ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে রেলপথ ও সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় লোকজন। আজ রোববার সকাল সাতটা থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা লেভেলক্রসিং এলাকায় ঢাকা–সিলেট ও ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথ এবং আখাউড়া–আগরতলা সড়ক অবরোধ করা হয়।
প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর এ বিষয়ে আলোচনার আশ্বাসে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে লোকজন অবরোধ তুলে নেন। তবে সমাধানের জন্য তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন তাঁরা।
অবরোধের কারণে ট্রেন ও যান চলাচল বন্ধ ছিল। দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস সকাল আটটা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে আটকে ছিল। অবরোধ উঠে যাওয়ার পর ১১টা ৫৪ মিনিটে ট্রেনটি কোড্ডা লেভেলক্রসিং এলাকা দিয়ে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পারাবত এক্সপ্রেস সকাল আটটা থেকে স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল। কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস আটকা পড়ে ভৈরব স্টেশনে। এ ছাড়া চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ও উপকূল এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ট্রেনের নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
ছয়টি গ্রাম নিয়ে নবগঠিত বরিশল ইউনিয়ন, সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও বিজয়নগরের একটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘বরিশল’ উপজেলার প্রস্তাব করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া।
আজ সকাল সাতটা থেকে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের লোকজন কোড্ডা লেভেলক্রসিং এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। কর্মসূচিতে নারীরাও যোগ দেন। একপর্যায়ে তাঁরা রেলপথ ও আখাউড়া–আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়ক অবরোধ করেন। সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পথচারীদের হেঁটে যেতে হয়েছে।
অবরোধস্থলে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন ভুইয়া, ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেসার উদ্দিন শের শাহ, জেলা আইন ফোরামের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন পাঠান ও সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য শিপন ভুইয়া।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ছয়টি গ্রাম নিয়ে নবগঠিত বরিশল ইউনিয়ন, সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও বিজয়নগরের একটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘বরিশল’ উপজেলার প্রস্তাব করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। এই পরিকল্পনার ভিত্তিতে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসন বিষয়টি গোপন রেখেছে। এটি তাঁরা কখনো মেনে নেবেন না।
বক্তাদের দাবি, নতুন উপজেলা করার প্রস্তাব বাতিলের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। কোনো আশ্বাস নয়, সিদ্ধান্ত চান তাঁরা।
সমাবেশে মামুন পাঠান বলেন, নতুন উপজেলা করার প্রস্তাব বাতিল না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। একই সঙ্গে বাসুদেবের ছয়টি গ্রামকে আবার বাসুদেবের সঙ্গে যুক্ত করে অখণ্ড বাসুদেব ইউনিয়ন ঘোষণা করতে হবে। তাঁর ভাষ্য, ‘সদর উপজেলা ভাঙার এই ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। একই দাবিতে এর আগেও আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী আশ্বাস পাইনি।’
পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেনের পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে ঘটনাস্থলে যান জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তারেকুল ইসলাম খান ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন। তাঁরা বিক্ষুব্ধ লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস পেয়ে লোকজন অবরোধ তুলে নেন।
সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সকাল থেকে মানুষ কষ্ট করছেন। আন্দোলনকারীদের জানানো হয়েছে, ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আজই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসবে। আশ্বস্ত হয়ে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। জানমালের ক্ষয়ক্ষতি যাতে না হয়, সে জন্য নিরাপত্তায় পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম।
স্থানীয় লোকজন বলেন, চলতি বছরের মে মাসে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল গ্রাম নিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন করে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ৪ জুন এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়। বাসুদেব ইউনিয়নের বাসিন্দারা শুরু থেকেই এর প্রতিবাদ জানিয়ে এলেও কোনো সুরাহা হয়নি। সম্প্রতি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের বিষয়টি প্রকাশ পেলে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বরিশল গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা ফজলুর রহমান ভূঁইয়া বর্তমানে বরিশল ইউনিয়নের প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন।













