• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

জাতীয়

আদালতের ছুটি বাতিল করে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত, রামিসা হত্যার রায়ে সংসদে আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬ ৮:৪৬
আপডেট: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬ ৮:৪৬

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাত্র কয়েক কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে দেশের বিচার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বুধবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই ঐতিহাসিক সফলতার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে অবহিত করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ঘটনার পর যেখানে ভুক্তভোগীর পরিবার বিচার পাওয়া নিয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করে বলেছিল যে তারা বিচার চান না; সেখানে সরকারের বিশেষ তৎপরতা, পুলিশের দ্রুততম তদন্ত এবং আদালতের ছুটি বাতিলের অভূতপূর্ব সমন্বয়ে এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, গত ১৯ মে পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসা নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ মূল দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ঘটনার ভয়াবহতায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি দল তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। সে সময় রামিসার বাবা দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর হতাশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, তিনি বিচার চান না, কারণ অতীতে এ জাতীয় ঘটনার বিচার পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকেই পুলিশ বাহিনী মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে দুপুর ১২টার মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিল করে এবং একই দিন বিকালের মধ্যে তা সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ১ জুন থেকে নিম্ন আদালতগুলোর ১৫ দিনের গ্রীষ্মকালীন ছুটি। তবে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালগুলোকে সচল রাখতে সরকারের অনুরোধে প্রধান বিচারপতি এই ট্রাইব্যুনালগুলোকে ছুটির আওতাবহির্ভূত রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন। মামলার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এবং আসামি পক্ষ যাতে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে, সে জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ২৪ মে আসামিদের জন্য ‘স্টেট ডিফেন্স ল ইয়ার’ বা সরকারি আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন আদালত খোলার দিনই মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। পরদিন ২ জুন দ্রুততার সঙ্গে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করা হয় এবং পরবর্তী দুই দিনে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। শুক্র ও শনিবার আদালত বন্ধ থাকার পর আজ ৭ জুন মাত্র ৪১ মিনিটের রায় পর্যালোচনা ও আদেশ পাঠের মধ্য দিয়ে আদালত মূল আসামি সোহেল এবং তার সহযোগিতাকারী স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

তিনি বলেন, এই যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে রামিসার পরিবারের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। মাও সেতুংয়ের ঐতিহাসিক উক্তি স্মরণ করে তিনি বলেন, কিছু মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী আর কিছু মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা। রামিসার নির্মম মৃত্যু পুরো জাতির বুকে পাহাড়সম ভার হয়ে চেপে বসেছিল, যা এই ফাঁসির রায় কার্যকরের মাধ্যমে হালকা হবে। একইসঙ্গে রামিসা হত্যাকাণ্ড ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম