আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনে শতকরা ২৭ ভাগ ভোট গণনার পর দেখা গেছে, বর্তমান ক্ষমতাসীন সেন্টার-রাইট ন্যাশনাল পার্টি এবং প্রধান বিরোধী দল লেবার উভয়েই প্রদত্ত মোট ভোটের ৩০ শতাংশের কাছাকাছি পপুলার ভোট পেয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি এবং প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দীর প্রতি ভোটারদের মোহভঙ্গের নির্বাচনে ন্যাশনাল পার্টির নেতৃত্বাধীন বর্তমান তিন-দলীয় জোটের হাতে মাত্র ১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতে পারে।
কমিশন আরও যোগ করেছে যে, মধ্যপন্থি ‘অপরচুনিটি পার্টি’ পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশের থ্রেশহোল্ড (সর্বনিম্ন সীমা) পূরণ করবে, যা সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ‘কিংমেকার’ (প্রধান নিয়ামক) ভূমিকা পালন করতে পারে।
শনিবার সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টায় শেষ হয়। নিউজিল্যান্ডের নির্বাচন কমিশন শনিবার ভোটের রাতেই ৯৫ শতাংশ কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বিদেশে অবস্থানরত নিউজিল্যান্ডবাসীদের ডাকভোটসহ চূড়ান্ত ফলাফল আগামী ২৭ নভেম্বরের মধ্যে প্রত্যাশিত।
নির্বাচনের পর কত দিনের মধ্যে সরকার গঠন করতে হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। নিউজিল্যান্ডের ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি অনেক সময় সুপারমার্কেট নির্বাচন হিসেবে অভিহিত হয়েছে, যেখানে নিত্যপণ্যের দাম এবং সুপারমার্কেটের প্রতিযোগিতা রাজনৈতিক দলগুলোর মূল লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।
নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য এবং ন্যাশনাল ও লেবার উভয় সরকারের অধীনে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা পিটার ডান বলেন, এই নির্বাচনটি মূলত জীবনযাত্রার ব্যয়ের নির্বাচন”। ভোটাররা মূলত দেখছেন নিউজিল্যান্ডবাসীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমাতে কোনো মূল জোটটি বেশি যোগ্য।
পিটার ডান আল জাজিরাকে বলেন, ক্ষমতাসীন জোট সেন্টার-লেফট (কেন্দ্র-বামপন্থী) জোটের চেয়ে বেশ এগিয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে। এখন, এটি পরিবর্তন হতে পারে কারণ এগুলো প্রাথমিক ফলাফল, তবে এমনটি ঘটা কিছুটা আশ্চর্যজনক। আমরা যতটা শক্ত লড়াইয়ের আশা করেছিলাম, এই মুহূর্তে তার চেয়ে কম টাইট কনটেস্ট দেখা যাচ্ছে।
ন্যাশনাল পার্টি রাজকোষীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে বাজেটকে উদ্বৃত্তে ফিরিয়ে আনা এবং জাতীয় পেনশন স্কিম সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে লেবার পার্টি সুলভ স্বাস্থ্যসেবা ও যাতায়াত সুবিধার আশ্বাস দিয়েছে।
সাবেক এই মন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, মূল দুটি দলই কার্যত একে অপরের কার্বন কপি, যার ফলে ভোটারদের উদীয়মান একটি পুরো নতুন প্রজন্ম রাজনীতিতে আরও কিছুটা নতুনত্ব ও সাহসী পদক্ষেপ দেখতে চায়।
ডান বলেন, সে কারণেই ফলাফল থেকে দেখা যাচ্ছে সমর্থন অন্য দলগুলোর দিকেও ধাবিত হচ্ছে; যেমন গ্রিন পার্টি, ডানপন্থী লিবারটেরিয়ান, জাতীয়তাবাদী পার্টি এবং নতুন মধ্যপন্থি দল অপরচুনিটি পার্টি যেটি সবার মাঝামাঝি অবস্থান নিতে চায় তাদের প্রতি শক্তিশালী সমর্থন দেখা যাচ্ছে।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, যদিও অপরচুনিটি পার্টি এই মুহূর্তে ৫ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে যা পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বের সর্বনিম্ন সীমা তবুও এটি এই নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠে এসেছে।
নিউজিল্যান্ডে মিক্সড-মেম্বার প্রোপোশনাল (এমএমপি) ব্যবস্থার অধীনে প্রতি তিন বছর পর পর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ভোটাররা সরাসরি দেশের নেতা নির্বাচন করেন না, বরং তারা নিজ নিজ এলাকার একজন প্রার্থী এবং একটি রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন।
ডান আল জাজিরাকে বলেন, যদি ব্লকের উভয় প্রধান দল তুলনামূলকভাবে সমান অবস্থানে শেষ করে, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাবিকাঠি অপরচুনিটি পার্টির হাতে চলে যেতে পারে।
তিনি বলেন, যদি অপরচুনিটি পার্টি পার্লামেন্টে পৌঁছায়, তবে তারা প্রথমে সবচেয়ে বড় দল যা এই মুহূর্তে ন্যাশনাল পার্টি বলে মনে হচ্ছে তার সাথে কথা বলবে। তবে তারা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবেই এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ডান আরও বলেন, সরকার গঠনের জন্য আমাদের কয়েক সপ্তাহের আন্তঃদলীয় আলোচনার মুখোমুখি হতে হতে পারে। জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে পার্লামেন্ট বসতেই হবে, তাই স্পষ্ট কোনো সরকার ছাড়াই আমাদের বড়দিনের ছুটিতে চলে যাওয়ার একটি বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সাধারণত ১২০ আসনের পার্লামেন্টে এলাকাভিত্তিক বিজয়ীরা সরাসরি একটি করে আসন পান, আর জাতীয় পার্টি-ভোটের ওপর ভিত্তি করে দলের শীর্ষ তালিকার সদস্যরা বাকি আসনগুলোতে প্রবেশ করেন। উল্লেখযোগ্য যে, সব ভোট কোনো মেশিনে নয়, বরং হাতে গণনা করা হয়। সূত্র: আল জাজিরা













