এইডান গোল্ডিং এবং প্রাইভেট হেইডেন লাইকমার্ক।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৯ জন আহতের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওয়েনরাইটের মেয়র ব্রুস পিউ জানিয়েছেন, আগুন যাতে নতুন করে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য দমকল ও উদ্ধারকারী দল এখনো ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।
সংবাদ সম্মেলনে মেজর জেনারেল ওয়েড রাটল্যান্ড জানান, পদাতিক বাহিনীর সদস্যরা একটি গ্রেনেড রেঞ্জ ও অ্যাটাক রেঞ্জে ‘সরাসরি গোলাবারুদ ব্যবহার করে উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধ প্রশিক্ষণ’ নিচ্ছিলেন। সেখানে ১০ জন সেনা কাল্পনিক শত্রুর ওপর আক্রমণের মহড়া চালাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ওয়েনরাইট প্রশিক্ষণ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল, যার মধ্যে গ্রেনেড লঞ্চার, গ্রেনেড, ছোট আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ছিল।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে ঘাসে আগুন লাগে এবং সেই আগুন ধীরে ধীরে অ্যাটাক রেঞ্জের দিকে এগিয়ে আসে।
মেজর জেনারেল রাটল্যান্ড বলেন, ‘সেই সময়ে পুরো প্রশিক্ষণ এলাকাজুড়ে একাধিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছিল। অস্বাভাবিক শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এর দিক পরিবর্তন হয়ে রেঞ্জের প্রশাসনিক এলাকার দিকে চলে আসে।’
মেয়র ব্রুস পিউ জানান, শনিবার ঘাঁটির ভেতর থেকে কামানের গোলার শব্দ শোনা যাচ্ছিল, যা হঠাৎ করেই থেমে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, ওই ঘাঁটিতে কামানের গোলা ছোড়ার শব্দ শোনা খুব একটা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। এরপর খবর আসে, স্থানীয় জরুরি পরিষেবা বিভাগগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় মোতায়েন করা হয়েছে।
কার্নি জানান, সামরিক বাহিনী ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা সারা রাত ধরে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে গেছেন—এমন এক পরিস্থিতিতে, যা ছিল কল্পনাতীত রকমের ভয়াবহ।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন তারা প্রশিক্ষণ এলাকায় (অ্যাটাক রেঞ্জ) ছিলেন। তাদের মধ্যে রিজার্ভিস্ট এবং ‘প্রিন্সেস প্যাট্রিসিয়াস কানাডিয়ান লাইট ইনফ্যান্ট্রি’র সেনারা রয়েছেন।
এক বিবৃতিতে কানাডিয়ান আর্মড ফোর্সেস জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে এটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফল।
রাটল্যান্ড ব্রিফিংয়ে বলেন, আমরা মনে করি না যে এই ঘটনাটি তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত, কিংবা এর পেছনে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ রয়েছে।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে যা জানা গেল
আলবার্টার রাজধানী এডমন্টন থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ‘ওয়েইনরাইট’ হলো কানাডিয়ান সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি, যেখানে সরাসরি গোলাবারুদ ব্যবহার করে সামরিক প্রশিক্ষণ চালানো হয়। এখানে কানাডা ও মিত্র দেশগুলোর সেনারা অবস্থান করেন। সাধারণত কোনো সাধারণ দিনে এখানে প্রায় ৬৯০ জন সামরিক সদস্য এবং ৩০০ জন বেসামরিক কর্মী উপস্থিত থাকেন।
রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওয়ারেন থারস্ক সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসিকে জানান, এই ঘটনায় ওয়েইনরাইটের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী এসেছে।
রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালটি এডমন্টনে অবস্থিত, যেখানে আহত রোগীদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুরুতে ‘কোড অরেঞ্জ’ ঘোষণা করেছিল—যা বড় ধরনের বিপর্যয় বা অনেক মানুষ হতাহত হওয়ার ঘটনায় গৃহীত একটি জরুরি প্রোটোকল। তবে পরে এই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
প্রাদেশিক স্বাস্থ্য সংস্থা রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ওয়েইনরাইটে সরাসরি ৩০টি ইউনিট মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২২টি অ্যাম্বুলেন্স, ছয়টি ফিক্সড-উইং (স্থির ডানাবিশিষ্ট) বিমান এবং দুটি রোটারি-উইং (হেলিকপ্টার জাতীয়) ইউনিট।
সংস্থাটি আরও জানায়, এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আলবার্টার তীব্র অসুস্থ রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। সূত্র: বিবিসি













