• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

আন্তর্জাতিক

ফুড়িয়ে যাচ্ছে ইরানের অর্থ, মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান তেহরানের

প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১:০৪
আপডেট: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১:০৪

ফুড়িয়ে যাচ্ছে ইরানের অর্থ, মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান তেহরানের
 

ইরানের অর্থ ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাদের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটি জানায়, তাদের অর্থনীতি ধসে পড়ার মুখে নেই। মার্কিন অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপের মুখেও নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার গত সপ্তাহে দাবি করেন, সামরিক হামলা এবং ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধের কারণে দেশটি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সংবাদ পড়ুন

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৩ লাখ ৮ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকার (২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার) অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানি আটকে দিয়েছে এবং প্রায় ৪,৩২১ কোটি টাকার (৩৫ কোটি ডলার) ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ জব্দ করতে সহায়তা করেছে। এর ফলে আইআরজিসি তাদের সেনা এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না।

আরও পড়ুন:
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মার্কিন দূত
কুপারের মতে, এই আর্থিক সংকটের কারণে আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলো আইআরজিসিকে অর্থ পাঠাতে তাদের নিজস্ব সেনাদের বেতন আটকে দিচ্ছে। এটিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় বিজয় হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাভি জানান, অর্থনৈতিক চাপ ইরানের সামরিক সম্পদ সীমিত করলেও আইআরজিসির কৌশলগত হিসাব-নিকাশ পাল্টাতে বা তেহরানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করবে না।

হরাইজন এনগেজের মেনা গবেষণার প্রধান মাইকেল নাইটস জানান, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুতি গত কয়েক বছরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলোকে ইরান এখনো অর্থ এবং জ্বালানি দিয়ে সহায়তা করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, কয়েক দশক ধরে আইআরজিসির কুদস ফোর্স তাদের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন দক্ষতা সরবরাহ করে আসছে। এছাড়াও এই গোষ্ঠীগুলো তেল রপ্তানি, অনুদান এবং স্থানীয় সম্পদের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিছু ইরাকি গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের মাধ্যমে সরকারি অর্থও পায়।

যুদ্ধ, অব্যবস্থাপনা এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের অর্থনীতি বারবার ধাক্কা খেয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং বৈশ্বিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে দেশটির ৯ কোটি মানুষ। বিশ্বব্যাংকের ধারণা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইরানের অর্থনীতি ৭.৭ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। তবে দেশটির সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রধান আবদোল নাসের হেমমাতি জানিয়েছেন, সব চাপ সত্ত্বেও ইরানের অর্থনীতি ভালোভাবেই টিকে আছে এবং অর্থনীতি ধসে পড়ার দাবি স্রেফ একটি বিভ্রম।

আরও পড়ুন:
স্পেসএক্স-টেসলাকে কি একীভূত করবেন মাস্ক?
রোববার প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বীকার করেন, সামরিক হামলা এবং নৌ অবরোধের কারণে দেশে উল্লেখযোগ্য সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি জানান, তার সরকার দেশীয় সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে এই চাপ মোকাবিলা করছে। তিনি দাবি করেন, ব্যবহার কমানোর কারণে এখন আর জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন নেই, যা আমদানি করতে হলে যুক্তরাষ্ট্র অনুমতি দিলেও ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬০ কোটি টাকা (১,২০০ কোটি ডলার) খরচ হতো। প্রেসিডেন্ট প্রতিশ্রুতি দেন, সম্প্রতি বাড়ানো জ্বালানির দাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ ইলেকট্রনিক ফুড ভাউচার বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম