শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি: প্রতীকী
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাংচুর ও ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির অনুসন্ধানে বিশৃঙ্খলাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে যাদের নাম উঠে আসে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এরপর থেকে মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি গঠনে তোরজোর চললেও রাড্ডাকাণ্ডে রাজনৈতিক নয়া মেরুকরণে অনেক নেতার কপাল পুড়ছে আবার অনেকের কপাল খুলছে বলে গুঞ্জন চলছে। অর্থাৎ রাড্ডাকাণ্ডে জড়িত নেতারা এবার ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটিতে পদ পাবেন না বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদলের একটি সূত্র।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যলয়ের সামনে সমবেত নেতাকর্মীরাও চান, মিরপুরের রাড্ডাকাণ্ডে রাজনৈতিক নয়া মেরুকরণে নব্য সুবিধাভোগী বা বিশৃঙ্খলাকারীরা যেন স্থান না পান। বিগত দিনের আন্দোলনে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারাই যেন যুবদলের নেতৃত্বে আসবেন এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।
একইসঙ্গে নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা আশা করছেন বিগত আওয়ামী সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, গুম-হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং যাদের ক্লিন ইমেজ রয়েছে, তাদের যেন অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট শরিফ উদ্দিন জুয়েলকে আহ্বায়ক এবং সাজ্জাদুল মিরাজকে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়নি এবং রাড্ডাকাণ্ডের জেরে বিলুপ্ত করা হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও কেন্দ্রীয় যুবদল নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি ঘিরে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রাজ, উত্তর যুবদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল মিরাজ, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুয়েল, মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ সভাপতি ও বর্তমান ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক বাছিরুল ইসলাম রানা (বাছিরুল ইসলাম খান রানা), উত্তর যুবদলের ১ নম্বর সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক তসলিম আহসান মাসুম, উত্তর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন, উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আবুল হাসান টিটু, উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও মিরপুর জোনের সাবেক টিম প্রধান শিমুল আহমেদ, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের দাপ্তরিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ও সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. তানভীর আহম্মেদ খান ইকরাম, উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আমিনুল হক হিমেল, উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আইয়ুব আলী, উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক জুলহাস আহমেদ, উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক সাফায়াতে রাব্বি আরাফাত, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক জসিম শিকদার রানা, রামপুরা থানা যুবদলের আহ্বায়ক কামাল আহমেদ দুলু, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ উর রহমান লিপকন, উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও দারুসসালাম থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সাজ্জাতুল হানিফ সাজ্জাদ, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আবুল হাসান চৌধুরী, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল আহমেদ রাসেল, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক আরাফাত রহমান রাজিব, যুবদলের সাবেক সদস্য ফরহাদ আলী সজীব, সাবেক সদস্য আরিফ হোসেন, সাবেক সদস্য বিল্লাল হোসেন, সাবেক সদস্য কামরুল ইসলাম, রফি উদ্দিন ফয়সাল, উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, সাবেক সদস্য আবু সালেহ চৌধুরী মানিক এবং তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. ফয়সাল দেওয়ান।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল নেতাকর্মীরা জানান, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রাজ ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও এগিয়ে থাকা নেতাদের একজন। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং সুদৃঢ় সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে নেতাকর্মীরা তাকে আলোচনার শীর্ষে রাখছেন।
উত্তর যুবদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল মিরাজ ২০২৩ সালে গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে তিনি সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পাশাপাশি উত্তর যুবদলের নতুন কমিটিতেও তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুয়েল উত্তর যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন। রাজনৈতিক আন্দোলনে দীর্ঘদিন গুমের শিকার এই নেতা দীর্ঘ নির্যাতন ভোগ করেও মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তার এই রাজনৈতিক ত্যাগ ও ক্লিন ইমেজের কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাকে নেতৃত্বে দেখতে চান।
মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ সভাপতি ও বর্তমান ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক বাছিরুল ইসলাম রানা (বাছিরুল ইসলাম খান রানা) নতুন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষপদে অন্যতম প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী। রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয়তা ও নির্যাতনের শিকার এই নেতা নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদে স্থান পেতে আশাবাদী।
উত্তর যুবদলের সাবেক ১ নং যুগ্ম-আহ্বায়ক তসলিম আহসান মাসুম বিলুপ্ত আহ্বায়ক কমিটিতে ১ নম্বর যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠনে শক্ত অবস্থানের কারণে নতুন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পদের আলোচনায় তিনি রয়েছেন।
উত্তর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন উত্তর যুবদলের দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠনের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে নতুন নেতৃত্বের দৌড়ে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী।
উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আবুল হাসান টিটু বিলুপ্ত কমিটির দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্য থেকে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় তার নাম বারবার উঠে এসেছে। শীর্ষ পদের আলোচনায় তিনিও বেশ সক্রিয়।
উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও মিরপুর জোনের সাবেক টিম প্রধান শিমুল আহমেদ উত্তর যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে মিরপুর জোনে সাংগঠনিক দক্ষতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পরিচয় দিয়েছেন। এ কারণে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয় পদের সম্ভাব্য তালিকায় তার নাম বিশেষভাবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের দাপ্তরিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ও সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. তানভীর আহম্মেদ খান ইকরাম মহানগর উত্তর যুবদলের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করে সুনাম অর্জন করেছেন। নতুন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।
উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আমিনুল হক হিমেল সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে সাধারণ সম্পাদক পদের আলোচনায় রয়েছেন।
উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আইয়ুব আলী দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতো দুই পদের আলোচনায় আসা সাবেক নেতাদের অন্যতম।
উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক জুলহাস আহমেদ ও সাফায়াতে রাব্বি আরাফাত সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাই নতুন কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রার্থীর তালিকায় তাদের নাম আলোচনায় রয়েছে।
ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক জসিম শিকদার রানা সভাপতি পদের আলোচনায় আছেন। পাশাপাশি রামপুরা থানা যুবদলের আহ্বায়ক কামাল আহমেদ দুলু, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ উর রহমান লিপকনও উত্তর যুবদলের শীর্ষ পদগুলোর জোর আলোচনায় উঠে এসেছেন।
অন্যান্য পদপ্রত্যাশী সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে দারুসসালাম থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাজ্জাতুল হানিফ সাজ্জাদ, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক নেতা আবুল হাসান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল আহমেদ রাসেল, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক আরাফাত রহমান রাজিব, সাবেক যুবদল সদস্য ফরহাদ আলী সজীব, আরিফ হোসেন, বিল্লাল হোসেন, কামরুল ইসলাম, রফি উদ্দিন ফয়সাল, আমিনুল ইসলাম ও আবু সালেহ চৌধুরী মানিক এবং তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. ফয়সাল দেওয়ান নতুন কমিটির নয়া মেরুকরণে বিভিন্ন পদপদবীর আলোচনায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের থানা কমিটির গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যতম নেতা যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি। থানা কমিটির পদপ্রত্যাশী নেতাদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। সেই আলোকে প্রতিবেদন তৈরি করে কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে জমা দেব। তারাই সিদ্ধান্ত নিবেন।
উত্তর যুবদল নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চাইলে যুবদল কেন্দ্রীয় সভাপতি মোনায়েম মুন্না জানান, শুধু ঢাকা মহানগর নয়, দেশের সব জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়েই আমরা ভাবছি। রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনে আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং সে অনুযায়ী কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির ভারনপি এখন সরকার পরিচালনা করছে, তাই জনগণের প্রতি দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা বহুলাংশে বেড়েছে। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যেসপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধির স্বার্থে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া। বিএব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে পুনর্গঠন করা হবে এবং সেখানে ত্যাগী ও রাজপথে পরীক্ষিত নেতারাই স্থান পাবেন বলেও জানান তিনি।










