ফরিদপুর প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের নকুলহাটি গ্রামের এক কলেজ ছাত্রীকে চীনের এক নাগরিকের বিয়ে নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই যুকককে দেখার জন্য উৎসুক জনতা ভীড় জমানোর এক পর্যায়ে তারা এলাকায় ছেড়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে তারা একপর্যায়ে সালথা ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। চীনের ওয়াং চাও নামে ওই যুবক নাম পরিবর্তন করে এখন আরিফ ইসলাম নামে নামকরণ করেছেন।
স্থানীয় সুত্র জানায়, চীনা ওই যুবকের নাম ওয়াং চাও (২৫)। তিনি চীনের উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা। বর্তমানে তার নাম আরিফ ইসলাম। কলেজ ছাত্রীর নাম তাহমিনা আক্তার (২০)। তিনি ফরিদপুর শহরের সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্রী এবং নকুলহাটি এলাকার বাসিন্দা।
তাহমিনার পরিবার ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনের নাগরিক ওয়াং চাওয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় ফরিদপুরের কলেজছাত্রী তাহমিনা আক্তারের। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথমে পরিবার এ সম্পর্ক মেনে না নিলেও তাহমিনার অনড় অবস্থানের পর শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেয় স্বজনেরা।
গত ১৯ অক্টোবর ঢাকায় পরিবারের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম ও ধর্ম পরিবর্তন করেন ওয়াং চাও।
গত ২৬ অক্টোবর রাতে নবদম্পতি তাহমিনার গ্রামের বাড়ি সালথায় বেড়াতে যান। চীনা যুবকের আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে। পরে মানুষের ভিড়ের কারণে গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে তারা সালথা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান।
তাহমিনার পরিবার জানিয়েছে, ওয়াং চাও সম্পর্কে তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। বর্তমানে তাহমিনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ চলছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দুজনেরই চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করে আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন জানান, আমি লোকমুখে বিষয়টি আজকেই জানতে পেরেছি। আমি ওই বাড়িতেই যাচ্ছি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাতে পারবো।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) দাবির উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি আজকে জানার পর ওই বাড়িতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোক পাঠানো হয়। তবে তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তারা সালথা ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তাছাড়া ওই যুবক কি চীনের নাগরিক না উপজাতি বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি,তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কাজ চলছে।













