শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
সিলেটের ওসমানীনগরে সুলতানি আমলে নির্মিত এক গম্বুজের ‘গায়েবি মসজিদ’ খ্যাত প্রাচীন মসজিদটি ভেঙে ফেলার আয়োজন চলছে। এমন সংবাদে ‘পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে সিলেটের নাগরিক প্রতিনিধি দল সরেজমিন পরিদর্শন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নাগরিক প্রতিনিধিদের সরজমিন পরিদর্শন শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নে তাজপুর-বালাগঞ্জ সড়কের পাশে উসমানপুর গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদ। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নাগরিক প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মসজিদটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, মসজিদটি প্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ বছরের পুরনো। মসজিদের স্থাপত্যরীতি দেখে ধারণা করা হয় এটি সুলতানি আমলের মসজিদ। সিলেট জেলায় সুলতানি আমলের এটাই একমাত্র মসজিদ। জনশ্রুতি আছে জঙ্গলাচ্ছাদিত এলাকায় মাটির নিচে ঢাকা পড়া এই মসজিদ জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে গায়েবিভাবে পাওয়া যায়। তাই স্থানীয়রা একে ‘গায়েবি মসজিদ’ বলে থাকেন।
পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেট-এর চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন সিলেট প্রেস ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী, পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম চৌধুরী কিম, সাংস্কৃতিক সংগঠক অ্যাডভোকেট মনির হেলাল, সুপ্রিম কোটের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী দিপন ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষক আসিফ আজহার। এ সময় স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে প্রতিনিধি দল কথা বলেন। স্থানীয় ব্যক্তিরা প্রতিনিধি দলকে জানান, এলাকার কিছু ব্যক্তি প্রত্নসম্পদের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে না পারায় এই প্রাচীন মসজিদের স্থানে নতুন মসজিদ নির্মাণ করতে চাইছে। ওয়াকফ প্রশাসনের তালিকাভূক্ত হলেও অদ্যাবধি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হয়নি এই মসজিদ।
প্রতিনিধিদল পরিদর্শন শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, প্রাচীন এই মসজিদটি সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি না করার কারনে ইতিমধ্যে মসজিদের অনেক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। মেহরাব ও দেয়ালে রংবেরঙের টাইলস বসানো কোনভাবেই উচিৎ হয়নি। সিলেট জেলায় টিকে থাকা সুলতানি আমলের এমন একটি প্রত্নসম্পদ বিনষ্ট হওয়ার দায় আমাদের সবার। এই মসজিদের ক্ষতিসাধন করে নতুন স্থাপনা নির্মানের চিন্তা উদ্বেগের। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে যে মসজিদটি এই এলাকার ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসের কথা বলে আসছে, তা সংরক্ষণে এলাকার সকল সচেতন নাগরিকদের সোচ্চার হতে হবে।
পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষার সচেতনার নাগরিক সংগঠন ‘পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট’-এর পক্ষ থেকে প্রাচীন এই মসজিদটি রক্ষায় এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।













