শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
নাগরিক সেবা প্রদানে অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। একই সঙ্গে ঢাকার রাজপথ কোনোভাবেই দখল হতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার সকালে কলাবাগান গ্রীন রোড স্টাফ কোয়ার্টার মিলনায়তনে ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট, রমনা ও শাহবাগ এলাকার নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা সরাসরি শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া এবং ডিএসসিসির সেবা কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে এ বিশেষ মতবিনিময়সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সভায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার নানা সমস্যা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতির অপ্রতুলতা এবং জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তি।
নাগরিকদের অভিযোগ ও পরামর্শ মনোযোগ দিয়ে শোনেন ডিএসসিসি প্রশাসক। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সমস্যাগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা নেন তিনি এবং দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
সভায় আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটির অন্যতম বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। দায়িত্ব নেওয়ার আগেও এ সমস্যা ছিল। এটি নিরসনে সিটি করপোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি নিউমার্কেটসহ আশপাশের এলাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অবৈধ হকার উচ্ছেদে দ্রুত বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হবে।
তিনি বলেন, ‘রাজপথে কাউকে বসতে দেওয়া হবে না। তবে যারা শৃঙ্খলা মেনে চলবেন, তাদের জন্য মতিঝিলের মতো নৈশকালীন মার্কেটের আদলে বিকল্প ব্যবস্থাপনার সুযোগ দেওয়া হবে।’
নাগরিক সেবায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের সেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার। সিটি করপোরেশনের যেকোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা বা কর্মচারী দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে কিংবা নাগরিকদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলে তা সরাসরি জানাতে হবে। অভিযোগ পেলে অনতিবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। অর্থ লুটপাট ও বিগত সময়ে বিভিন্ন ধরনের অপব্যবহারের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে উঠে একটি আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব নগর গড়ে তুলতে তিনি সব স্তরের নাগরিকের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের সমস্যা সমাধান এবং তাৎক্ষণিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানান সভায় উপস্থিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এ ধরনের আয়োজনের জন্য তাঁরা ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালামের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সভায় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।












