নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
মানবাধিকার সুরক্ষা, মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, নির্যাতিত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘এজাহিকাফ আইকনিক অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’-এ ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা।
গত ৪ নভেম্বর ঢাকার হোটেল অরনেট গ্র্যান্ডের বলরুমে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া এমপি।
মঞ্জুর হোসেন ঈসার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, বরেণ্য নজরুলসংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হামিদা খানম। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ সম্মাননা অর্জন তাঁর দীর্ঘদিনের মানবাধিকার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার রক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ন্যায়বিচার, অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার আদায় এবং মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে আসছেন। বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে মানবাধিকার সচেতনতা সৃষ্টি, অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
বিশেষ করে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের স্বজনদের ন্যায়বিচার ও স্বজন ফিরে পাওয়ার দাবিকে জনসমক্ষে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা পালন করে আসছেন। মায়ের ডাকের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের অধিকার ও মানবিক সংকট তুলে ধরার নানা উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন।
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তাঁর কর্মকাণ্ডের অন্যতম লক্ষ্য হলো—মানুষের পরিচয়, রাজনৈতিক মত, ধর্ম, বর্ণ কিংবা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তিনি বিভিন্ন সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রতিবাদ, সচেতনতা সৃষ্টি এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবি তুলে ধরেছেন।
‘এজাহিকাফ আইকনিক অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁর মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এ ধরনের সম্মাননা মানবাধিকারকর্মীদের দায়িত্ববোধ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরে মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্মাননা অর্জনের মধ্য দিয়ে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার মানবাধিকার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি মিলেছে। তিনি যেন ভবিষ্যতেও অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারেন—এ প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।












